ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সভাপতি সেলিম রেজার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, সংগঠনবিরোধী কার্যকলাপ এবং একক সিদ্ধান্ত গ্রহণসহ নানা অভিযোগে সমিতির ৩৭ জন সদস্য অনাস্থা প্রকাশ করেছেন। একই সঙ্গে সমিতির সিনিয়র সহ-সভাপতি মোহাম্মদ আলীকে আগামী ৬ মাসের জন্য ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

জানা গেছে, গত রবিবার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির কেন্দ্রীয় সভাপতি মো. আনোয়ারুল ইসলাম তোতা, নির্বাহী সভাপতি মো. জুলফিকার আলী ও কেন্দ্রীয় প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁঞা স্বাক্ষরিত এক অনুমোদনপত্রে মোহাম্মদ আলীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনের অনুমতি দেওয়া। ওই চিঠিতে আগামী ছয় মাস সমিতির কার্যক্রম পরিচালনার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষক সমিতির সিনিয়র সহ সভাপতি মোহাম্মদ আলীকে।
বাঞ্ছারামপুর প্রাথমিক শিক্ষক সমিতি গত ৭ জুলাই এক জরুরী সভা ডাকেন এই সভায় উপস্থিত ৩৭ জন সদস্য সেলিম রেজার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব দেন। তাদের অভিযোগ, দীর্ঘ এক বছর ধরে কোনো সাধারণ সভা বা কার্যনির্বাহী কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়নি। সমিতির আয়-ব্যয়ের হিসাব সদস্যদের কাছে উপস্থাপন করা হয়নি। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সদস্যদের মতামত উপেক্ষা করে এককভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।
সদস্যদের অভিযোগ, সভাপতি সেলিম রেজার স্বৈরাচারী মনোভাব ও অস্বচ্ছ কর্মকাণ্ডের কারণে শিক্ষক সমিতির ভাবমূর্তি মারাত্মকভাবে ক্ষুণ্ন হয়েছে। এ অবস্থায় সংগঠনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে তার প্রতি অনাস্থা জানিয়ে নতুন ভারপ্রাপ্ত সভাপতির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এদিকে, সেলিম রেজার বিরুদ্ধে জাল অভিজ্ঞতা সনদ ব্যবহার করে শিক্ষক হিসেবে চাকরি গ্রহণের অভিযোগও রয়েছে বলে দাবি করেছেন কয়েকজন সদস্য। এ বিষয়ে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে একাধিক লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলেও তারা জানান।
এছাড়া অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, অতীতে তিনি ছাত্রলীগের সক্রিয় রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। পরবর্তী সময়ে রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে নিজেকে বিএনপির কর্মী হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে।




































আপনার মতামত লিখুন :