Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ১৯ এপ্রিল, ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩

লোহাগড়ায় অধিকার ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন


দৈনিক পরিবার | রাসেদুল ইসলাম  এপ্রিল ১৯, ২০২৬, ০২:৫৬ পিএম লোহাগড়ায় অধিকার ফিরে পেতে সংবাদ সম্মেলন

নড়াইলের লোহাগড়া উপজেলায় স্বামীর মৃত্যুর পর শ্বশুরবাড়ি থেকে বিতাড়িত হয়ে একমাত্র সন্তানকে নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন মোছাঃ ফারহানা আক্তার। ন্যায্য ও আইনগত অধিকার ফিরে পেতে তিনি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট মহলের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) লোহাগড়া প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ফারহানা আক্তার জানান, ২০০৯ সালে লক্ষীপাশা গ্রামের মৃত রুফল মোল্লার ছেলে মোঃ মুকুল মোল্লার সঙ্গে তার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই শাশুড়ি, ভাসুর ও ননদদের পক্ষ থেকে তাকে যৌতুকের জন্য চাপ ও বিভিন্নভাবে শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়।
তিনি আরও বলেন, তাদের দাম্পত্য জীবনে এক পুত্র সন্তান জন্ম নেয়। জীবিকার তাগিদে তার স্বামী বিভিন্ন স্থানে চাকরি করার পর সর্বশেষ পৌর শহরের রামপুর নিরিবিলি পিকনিক স্পটে টিকিট কাউন্টারে কাজ নেন। গত ২৭ আগস্ট ২০২৫ তারিখে কর্মস্থলে একটি ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়, যেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
স্বামীর মৃত্যুর পর সন্তানসহ শ্বশুরবাড়িতে বসবাস করলেও গত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে শাশুড়ি, ভাসুর ও ননদরা তাকে ঘর থেকে বের করে দেয় বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তার ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার ও মূল্যবান সামগ্রী আটকে রাখা হয় বলেও দাবি করেন।
বর্তমানে তিনি একমাত্র সন্তান মোঃ ফারদিন মোল্লাকে নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। সন্তানের পড়াশোনা, বাসাভাড়া ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে তাকে। সহানুভূতির ভিত্তিতে একটি পার্কে স্বল্প বেতনে চাকরি করছেন বলেও জানান তিনি।
ফারহানা আক্তার অভিযোগ করেন, তাকে পার্ক ও আশ্রয়স্থল থেকে বিতাড়িত করার জন্য তার বিরুদ্ধে মিথ্যা অপবাদ ছড়ানো হচ্ছে।
সংবাদ সম্মেলনে তিনি তার স্বামীর বসতভিটায় আইনগত অধিকার অনুযায়ী বসবাসের সুযোগ নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সমাজের সচেতন মহলের সহযোগিতা কামনা করেন।
তিনি বলেন, “আমি আমার সন্তানকে নিয়ে সম্মানের সাথে বাঁচতে চাই। আমার স্বামী ও সন্তানের ন্যায্য অধিকার ফিরে পেতে আপনাদের সহযোগিতা চাই।”
এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি।

Side banner