ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে ঘূর্ণিঝড়ের আঘাতের পর ভারী বৃষ্টি, বন্যা ও ভূমিধসে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৩০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া এই দুর্যোগে নিখোঁজ রয়েছেন আরও প্রায় ৩০০ জন। শনিবার দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো এই তথ্য জানিয়েছেন। এর আগে শনিবার সকালের দিকে মৃত্যুর এই সংখ্যা ছিল ১৭৪।
গত এক সপ্তাহ ধরে ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে টানা প্রবল বর্ষণে ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা ও থাইল্যান্ডের বিশাল অঞ্চল বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। এর মাঝেই মালাক্কা প্রণালিতে বিরল এক ক্রান্তীয় ঝড়ও তৈরি হয়েছে।
ইন্দোনেশিয়ার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সাংবাদিকদের বলেছেন, এখনও অন্তত ২৭৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন। এছাড়া ৮০ হাজারের বেশি মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইন্দোনেশিয়ার সর্বপশ্চিমে অবস্থিত সুমাত্রা দ্বীপের তিনটি প্রদেশে শত শত মানুষ এখনও আটকা আছেন।
বন্যা-বৃষ্টি-ভূমিধসে উত্তর সুমাত্রায় ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ওই এলাকায় সড়ক ভেঙে যাওয়ায় যোগাযোগব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সেখানে উড়োজাহাজে করে ত্রাণ ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
সুহারিয়ান্তো বলেন, উত্তর সুমাত্রা প্রদেশের তাপনুলি থেকে সিবোলগা পর্যন্ত সড়কপথে যোগাযোগ পুনরায় শুরু করার চেষ্টা চলছে। গত তিন দিন ধরে ওই এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে।
তিনি বলেন, উদ্ধারকারী কর্মীরা ভূমিধসে বন্ধ হয়ে যাওয়া সড়ক থেকে ধ্বংসাবশেষ সরানোর চেষ্টা করছেন। সড়কে আটকে থাকা অনেক মানুষের খাদ্যসহ জরুরি সহায়তার প্রয়োজন। দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার এই প্রধান বলেন, ত্রাণ কার্যক্রমে সহায়তায় রোববার থেকে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের উপস্থিতি আরও বৃদ্ধি করা হবে।
তিনি বলেন, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত তাপনুলি এলাকায় স্থানীয় কিছু মানুষ ত্রাণসামগ্রী লুটের চেষ্টা করেছিলেন।
মালাক্কা প্রণালির ওপারে থাইল্যান্ডে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬২ জনে পৌঁছেছে। শনিবার সরকারের মুখপাত্র সিরিপং আংকাসাকুলকিয়াত বলেছেন, আগে এই সংখ্যা ছিল ১৪৫।
সূত্র: রয়টার্স।








































আপনার মতামত লিখুন :