ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফেরদৌস আরা মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল ৭টায় রাজধানী ঢাকার ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতালে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার এই অকাল মৃত্যুতে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসনসহ পুরো জেলায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রঞ্জন চন্দ্র দে বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) তার প্রচণ্ড মাথাব্যথা শুরু হলে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বুধবার সকালে তিনি ইন্তেকাল করেন।
তিনি জানান, ইউএনওর মৃত্যুর সঠিক কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে ধারণা করা হচ্ছে, তিনি ব্রেইন স্ট্রোক করেছেন।
ফেরদৌস আরা বিসিএস ৩৬তম ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা ছিলেন। বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সহকারী কমিশনার হিসেবে তার প্রথম কর্মস্থল ছিল। ২০২৫ সালের ৯ জানুয়ারি তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় ইউএনও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। এর আগে তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয়ে সিনিয়র সহকারী কমিশনার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ব্যক্তিগত জীবনে ফেরদৌস আরা এক কন্যা সন্তানের জননী এবং তার স্বামী পেশায় একজন শিক্ষক। তার পৈতৃক নিবাস চাঁদপুর জেলায় হলেও তিনি ঢাকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং বড় হন। তার বাবার বাড়ি ঢাকার যাত্রাবাড়ীর শেখদীতে এবং শ্বশুরবাড়ি কুমিল্লা জেলার দাউদকান্দিতে।
বাঞ্ছারামপুরের সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. রবিউল হাসান ভূঁইয়া জানান, গত সোমবার ইউএনও মহোদয় অসুস্থ বোধ করলে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় যান এবং হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ বুধবার সকালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন।
এদিকে ইউএনও ফেরদৌস আরার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শাখা। বুধবার জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) শরিফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই শোক জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, ফেরদৌস আরা একজন কর্তব্যপরায়ণ, দক্ষ ও সদালাপী কর্মকর্তা হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। তার মৃত্যুতে দেশ একজন মেধাবী কর্মকর্তাকে হারালো। বিবৃতিতে মরহুমার বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানানো হয়।








































আপনার মতামত লিখুন :