লালমনিরহাট প্রতিনিধি: সীমান্তে লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র বিশেষ অভিযান ভারতীয় গরু ও ইস্কাফ সিরাপ জব্দ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি)’র এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এমনটি জানিয়েছেন।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় চলমান গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক চোরাচালান ও মাদক বিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ভিন্ন ভিন্ন বিওপির বিশেষ টহলদল ৩টি পৃথক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে ভারতীয় গরু এবং বিপুল পরিমান ইস্কাফ সিরাপ জব্দ করেছে। চোরাচালান প্রতিরোধের মাধ্যমে সীমান্ত নিরাপত্তা ও মাদক বিরোধী অভিযানে বিজিবি’র দৃঢ় অবস্থানের প্রমাণ মিলেছে।
বিশ্বস্ত গোয়েন্দা সূত্রে জানা যায়—চোরাকারবারীরা ভারতীয় গরু বাংলাদেশে পাচারের চেষ্টা করছে। উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৩টা ৪০মিনিটে দুর্গাপুর বিওপি সংশ্লিষ্ট লালমনিরহাট জেলার আদিতামারী থানার চওড়াটারী নামক এলাকায় টহল পরিচালনার সময় ভারতীয় সীমান্ত দিক থেকে গরুসহ কয়েকজন চোরাকারবারী বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এসময় চোরাকারবারীরা গরু ফেলে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৩টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়।
এছাড়াও বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) ভোর আনুমানিক ৫টা ৫০মিনিটে বাগভান্ডার বিওপি সংশ্লিষ্ট কুড়িগ্রাম জেলার ভুরুঙ্গামারী থানার চৌকিদারমোড় নামক এলাকায় টহল পরিচালনার সময় ভারতীয় সীমান্ত দিক থেকে গরুসহ কয়েকজন চোরাকারবারী বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি টহলদল তাদের চ্যালেঞ্জ করে। এ সময় চোরাকারবারীরা গরু ফেলে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থল থেকে ৩টি ভারতীয় গরু জব্দ করা হয়।
অন্যদিকে, বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) রাত ৩টা ৩০মিনিটে বুড়িরহাট বিওপি’র আওতাধীন লালমনিরহাট জেলার কালীগঞ্জ থানার খামারভাতি এলাকায় টহল পরিচালনাকালীন টহলদল চোরাকারবারীদের চ্যালেঞ্জ করলে তারা তাদের সাথে থাকা মালামাল ফেলে ভারতের দিকে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে ঘটনাস্থল থেকে তল্লাশি করে ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ১শত ৭০টি বোতল জব্দ করা হয়।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর অধিনায়কের পক্ষ থেকে জানানো হয়, উদ্ধারকৃত ভারতীয় গরু ৬টি, যার আনুমানিক বাজার মূল্য ৬লক্ষ ৬০হাজার টাকা, মাদকদ্রব্য ভারতীয় ইস্কাফ সিরাপ ১শত ৭০টি বোতল, যার সিজার মূল্য ৬৮হাজার টাকাসহ সর্বমোট সিজার মূল্য ৭লক্ষ ২৮হাজার টাকা।
এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চোরাকারবারীদের পরিচয় শনাক্ত ও তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
লালমনিরহাট ব্যাটালিয়ন (১৫ বিজিবি) এর কমান্ডিং অফিসার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মেহেদী ইমাম পিএসসি বলেন, দেশের যুব সমাজকে মাদক মুক্ত রাখতে বিজিবি সর্বদা সতর্ক ও প্রস্তুত রয়েছে। চোরাচালান ও মাদক পাচার রোধে স্পর্শকাতর সীমান্ত এলাকাগুলোতে গোয়েন্দা নজরদারি ও টহল তৎপরতা আরও বৃদ্ধি করা হয়েছে।
তিনি আরও স্থানীয় জনগণকে চোরাচালান ও মাদক প্রতিরোধে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান এবং গোপন তথ্য প্রদানকারীদের পরিচয় সম্পূর্ণরূপে গোপন রাখার নিশ্চয়তা প্রদান করেন।
এই সফল অভিযানে বিজিবির সাহসিকতা, দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও কৌশলগত দক্ষতা প্রশংসার দাবিদার। মাদক মুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি।








































আপনার মতামত লিখুন :