স্পেনের কাছে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালে হেরে স্বপ্নভঙ্গ হয়েছে আর্জেন্টিনার। প্রিয় দল আর্জেন্টিনার ১-০ গোলে হারের সঙ্গে আপাতত শেষ হয়ে গেল আলোচিত চিত্রনায়িকা পরীমনির ‘বিয়ের পরিকল্পনাও’। ফাইনাল শেষে আর্জেন্টিনার পরাজয়ের প্রতিক্রিয়ায় পরীমনি মজাচ্ছলে বলেন, ‘বিয়েটা আর করতে হলো না, এই আরকি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, আবার দেখা হবে।’
পরীমনির এমন মন্তব্যেও সাড়া পড়েছে। তাঁর এই ফেসবুক পোস্টে ৫২ হাজারের বেশি রিঅ্যাকশন এসেছে, মন্তব্যের ঘর বন্ধ থাকায় শেয়ার হয়েছে পোস্টটি।
কথা প্রসঙ্গে পরীমনি বলেন, ‘ফাইনাল খেলার মধ্য দিয়ে যেন বিয়ের আগেই সব হিসাব-নিকাশ বদলে গেল। আর্জেন্টিনার জন্য মনটা খুব খারাপ। কারণ, এই দলের সঙ্গে ইমোশন ও ভালোবাসা দুটোই জড়িয়ে আছে। তবে আমি মনে করি, হার মানেই শেষ নয়, নতুনভাবে শুরু করাও। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, তোমাদের জন্য অপেক্ষা থাকবে পরের বিশ্বকাপ পর্যন্ত। নিশ্চয়ই তোমরা আরও দারুণভাবে ফিরে আসবে। আর মেসি তো একটা মায়া, তার জন্য মন থেকে ভালোবাসা।’

এদিকে বিশ্বকাপের পুরো সময়টায় আর্জেন্টিনার সমর্থনে সরব ছিলেন পরীমনি। দলের প্রতিটি জয় উদ্যাপন করেছেন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। কখনো আকাশি-সাদা জার্সি পরে ভিডিও বানিয়েছেন, কখনো আবার ফুটবল জাদুকর লিওনেল মেসির প্রতি ভালো লাগার কথা জানিয়েছেন বিভিন্ন পোস্টে।
চিত্রনায়িকা পরীমনির বিয়ের ঘোষণা নিয়ে ফেসবুক পোস্ট আলোচনায় আসে গত বুধবার দিবাগত রাতে। আর্জেন্টিনা-ইংল্যান্ড সেমিফাইনালের আগে তিনি লিখেছিলেন, ‘আর্জেন্টিনা কাপ জিতলে আমি আবার একটা বিয়া করব। ফাইনাল।’ মজার ছলে দেওয়া সেই পোস্ট মুহূর্তেই ভাইরাল হয়ে যায়। কয়েক লাখ প্রতিক্রিয়া ও হাজার হাজার শেয়ারে সামাজিক যোগযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা।
ফাইনালের আগে সেই পোস্ট নিয়ে খানিকটা অস্বস্তিতেও পড়েছিলেন পরীমনি। রবিবার দুপুরে হাসতে হাসতেই তিনি বলেন, ‘আমি তো এর আগে ঘোষণা দিয়ে বিয়ে করিনি। প্রেম করেছি, এরপর হুট করে বিয়ে করে ফেলছি। এবার বিয়ের ঘোষণা দিয়ে তো মুসিবতে পড়ে গেলাম। ভাবিনি, এভাবে সবাই বিষয়টিকে সিরিয়াসলি নিয়ে নেবে। এত এত সিরিয়াস সব বিয়ের প্রস্তাব আসতেছে, কিছুই বুঝতেছি না, কী করব।’
শুধু তাই নয়, বিয়ের পথে আরেকটি বড় বাধার কথাও তুলে ধরেন পরীমনি। তিনি বলেন, ‘বিয়ের জন্য তো একজন অভিভাবক লাগে। আগে আমার অভিভাবক ছিল, এখন তো ওই পর্যায়ের কেউই নেই। ভাবছি, ছেলে বড় হোক, ছেলে বিয়েশাদি করুক। এরপর কিংবা তার আগে ছেলে যদি অভিভাবক হয়ে বিয়ে দেয়, তাহলেই বিয়ে করতে পারব।’
তবে শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনার ট্রফি জয়ের স্বপ্ন যেমন পূরণ হয়নি, তেমনি আপাতত সত্য হচ্ছে না পরীমনির সেই বহুল আলোচিত বিয়ের ঘোষণাও। তাই ফাইনাল শেষে অভিনেত্রীর সংক্ষিপ্ত প্রতিক্রিয়াতেই যেন ধরা পড়েছে আর্জেন্টিনা-ভক্তের আক্ষেপ ‘বিয়েটা আর করতে হলো না, এই আরকি। ভালোবাসার আর্জেন্টিনা, আবার দেখা হবে।’



























আপনার মতামত লিখুন :