নাটোরের সিংড়ায় এক কলেজ শিক্ষককে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। এই হত্যাকাণ্ডের জেরে বিক্ষুব্ধ জনতার দেওয়া আগুনে পুড়ে ছাবিহা বেগম (৭০) নামে এক বৃদ্ধার মৃত্যু হয়েছে। বুধবার (২১ জানুয়ারি) দিবাগত রাতে উপজেলার কলম ইউনিয়নের কুমারপাড়া গ্রামে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিহত শিক্ষক মো. রেজাউল করিম (৫৩) বিল হালতি ত্রিমোহনী ডিগ্রি কলেজের ইতিহাস বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এবং সিংড়া উপজেলা জিয়া পরিষদের সদস্য ছিলেন। আগুনে পুড়ে মৃত ছাবিহা বেগম ওই গ্রামের আব্দুল ওয়াহাবের বৃদ্ধা মা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার রাত ১০টার দিকে শিক্ষক রেজাউল করিম বাড়ি থেকে পুকুরের যাওয়ার উদ্দেশ্যে বের হন। পরে বাড়ি না ফেরায় ও মোবাইল ফোনে কল দিয়ে না পেয়ে স্বজনরা তাকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। রাত সাড়ে ১১টার দিকে বাড়ির পাশের রাস্তায় তার গলাকাটা মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। এরপর স্থানীয়দের খবরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
এদিকে রেজাউল করিম হত্যার খবরে এলাকায় চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। রাত পৌনে ১২টার দিকে এই হত্যাকাণ্ডের ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদল বিক্ষুব্ধ জনতা একই গ্রামের আব্দুল ওয়াহাবের বাড়িতে হামলা চালায়। হামলাকারীরা বাড়িতে ভাঙচুর করার পর অগ্নিসংযোগ করে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা স্থানীয়দের সহায়তায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ভস্মীভূত ঘর থেকে বৃদ্ধ ছাবিহা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ঘটনার খবর পেয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সিংড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), এসিল্যান্ড, সহকারী পুলিশ সুপার (সিংড়া সার্কেল) এবং স্থানীয় সেনা ক্যাম্পের ক্যাপ্টেনসহ সেনাসদস্য ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
সিংড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ স ম আব্দুন নুর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, শিক্ষকের মরদেহ উদ্ধার করে থানায় আনা হয়েছে। ময়নাতদন্তের জন্য নাটোর সদর হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হবে। কে বা কারা এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত তা তদন্ত করা হচ্ছে।
এদিকে শিক্ষক রেজাউল করিম হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে আজ বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় সিংড়া বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রতিবাদ সভার ডাক দিয়েছে উপজেলা ও পৌর বিএনপি।








































আপনার মতামত লিখুন :