ছিলেন ঢাকার জেলা প্রশাসক (ডিসি)। তার আগে মানিকগঞ্জে একই পদে ছিলেন । এরপর নিজ এলাকায় পরিচিতি পান ‘ডিসি বারী’ নামে। বলছি জয়পুরহাট-২ (আক্কেলপুর, ক্ষেতলাল ও কালাই) আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য মো. আব্দুল বারীর কথা।
শহীদ জিয়ার আদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়ায় যাকে ২০০৭ সালে ওয়ান-ইলেভেন সরকার বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করে। এরপর তিনি ওএসডি থেকেই অবসরে যান। সেই ডিসি বারীই এখন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী। পরিচিত জনের মুখে মুখে এখন ডিসি বারীই জনপ্রশাসনের ‘বস’।
এবারের নির্বাচনে মো. আব্দুল বারী ধানের শীষ প্রতীকে তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৬৫ হাজার ৫৪৮ ভোটের ব্যবধানে জয়লাভ করেছেন। মরহুম জাফের আলী মন্ডল ও মরহুমা মিছিরুন্নেছা বেগম দম্পতির এই ছেলে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে এম.এ শেষ করেন। পরে ১৯৮২ (বিশেষ) বিসিএস ব্যাচের প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন।
আব্দুল বারী প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক (এনজিও), অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক, সিনিয়র সহকারী সচিব পদে বিভিন্ন স্থানে দায়িত্ব পালন করেন।
২০০১ সালের ২৩ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পরিচালক (প্রশাসন) পদে যোগদান করেন। সেখানে প্রায় এক বছর এক মাস দায়িত্ব পালন করেন। এরপর ২০০৩ সালের জুন মাস থেকে এক বছর এক মাস মানিকগঞ্জের জেলা প্রশাসক (ডিসি) পদে চাকরি করে ২০০৪ সালের জুন মাসে ঢাকা জেলা প্রশাসক হন। সেখানে দুই বছর দুই মাস দায়িত্ব পালন শেষে ২০০৬ সালের আগস্ট থেকে একই বছরের নভেম্বর পর্যন্ত ঢাকা বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন। ২০০৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০০৭ সালের ৩০ মার্চ ন্যাশনাল নিউট্রিশন প্রোগ্রামের নির্বাহী পরিচালকের পদে দায়িত্ব পালন করেন।
এরপর থেকে তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়। ওএসডি থাকা অবস্থায় ২০১৪ সালে পিআরএল এবং ২০১৫ সালে পূর্ণ অবসরে আসেন।
অবসরে আসার পর প্রায় ৫ বছর ৮ মাস তিনি পেনশন পাননি। সেসময় তিনি অতিরিক্ত সচিব ও সচিব পদে পদোন্নতিও পাননি। ছাত্রজীবনে ১৯৭৪ সালে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ হাবিবুর রহমান হল সংসদ নির্বাচনে আব্দুল বারী মুজিববাদী ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে সহ-ক্রীড়া সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে তিনি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৮০ সালে তিনি গ্রাম সরকার প্রধান হিসেবে নির্বাচিত হন। চাকরিজীবনে আব্দুল বারী বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০১০ সালে তার বিরুদ্ধে একটি রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা করা হয়েছিল। দীর্ঘ সময় প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় সেই মামলাটি প্রত্যাহার করা হয় এবং তাকে ভূতাপেক্ষভাবে সচিব পদে পদোন্নতি দেওয়া হয়।








































আপনার মতামত লিখুন :