গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলায় জমি নিয়ে বিরোধের জেরে একাব্বর আলী (৭০) নামে এক বৃদ্ধকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় চার নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু ইকবাল পাশা। নিহত একাব্বর আলী সুন্দরগঞ্জ উপজেলার মধ্য বেলকা গ্রামের ঝাঁকুয়াপাড়া এলাকার বাসিন্দা। তিনি মৃত আকবর আলীর ছেলে। এ ঘটনায় তার ভাই মো. শাহ আলম (৪২) গুরুতর আহত হয়েছেন।
গ্রেফতাররা হলেন মধ্য বেলকা গ্রামের আব্দুল মতিন মেম্বারের স্ত্রী মোছা. মর্জিনা বেগম (৫০), মৃত রুস্তম আলীর স্ত্রী মোছা. স্বপ্না বেগম (৪৮), মৃত আজিজল হকের স্ত্রী মোছা. নুরজাহান (৬৫) এবং মিজানুর রহমানের স্ত্রী মোছা. রেনু বেগম (৩৮)।
পুলিশ ও মামলা সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে ভাগি-শরিকদের সঙ্গে জমির ভাগ-বাটোয়ারা নিয়ে একাব্বর আলীর বিরোধ চলছিল। এরই ধারাবাহিকতায় শুক্রবার দুপুরে প্রতিপক্ষের লোকজন লাঠি, বাঁশ ও কোদাল নিয়ে বিরোধীয় জমিতে প্রবেশ করে জোরপূর্বক চাষাবাদ শুরু করে। একাব্বর আলী এতে বাধা দিলে উভয়পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে বাড়ির সামনে একা পেয়ে প্রতিপক্ষের কয়েকজন মিলে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি লাঠিপেটা করে গুরুতর আহত করে। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ভাই শাহ আলমকেও মারধর করা হয়।
পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের প্রথমে সুন্দরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক একাব্বর আলীর অবস্থা আশঙ্কাজনক দেখে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার্ড করেন। পরে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় শুক্রবার রাতে তার মৃত্যু হয়।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে মো. নুর আলম মিয়া বাদী হয়ে শনিবার সুন্দরগঞ্জ থানায় ১৯ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩-৪ জনের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে চার নারী আসামিকে গ্রেপ্তার করে।
সুন্দরগঞ্জ থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) আবু ইকবাল পাশা জানান, জমির দ্বন্দ্বে বৃদ্ধের মৃত্যুর ঘটনায় হওয়া মামলায় চার নারীকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।








































আপনার মতামত লিখুন :