Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৬ ফাল্গুন ১৪৩২

নওগাঁয় আলুর দামে ধস, ২৫ টাকায় ৫ কেজি


দৈনিক পরিবার | নওগাঁ প্রতিনিধি ফেব্রুয়ারি ২৮, ২০২৬, ১২:২৯ পিএম নওগাঁয় আলুর দামে ধস, ২৫ টাকায় ৫ কেজি

মাঠভরা আলু, কিন্তু কৃষকের মুখে নেই হাসি। দিনের পর দিন শ্রম, ঋণ আর আশা নিয়ে ফলানো আলু এখন বিক্রি হচ্ছে পানির দামে। নওগাঁর বিভিন্ন হাট-বাজারে মাত্র ২৫ টাকায় ৫ কেজি আলু বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন কৃষকরা। উৎপাদন খরচ তো দূরের কথা, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকের মজুরিও উঠছে না। ফলে হতাশা, দুশ্চিন্তা আর অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে জেলার আলুচাষিদের।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নওগাঁ জেলায় ২১ হাজার ৯৭০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৭৪ হাজার ৩৩০ টন। গত মৌসুমে ২৫ হাজার ৯৪০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ৫ লাখ ১৪ হাজার ৩৬০ টন। সে হিসাবে এ বছর আবাদ কমেছে ৩ হাজার ৯৭০ হেক্টর এবং উৎপাদন কমেছে প্রায় ৪০ হাজার ৩০ টন।
কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, উৎপাদন ভালো হলেও বাজারে অতিরিক্ত সরবরাহ ও ক্রেতা সংকটের কারণে দাম তলানিতে নেমে এসেছে। এতে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষকরা।
বদলগাছী উপজেলার বালুভরা এলাকার কৃষক মিজানুর রহমান বলেন, প্রতি বিঘায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আলু তুলতে শ্রমিকপ্রতি ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা দিতে হচ্ছে। এক বিঘা জমিতে ৮-১০ জন শ্রমিক লাগে। এখন যে দামে আলু বিক্রি করছি, তাতে শ্রমিকের টাকাই ওঠে না। এত কষ্ট করে চাষ করে শেষে লোকসান গুনতে হচ্ছে।


মান্দা উপজেলার মৈনম এলাকার কৃষক ইদ্রিস উদ্দিন জানান, ১২ বিঘা জমিতে আলু চাষ করেছেন তিনি। কিন্তু বাজারে দাম না থাকায় বিপাকে পড়েছেন। তিনি বলেন, বিক্রি করলে লোকসান, আবার হিমাগারে রাখলেও ভাড়া ও অন্যান্য খরচ আছে। বুঝতে পারছি না কী করব।
রাণীনগর উপজেলার মিরাট এলাকার অভিজ্ঞ কৃষক বাচ্চু মণ্ডল বলেন, ২০-২২ বছর ধরে আলু চাষ করছি। এমন কম দাম জীবনে দেখিনি। এভাবে চললে আগামী বছর আলু চাষ ছেড়ে অন্য ফসল করতে হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক হুমায়রা মণ্ডল বলেন, গত মৌসুমে লোকসানের কারণে কৃষকদের কম জমিতে আলু চাষের পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে অনেক কৃষক চাষ অব্যাহত রাখেন। এ বছর উৎপাদন ভালো হওয়ায় বাজারে সরবরাহ বেড়েছে, যার ফলে দাম কমেছে।
কৃষকদের দাবি, ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে সরকারি পর্যায়ে আলু ক্রয় কার্যক্রম চালু করা, সহজ শর্তে সংরক্ষণ সুবিধা দেওয়া এবং বাজার ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করা জরুরি। অন্যথায় লোকসানের ভয়ে আগামী মৌসুমে আলু চাষে আগ্রহ কমে যেতে পারে, যা ভবিষ্যতে উৎপাদনে প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Side banner