Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩ আশ্বিন ১৪৩৩

পাবনায় শিশু কলি হত্যা-ধর্ষণ ঘটনায় ২ আসামি গ্রেপ্তার


দৈনিক পরিবার | স্টাফ রিপোর্টার সেপ্টেম্বর ১৮, ২০২৬, ০১:৫৪ পিএম পাবনায় শিশু কলি হত্যা-ধর্ষণ ঘটনায় ২ আসামি গ্রেপ্তার

পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলনিয়া গ্রামের শিশু মোছা. কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজ হওয়ার পরে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় অভিযুক্ত দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পাবনা জেলা ডিবি পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা পুলিশ সুপার জনাব আবু আশ্রাফ নিজ কার্যালয়ে ঘটনার তদন্ত কর্মকর্তাদের সঙ্গে নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মীদের এক প্রেস ব্রিফিং এর মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 
এর আগে গত ০৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পাবনা সদর থানাধীন দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের কামরুন্নাহার কলি নিখোঁজ হয়।
কলি গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে। নিখোঁজ হওয়ার মামলা দায়ের করার পরে ১৬ সেপ্টেম্বর (বুধবার) সকালে স্থানীয়দের খবরের ভিত্তিতে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় শিশু কলির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
উদ্ধারকৃত মরদেহের বস্তার ভেতর থেকে লাশ ডুবিয়ে রাখার উদ্দেশ্যে বাঁধা ইটসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ আলামত জব্দ করা হয়। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রধান দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
আসামিরা হলেন- পাবনা সদর থানার দোগাছী কুলনিয়া গ্রামের মৃত আব্দুল মতিন প্রামাণিকের ছেলে মো. মোস্তফা কামাল (৪০) ও একই গ্রামের মৃত মোহব্বত আলীর ছেলে মো. ইয়াছিন আলী (২১)।
জানা যায়-ঘটনার দিন আসামি মোস্তফা ও ইয়াসিন ফুঁসলিয়ে শিশু কলিকে অভিযুক্ত মোস্তফার মুদি দোকানের পেছনে শোবার ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন। শিশু কলি প্রতিবেশী হওয়ায় আসামিরা তাকে সরাসরি মেরে ফেলার সিদ্ধান্ত নেন। আসামিরা কলিকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন। এরপরে লাশ গুম করার উদ্দেশ্যে মোস্তফার দোকানে থাকা হলুদ রংয়ের প্লাস্টিকের বস্তার ভেতর মরদেহ ঢুকিয়ে লাশটি মোস্তফার ঘরের খাটের নিচে একদিন লুকিয়ে রাখেন। পরের দিন রাতে লাশের বস্তাটি একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তায় ২টি ইটসহ  মোস্তফার টিনসেড বাড়ির পাশে পরিত্যক্ত ডোবায় লতাপাতার নিচে ডুবিয়ে রাখেন। পরবর্তীতে এলাকাবাসী মানববন্ধনসহ প্রত্যেকের বাড়ি তল্লাশি করার ঘোষণা দেন। ঘোষণার পরে মঙ্গলবার ভোর রাতের দিকে আসামিরা বস্তাবন্দি মরদেহটি অন্যত্র সরানোর চেষ্টা করেন। পানির নিচ থেকে টেনে তুলে পাশে থাকা সেপটিক ট্যাংকের পাশে নিয়ে যান। তখন লাশের অতিরিক্ত দুর্গন্ধ ও কুকুরের ডাকে আসামিরা ভয় পেয়ে লাশের বস্তা সেপটিক ট্যাংকের পাশে রেখে পালিয়ে যায়। আসামিদের আরও নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ রিমান্ডের আবেদন করবে বলে জানিয়েছে। 
গ্রেপ্তার মোস্তফার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পর্যালোচনা করে জানা যায়-ঘটনার দিন সকালে ভিকটিম কামরুন্নাহার কলি তার ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে অভিযুক্ত আসামি মোস্তফার মুদি দোকানে জিনিস কিনতে আসে। ওই সময় আসামি মোস্তফা তার যৌনকামনা চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে লুকিয়ে নিজের মোবাইল ফোনে শিশু কলির একাধিক ছবি ধারণ করেন। পরে ছবিগুলো ডিলিট করে দেন। ডিলিটকৃত ছবিগুলো সফলভাবে রিকভার করেছে পুলিশ। এই ডিজিটাল আলামতটি মামলায় আসামির অপরাধের সুনির্দিষ্ট মনস্তাত্ত্বিক প্রস্তুতি ও পূর্বপরিকল্পনার প্রমাণ করে।
ঘটনাটির সার্বিক গুরুত্ব বিবেচনায় বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) মামলাটির সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের স্বার্থে পাবনা জেলার গোয়েন্দা শাখা ডিবি ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে। জেলা ডিবি পুলিশ পাবনা দ্রুততম সময়ে আসামিদের বিরুদ্ধে বস্তুনিষ্ঠ অভিযোগপত্র আদালতের কাছে দাখিল করবে বলে নিশ্চিত করেছে।

Side banner