দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। গত ২৪ ঘণ্টায় (বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) এই ভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে দেশে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১০৭টি শিশু।
শুক্রবার (৩ জুলাই) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের হামবিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
অধিদফতরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ৫ শিশুর প্রত্যেকেই হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন ছিল। তবে এই সময়ে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, সাড়ে তিন মাস ধরে দেশে হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। গত ১৫ মার্চ থেকে শুরু করে আজ ৩ জুলাই পর্যন্ত সারা দেশে হাম ও এর উপসর্গ নিয়ে মোট ৭২৯টি শিশুর প্রাণহানি ঘটল। এর মধ্যে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৩ জন। আর বাকি ৬৩৬টি শিশু মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে।
অধিদফতরের পরিসংখ্যান বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১৩৯টি শিশুর শরীরে হামের উপস্থিতি নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর বাইরে হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে আরও ৯৬৮ জন।
গত সাড়ে তিন মাসের সামগ্রিক চিত্র আরও ভয়াবহ। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত সারা দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৩ হাজার ৯৬১ জনে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি টেস্টের মাধ্যমে ১২ হাজার ৪২৫ জনের শরীরে হামের সংক্রমণ নিশ্চিত হওয়া গেছে। এই সময়ে আক্রান্ত ও উপসর্গ আক্রান্ত মিলিয়ে মোট ৮৭ হাজার ২৬২টি শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছে। তবে আশার কথা হলো, তাদের মধ্যে ৮৩ হাজার ৫৪৩ জন শিশু চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের হামের টিকা সময়মতো নিশ্চিত করা না গেলে পরিস্থিতি আরও নাজুক হতে পারে। বিশেষ করে পুষ্টিহীনতায় ভোগা শিশুদের ক্ষেত্রে এই ভাইরাসের জটিলতা অনেক বেশি দেখা দিচ্ছে। উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা।






































আপনার মতামত লিখুন :