Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ৫ মাঘ ১৪৩২

ফ্লাশের সময় কমোডের ঢাকনা তুলে রাখা উচিত নাকি নামিয়ে


দৈনিক পরিবার | জীবনযাপন ডেস্ক জানুয়ারি ১৮, ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম ফ্লাশের সময় কমোডের ঢাকনা তুলে রাখা উচিত নাকি নামিয়ে

টয়লেট ব্যবহারের পর কমোডের ঢাকনা নামিয়ে রাখা নাকি তুলে রাখা উচিত-এই নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিতর্ক রয়েছে।
অনেকেই মনে করেন, ফ্লাশ করার আগে ঢাকনা নামিয়ে রাখলে বুঝি স্বাস্থ্যবিধি পুরোপুরি বজায় থাকে। তবে ‘আমেরিকান জার্নাল অব ইনফেকশন কন্ট্রোল’-এর সাম্প্রতিক গবেষণায় উঠে এসেছে এক জটিল চিত্র।
বিজ্ঞান বলছে, ফ্লাশ করার সময় কমোডের ঢাকনা নামিয়ে রাখলেও বাথরুমের বিভিন্ন পৃষ্ঠে বায়ুবাহিত ভাইরাস বা ব্যাকটেরিয়ার বিস্তার তেমন উল্লেখযোগ্য হারে কমে না।
গবেষকদের মতে, টয়লেট ফ্লাশ করার সময় পানির প্রচণ্ড চাপে ভেতরে যে আলোড়ন সৃষ্টি হয়, তার ফলে নোংরা পানির ক্ষুদ্র কণা হাওয়ায় ভেসে যায়। বিজ্ঞানের ভাষায় এই প্রক্রিয়াকে বলা হয় ‘ফ্লাশিং প্লুম’। ঢাকনা খোলা রেখে ফ্লাশ করলে এসব কণা টয়লেট থেকে প্রায় ছয় ফুট পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়তে পারে, যা বাথরুমের সিংক, তাক এমনকি টুথব্রাশের ওপরেও জমা হয়।
অনেকেই এই জীবাণু আটকাতে ঢাকনা নামিয়ে দেন, কিন্তু গবেষণায় দেখা গেছে যে অত্যন্ত ক্ষুদ্র কণাগুলো ঢাকনার ফাঁকফোকর দিয়ে ঠিকই বেরিয়ে আসে। বিশেষ করে ছোট বাথরুমে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
তবে পুরোপুরি কার্যকর না হলেও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা সুরক্ষার সামগ্রিক সুবিধার জন্য ঢাকনা নামিয়ে রাখাকেই উত্তম বলছেন। ঢাকনা নামানো থাকলে অন্তত দৃশ্যমান বড় পানির ফোঁটাগুলো বাইরে ছিটকে আসে না এবং বাথরুমের দুর্গন্ধ ছড়ানোও কিছুটা কমে। এছাড়া বাড়িতে পোষা প্রাণী থাকলে ঢাকনা নামিয়ে রাখা অত্যন্ত জরুরি, কারণ পোষা প্রাণী কমোডের পানির সংস্পর্শে এলে মালিকের পেটের সংক্রমণ বা চোখের ব্যাকটেরিয়াজনিত রোগ ছড়ানোর আশঙ্কা থাকে।
স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু ঢাকনা নামিয়ে রাখলেই নিশ্চিন্ত হওয়ার উপায় নেই। সংক্রমণের ঝুঁকি কমাতে টয়লেট সিট, ফ্লাশ বাটন, দরজার হাতল ও ট্যাপ নিয়মিত পরিষ্কার রাখা প্রয়োজন। এছাড়া বাথরুমে বাতাস চলাচলের উপযুক্ত ব্যবস্থা রাখা এবং টুথব্রাশের মতো ব্যক্তিগত জিনিসপত্র কোনো বন্ধ ক্যাবিনেটে রাখা অত্যন্ত কার্যকর। 
টয়লেট ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে ভালোভাবে হাত ধোয়াই হলো জীবাণু সংক্রমণ রোধের সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার। তাই ঢাকনা তোলা বা নামানোর তর্কের চেয়ে বাথরুমের সার্বিক পরিচ্ছন্নতা ও নিয়মিত হাত ধোয়ার অভ্যাস বজায় রাখাই সুস্বাস্থ্যের আসল চাবিকাঠি। 
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট

Side banner