Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ০৩ মার্চ, ২০২৬, ১৮ ফাল্গুন ১৪৩২

ভালুকায় মেয়াদোত্তীর্ণ চিনি ভাগাড়ে ডাম্পিং, নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা


দৈনিক পরিবার | স্টাফ রিপোর্টার মার্চ ২, ২০২৬, ০৮:৩৩ পিএম ভালুকায় মেয়াদোত্তীর্ণ চিনি ভাগাড়ে ডাম্পিং, নিয়ে যাচ্ছেন স্থানীয়রা

ময়মনসিংহের ভালুকায় ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া মেয়াদোত্তীর্ণ চিনি সংগ্রহের হিড়িক পড়েছে। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ফেলা যাওয়া এই চিনি ফেলে যায় স্থানীয় প্রশাসন। স্বাস্থ্য ঝুঁকি না জেনেই সাধারণ মানুষ এসব চিনি সংগ্রহ করে নিয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে এলাকায় হুলস্থুল শুরু হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৪ সালের মে মাসে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পাচারের সময় প্রায় ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ২০ টন (৪০০ বস্তা) ভারতীয় চিনি জব্দ করা হয়। জনপ্রিয় ব্র্যান্ডের মোড়কে এসব চিনি পাচার করা হচ্ছিল। ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের এআর ফিলিং স্টেশনের পাশ থেকে একটি কাভার্ডভ্যানসহ সে সময় দুইজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে চিনিগুলো জব্দ করে থানায় রাখা হয়। মেয়াদোত্তীর্ণ চিনি ডাম্পিং করার জন্য আদালতের নির্দেশনা থাকায় সোমবার দুপুরে উপজেলার প্রশিকার মোড় এলাকায় ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে ময়লার ভাগাড়ে ডাম্পিং করা হয়। পরে সেখান থেকে আশপাশের কয়েকজন বাসিন্দা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ওই চিনি বাসা ও দোকানে নিয়ে যান। এ সময় আশপাশে পশুপাখিকেও সেই চিনি খেতে দেখা যায়।
ভালুকা মডেল থানা সূত্র জানায়, দীর্ঘদিন সংরক্ষণের পর চিনিগুলো মেয়াদোত্তীর্ণ হয়ে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়ে। পরে প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সেগুলো ডাম্পিংয়ের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
ভালুকা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও পৌর প্রশাসক মো. ইকবাল হোসাইন বলেন, ২০২৪ সালে জব্দ করা ৪০০ বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ চিনি ডাম্পিং করার নির্দেশনা ছিল। পুড়িয়ে ফেলার কোনো ব্যবস্থা না থাকায় পৌরসভার কর্মীদের সহায়তায় প্রশিকার মোড়ের ময়লার ভাগাড়ে ফেলে দেওয়া হয়েছে। আশেপাশের মানুষ সেখান থেকে চিনি নিয়ে যাবে এটা অনুমান করা যায়নি।
প্রশিকার মোড় এলাকার এক চায়ের দোকানি নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, পৌরসভার কর্মীরা বস্তাগুলো এখানে ফেলে চলে গেছে। পরে কয়েকজন গিয়ে বস্তা কেটে চিনি নিয়ে যায়। এভাবে ফেলে যাওয়া ঠিক হয়নি।
আরেক বাসিন্দা বলেন, যদি মেয়াদোত্তীর্ণ হয়, তাহলে খাওয়া তো দূরের কথা, খোলা জায়গায় ফেলা ঠিক হয়নি। এটা পরিবেশের জন্য যেমন ক্ষতিকর, মানুষ নিয়ে খেলেও স্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকি আছে।
স্থানীয়দের দাবি, মেয়াদোত্তীর্ণ ও জব্দকৃত খাদ্যপণ্য ধ্বংসের ক্ষেত্রে আরও নিরাপদ ও নিয়ন্ত্রিত পদ্ধতি অনুসরণ করা উচিত ছিল, যাতে তা পুনরায় জনসাধারণের কাছে পৌঁছাতে না পারে।
স্থানীয় চিকিৎসক ডা. রেজাউল করিম অপু বলেন, দীর্ঘদিন সংরক্ষিত ও মেয়াদোত্তীর্ণ খাদ্যপণ্য মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। বিশেষ করে খোলা পরিবেশে পড়ে থাকা খাদ্যে জীবাণু সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। এমন পণ্য মানুষ বা পশুর খাদ্য হিসেবে ব্যবহার করলে স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

Side banner