স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রয়োজনীয় বিভিন্ন সামগ্রী কেনাকাটা এবং প্রচারণা ও মুদ্রণে ৭২ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের (ইসি)। আগে থেকে মজুত নির্বাচনসামগ্রী ব্যবহারের পাশাপাশি নতুন করে বেশ কিছু সামগ্রী কেনাকাটা এবং নির্বাচনকেন্দ্রিক প্রচারণার জন্য এই অর্থ খরচ হবে।
নানা জটিলতায় স্থানীয় সরকার নির্বাচনের তারিখ এখনও চূড়ান্ত না হলেও আগামী জানুয়ারিতে ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) ভোট দিয়ে এই কার্যক্রম শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এর আগে আগামী ১২ অক্টোবর থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য ভোটের সামগ্রী কেনাকাটা শুরু করতে চায় তারা। যা ধাপে ধাপে আগামী বছরের ১৭ জুন শেষ হবে। তবে উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের ক্ষেত্রে আগামী বছরের ৮ জানুয়ারি থেকে ১৭ জুনের মধ্যে কেনাকাটা সম্পন্ন করার পরিকল্পনা করেছে ইসি। নির্বাচনসামগ্রী কেনাকাটা ও প্রচারণার সব ব্যয় রাজস্ব বাজেট থেকে মেটানো হবে।
ইসি সূত্র বলছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত মাসে সংস্থার ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক ক্রয় পরিকল্পনার খাতভিত্তিক ব্যয় বরাদ্দ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। যা এরই মধ্যে ইসির ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়। ইসির এই বার্ষিক পরিকল্পনায় বিভিন্ন পণ্য ও সেবা কেনাকাটা ছাড়াও ইসির সামগ্রিক কার্যক্রম পরিচালনায় মোট প্রায় ১৩২ কোটি ৬৭ লাখ টাকা ব্যয় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের নির্বাচনসামগ্রী কেনাকাটা এবং প্রচারণা ও মুদ্রণ খাতে। বরাদ্দের বাকি অর্থ ইসির তথ্যপ্রযুক্তি, জনসংযোগ, যানবাহন এবং বিভিন্ন দাপ্তরিক সেবা ও রক্ষণাবেক্ষণে ব্যয়ের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ইসি কর্মকর্তারা জানান, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ও গণভোটের জন্য স্বচ্ছ ব্যালট বাক্স সংগ্রহ, মেরামতসহ ২৭ ধরনের নির্বাচনসামগ্রী কিনেছিল ইসি। ব্যালট বাক্সসহ নির্বাচনসামগ্রীর একটি বড় অংশ মজুত রয়েছে। আগে থেকে মজুত এসব সামগ্রীর পাশাপাশি স্থানীয় সরকার নির্বাচন সামনে রেখে নতুন করে অন্তত ১৫ ধরনের নির্বাচনসামগ্রী কেনাকাটা ও মুদ্রণের প্রয়োজন হবে। এই খাতে ব্যয় হবে ৬২ কোটি ২৪ লাখ ৭০ হাজার টাকা। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানসহ বিভিন্ন উপনির্বাচন ও জাতীয় ভোটার দিবসকেন্দ্রিক প্রচারণার জন্য ব্যানার, পোস্টার ও অন্যান্য সামগ্রী তৈরি খাতে আরও ১০ কোটি আট লাখ টাকা ব্যয় হবে। সব মিলিয়ে সামগ্রী কেনাকাটা ও প্রচারণায় ব্যয় হবে ৭২ কোটি ৩২ লাখ ৭০ হাজার টাকা।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন পরিচালনায় সবচেয়ে বড় ব্যয় ধরা হয়েছে মুদ্রণ খাতে। সরকারি ছাপাখানা থেকে এক লাখ ৭০ হাজার রিম সামগ্রী মুদ্রণে ৩৫ কোটি ৭৭ লাখ ৬০ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির। এ ছাড়া নির্বাচন পরিচালনার জন্য পোলিং অফিসারদের জন্য ১৬ লাখ ৬০ হাজার কপি গাইডলাইন প্রস্তুতে
আট কোটি ৮৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা এবং প্রিসাইডিং অফিসার ও সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারদের জন্য ৯ লাখ ২৯ হাজার ৫০০ কপি ম্যানুয়াল প্রস্তুতে আট কোটি ১৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা ব্যয় হবে।
অন্যদিকে, নির্বাচনসামগ্রী কেনাকাটার মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যয় হবে অমোচনীয় কালি কিনতে। চার লাখ ১০ হাজার বোতল অমোচনীয় কালি কিনতে তিন কোটি ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ছাড়া ১০ হাজার ১০০ কেজি রেড সিলিং ওয়াক্স কিনতে ২০ লাখ ২০ হাজার টাকা, ২১ লাখ ৫০ হাজার সিল কিনতে ৮৬ লাখ টাকা, চার লাখ ১০ হাজার সেলফ-ইঙ্কিং স্ট্যাম্প কিনতে দুই কোটি ৬৬ লাখ ৭০ হাজার টাকা, তিন লাখ ৬০ হাজার অফিসিয়াল সিল কিনতে ৬৮ লাখ ৪০ হাজার টাকা, সাত লাখ ২০ হাজার মার্কিং সিল কিনতে ৫০ লাখ ৪০ হাজার টাকা, ৫১ হাজার ব্রাস সিল কিনতে ১৫ লাখ ৮০ হাজার টাকা, ৭৩ হাজার গানি ব্যাগ কিনতে ৯৫ লাখ ৬০ হাজার টাকা, ১৭ হাজার বড় হেসিয়ান ব্যাগ কিনতে ১২ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং ৫১ হাজার ছোট হেসিয়ান ব্যাগ কিনতে ১৩ লাখ ৮০ হাজার টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনা রয়েছে ইসির।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রচারণার জন্য ৫১ হাজার ২০০টি পরিবেশবান্ধব ব্যানার, ৫১ হাজার ২০০টি ড্রপ-ডাউন ব্যানার এবং এক লাখ ৩০ হাজার লিফলেট প্রস্তুতের পরিকল্পনা করেছে ইসি। এ জন্য চার কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। উপজেলা পরিষদ নির্বাচনের জন্যও সমপরিমাণ ব্যানার ও লিফলেট কেনার লক্ষ্যে ইসি আরও চার কোটি ১৫ লাখ টাকা বরাদ্দ করেছে।
এ ছাড়া পৌরসভা নির্বাচনের জন্য ব্যানার ও লিফলেট বাবদ ৬০ লাখ টাকা, সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য ব্যানার ও লিফলেট বাবদ ৯৮ লাখ টাকা এবং বিভিন্ন উপনির্বাচন ও আগামী বছরের ২ মার্চ ‘জাতীয় ভোটার দিবস’ উপলক্ষে প্রচারণার জন্য ব্যানার, ফেস্টুন ও লিফলেট বাবদ আরও ২০ লাখ টাকা ব্যয়ের পরিকল্পনাও রয়েছে। সব মিলিয়ে এসব খাতে ইসির ব্যয় বরাদ্দ ১০ কোটি আট লাখ টাকা।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, নির্বাচন যখনই হোক, আমাদের প্রস্তুতি রাখতে হয়। ইতোমধ্যে আমরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সব প্রস্তুতি প্রায় শেষ করে ফেলেছি। এর অংশ হিসেবেই প্রয়োজনীয় নির্বাচনসামগ্রী কেনাকাটা ও প্রচারণামূলক কার্যক্রম শিগগির শুরু হবে।
































আপনার মতামত লিখুন :