Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২
প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে হস্তান্তর

শালিখায় নদী থেকে উদ্ধার মুঘল আমলের তরবারি 


দৈনিক পরিবার | স্টাফ রিপোর্টার জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৩:৪৬ পিএম শালিখায় নদী থেকে উদ্ধার মুঘল আমলের তরবারি 

মাগুরার শালিখা উপজেলার চিত্রা নদী খননকালে উদ্ধার হওয়া মুঘল আমলের একটি ঐতিহাসিক তরবারি প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরে সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
বুধবার (২১ জানুয়ারি) খুলনা থেকে আগত প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের ফিল্ড অফিসার মোসা. আইরীন পারভীন, রবীন্দ্র স্মৃতি জাদুঘরের সহকারী কাস্টোডিয়ান শাহিন মিয়া এবং আলোকচিত্র মুদ্রাকর মো. রায়হানের উপস্থিতিতে আনুষ্ঠানিকভাবে তরবারিটি হস্তান্তর করেন শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বনি আমিন।
এর আগে, রোববার শালিখা উপজেলার সীমাখালী এলাকায় চিত্রা নদী খননকালে উঠে আসে এই মূল্যবান ঐতিহাসিক নিদর্শনটি। দীর্ঘদিন নদীর তলদেশে মাটিচাপা পড়ে থাকার কারণে তরবারিটি কাদামাটিতে আচ্ছাদিত অবস্থায় ছিল।
নদী খননকাজে নিয়োজিত ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি মনির সরদার বলেন, এক্সকেভেটরর সঙ্গে তরবারিটি উঠে আসার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. বনি আমিনকে অবহিত করা হয়। পরে ইউএনও নিজে ঘটনাস্থলে গিয়ে তরবারিটি উদ্ধার করেন এবং নিরাপদ হেফাজতে নেন।
শালিখা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বনি আমিন বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে চিত্রা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া তরবারিটি প্রাচীন, সম্ভবত মুঘল আমলের। এর ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় রেখে প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের কাছে এটি হস্তান্তর করা হয়েছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর তরবারিটির প্রকৃত সময়কাল ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব সম্পর্কে বিস্তারিত জানা যাবে।
এলাকার সচেতন মহলের অনেকেই মনে করছেন, চিত্রা নদীসহ শালিখা উপজেলার বিভিন্ন নদী ও জলাশয়ের তলদেশে এখনও বহু অজানা ইতিহাস নীরবে লুকিয়ে থাকতে পারে। তাদের মতে, নিয়মিত নদী খনন ও উন্নয়নকাজের পাশাপাশি প্রত্নতাত্ত্বিক নজরদারি ও বিশেষজ্ঞদের সম্পৃক্ততা নিশ্চিত করা গেলে আরও গুরুত্বপূর্ণ ঐতিহাসিক নিদর্শন উদ্ধারের সম্ভাবনা রয়েছে।
তারা আরও বলেন, চিত্রা নদী থেকে উদ্ধার হওয়া এই তরবারি কেবল একটি প্রাচীন অস্ত্র নয়; এটি শালিখা অঞ্চলের বিস্মৃত ইতিহাস, ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দু ও অতীতের সংগ্রামের এক জীবন্ত দলিল। এই ধরনের আবিষ্কার স্থানীয় ইতিহাসকে নতুনভাবে জানার সুযোগ সৃষ্টি করবে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ঐতিহ্য সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

Side banner