রাশিয়ার একটি ড্রোন রোমানিয়ার একটি আবাসিক ভবনে আঘাত হানার ঘটনায় তীব্র উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ন্যাটো। শুক্রবার (২৯ মে) ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে বলেছেন, রাশিয়ার বেপরোয়া আচরণ আমাদের সবার জন্য হুমকি। জোটের প্রতিটি সদস্য দেশের ভূখণ্ড রক্ষায় ন্যাটো প্রস্তুত রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
রয়টার্স জানায়, ইউক্রেনে হামলার সময় রাশিয়ার একটি ড্রোন রোমানিয়ার আকাশসীমায় ঢুকে পড়ে এবং দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় গালাতি শহরের একটি ১০ তলা ভবনে আঘাত হানে। বিস্ফোরণে ভবনের ছাদ ও ওপরের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং আগুন ধরে যায়। এ ঘটনায় এক নারী ও এক শিশু সামান্য আহত হয়েছে। আরও দুজন আতঙ্কজনিত অসুস্থতায় চিকিৎসা নেন এবং ভবনটি থেকে অন্তত ৭০ জনকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
এই ঘটনাকে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর ন্যাটোভুক্ত কোনো দেশের ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় আহত হওয়ার প্রথম ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এতে পূর্ব ইউরোপে উত্তেজনা আরও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকুসর দান বলেছেন, রাশিয়ার এই আচরণ আন্তর্জাতিক আইন ও ন্যাটো সদস্য দেশের নাগরিকদের নিরাপত্তার প্রতি চরম অবজ্ঞা প্রদর্শন করে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওআনা তোইউ জানান, এ ঘটনায় রুশ রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা পরিষদের জরুরি বৈঠক ডাকা হয়েছে।
২০২২ সালে ইউক্রেনে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পর থেকে রোমানিয়া অন্তত ২৮ বার রুশ ড্রোন তাদের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে বলে অভিযোগ করেছে। বিশেষ করে ইউক্রেনের দানিউব নদীসংলগ্ন বন্দরগুলোতে হামলার সময় এসব ঘটনা ঘটেছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এটি দুর্ঘটনা নয়। গালাতিতে বসবাসরত মার্কিন নাগরিক স্টিফেন এভেলিন বলেন, একই ঘটনা অনেকবার ঘটায় এটিকে ভুল বলা যায় না। ন্যাটোর এ বিষয়ে কিছু করা উচিত।
ঘটনার সময় রোমানিয়া দুটি এফ-১৬ যুদ্ধবিমান ও একটি সামরিক হেলিকপ্টার মোতায়েন করে। সীমান্তবর্তী এলাকায় বাসিন্দাদের আশ্রয়ে যেতে সতর্ক করা হয়। সামরিক কর্মকর্তারা জানান, ড্রোনটি খুব নিচু দিয়ে প্রায় ১০ কিলোমিটার উড়ে যাওয়ায় রাডারে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছিল।
রোমানিয়া ইতিমধ্যে ন্যাটোর কাছে অতিরিক্ত অ্যান্টি ড্রোন ব্যবস্থা চেয়েছে। ন্যাটো জানিয়েছে, সম্ভাব্য অতিরিক্ত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা নিয়ে আলোচনা চলছে।








































আপনার মতামত লিখুন :