ঈদুল আজহা শেষ হয়েছে আজকে ৬ দিন। এখনও ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে বসানো কোরবানির হাটের বাঁশ ও বর্জ্য অপসারণ করা হয়নি। মাঠজুড়ে রয়েছে শত শত গর্ত। ফলে খেলাধুলা করতে পারছে না শিক্ষার্থীরা। এতে করে স্কুলের প্রধান শিক্ষক ও পশুরহাটের ইজারাদার আব্দুল ওহাবের প্রতি ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী।
শিক্ষার্থীরা বলেন, বিদ্যালয় মাঠে কোরবানির পশুর হাট বসানো হয়েছিলো। ঈদ শেষেও মাঠ থেকে হাটের প্যান্ডেলের বাঁশ ও পশুর বর্জ্য সরানো হয়নি। তাছাড়া মাঠ জুড়েই রয়েছে পশুর হাটের সময় করা ছোট-বড় অসংখ্য গর্ত। এতে বিদ্যালয় মাঠ ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। এছাড়া পশুর বর্জে ্যর দুর্গন্ধে বিদ্যালয়ের শ্রেণি কক্ষে টিকে থাকা অসম্ভব। অথচ রবিবার (৭ জুন) থেকে ক্লাস শুরু হবে।

সরকারি নিয়মনীতি বিধি-নিষেধ উপেক্ষা করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন আইয়ুবপুর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠটি ইজারা দেন একই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আব্দুল ওহাবকে। দুইদিনের অনুমতি থাকলেও সপ্তাহখানেক সময় গরু-ছাগল কেনাবেচা হয়েছে। এনিয়ে সাধারণ জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিলেও বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন সেদিকে ভ্রুক্ষেপ করেনি।
আইয়ুবপুর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব ওরফে পশুরহাটের ইজারাদার ওহাবের নামে ইতোপূর্বেও এতিম শিক্ষার্থীদের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় পত্রিকায় লেখালিখি হওয়ার পর এলাকাবাসীর তোপের মুখে পড়েন তিনি। পরে বেশ কয়েকজন শিক্ষার্থীকে বাড়ি থেকে ডেকে এনে সামান্য কিছু টাকা ধরিয়ে দেন।

কুমিল্লা জেলার হোমনা উপজেলার চান্দেরচর ইউনিয়নের শোভারামপুর গ্রামের শহিদুল ইসলামের ছেলে মোহাম্মদ আব্দুল ওহাব। তিনি দীর্ঘদিন যাবত আইয়ুবপুর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শিক্ষকতার মতো মহান পেশায় থেকে হাটবাজারের ইজারাদার হওয়ায় পুরো এলাকায় আলোচনা সমালোচনার ঝড় বইয়ে গেছে। তাছাড়া এতিমের টাকা মেরে দেয়ার ঘটনায়ও বেশ সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অনেকে তার চরিত্র নিয়েও নানা অভিযোগ করেন। শাসনের নামে তিনি নবম ও দশম শ্রেণীর ছাত্রীদের গায়ে হাত দেন! ইব্রাহিম নামের সাবেক এসএসসি পরীক্ষার্থীকে গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে ইচ্ছেমত বেত্রাঘাত করে প্রায় মেরেই ফেলেছিলেন। তার খামখেয়ালিপনা, স্বেচ্ছাচারিতা ও গাফিলতির কারণে দিনে দিনে এই শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষার্থীরা বাঞ্ছারামপুর এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়, বাঞ্ছারামপুর বালিকা বিদ্যালয়সহ অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে চলে যাচ্ছে। স্কুলের ফলাফলও সন্তোষজনক নয়। অথচ তিনি নিজেই টিফিন টাইমসহ অন্যান্য সময়ে শিক্ষার্থীদের প্রাইভেট পড়ান। তারা কাছে প্রাইভেট না পড়লে শিক্ষার্থীদের নানা কটু কথা বলেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার্থীদের রেজিস্ট্রেশন বাবদ সরকার নির্ধারিত ফি এর অতিরিক্ত ফি গ্রহণ করলেও কোন রশিদ দেননি। এসএসসি ফরম ফিলাপের দুর্নীতি ও আর্থিক লেনদেনে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে আব্দুল ওহাবের নামে। স্কুলের বিল ভাউচারে রয়েছে নানা অসঙ্গতি। তিনি প্রধান শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে অদ্যাবধি সমস্ত আয়-ব্যয়ের সঠিক তদন্ত করলে থলের বিড়াল বেরিয়ে আসবে।
উপবৃত্তি আবেদনের জন্য ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তিনশত টাকা কম্পিউটার অপারেটরের মাধ্যমে গ্রহণ করেন। অথচ শিক্ষার্থীদের রশিদ দেননি। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বিভিন্নখাত থেকে নানাবিধ অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভায় তিনি একাধিক বাড়ি করেছেন, জায়গা-জমিও কিনেছেন। অথচ স্কুলের পড়াশুনার মান উন্নতিকরণে তার কোন নজর নেই। স্কুলকে পুঁজি করে অনৈতিকপন্থা অবলম্বন করে কিভাবে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেয়া যায় সেই চিন্তায় বিভোর থাকেন প্রধান শিক্ষক আব্দুল ওহাব ওরফে পশুরহাটের ইজারাদার ওহাব।
বিগত সময়ে বাঞ্ছারামপুর উপজেলার তৎকালিন মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গোলাম ফারুককে ম্যানেজ করেই বছরের পর বছর অনিয়ম-দুর্নীতি করেও পার পেয়ে যান তিনি। এলাকার সচেতনমহল সরকারের উধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করে।








































আপনার মতামত লিখুন :