Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩

আগৈলঝাড়ায় সেতুতে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি


দৈনিক পরিবার | নিজস্ব প্রতিবেদক এপ্রিল ১৫, ২০২৬, ১০:১৯ পিএম আগৈলঝাড়ায় সেতুতে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি

বরিশালের আগৈলঝাড়ায় একটি লোহার সেতু নির্মাণে রডের পরিবর্তে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করা হয়েছে। অন্যান্য উপকরণও নিম্নমানের ছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে বুধবার বিকেল ৫টায় এ প্রতিবেদন লেখার সময় পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ চোখে পড়েনি।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার রত্নপুর ইউনিয়নের দুশমী-করিম বাজার খালের ওপর বারপাইকা গ্রামের রুহুল আমিনের বাড়ির সামনে ইউনিয়ন পরিষদের অর্থায়নে একটি নির্মাণ করা হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার এর কাজ শেষ করা হয়েছে। সেতুটির দৈর্ঘ্য ৪৫ ফুট ও প্রস্থ সাড়ে পাঁচ ফুট বলে দাবি করা হলেও স্থানীয়দের অভিযোগ, এর দৈর্ঘ্য ৫৫ ফুট হওয়ার কথা। তবে ঢালাই দেওয়া হয়েছে মাত্র ৪৫ ফুটে।
নির্মাণকাজে অনিয়মের অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা জানায়, সরকারি নিয়ম অনুযায়ী সেতুর ঢালাই ছয় ইঞ্চি পুরু হওয়ার কথা থাকলেও দেওয়া হয়েছে সাড়ে তিন ইঞ্চি। একইভাবে দৈর্ঘ্যে প্রতি আট ইঞ্চি ও প্রস্থে ছয় ইঞ্চি পরপর রড বসানোর নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি। বরং অনেক ক্ষেত্রে এক ফুট (১৮ ইঞ্চি) পরপর রড ব্যবহার করা হয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, ঢালাইয়ের সময় পর্যাপ্ত সিমেন্ট না থাকায় স্থানীয়দের কাছ থেকে পাঁচ ব্যাগ সিমেন্ট কিনে এনে কাজ সম্পন্ন করা হয়। এমনকি সেতুর উত্তর পাশে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহার করে ঢালাই দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ এলাকাবাসীর।
স্থানীয় বাসিন্দা মো. হিমু মোল্লা ও ইদ্রিস মোল্লা বলেন, বিষয়টি তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখেছেন। এমনকি কাজের সময় সেতুতে রডের বদলে বাঁশের কঞ্চি ব্যবহারের ভিডিও পহেলা বৈশাখ রাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাই সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ মনে হচ্ছে। যেকোনো সময় ভেঙে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা তাদের।
স্থানীয়রা আরো অভিযোগ করেন, সেতু নির্মাণের কথা বলে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা বিভিন্ন সময়ে সুফলভোগীদের কাছ থেকে প্রায় ৮৫ হাজার টাকা সংগ্রহ করেছেন। টাকা সংগ্রহের সময় তিনি জনেজনে বলেছেন, সেতুটি নির্মাণের জন্য কম অর্থ বরাদ্দ হয়েছে। তাই অতিরিক্ত খরচ স্থানীয়দের বহন করতে হবে। স্থানীয়রা উপায় না পেয়ে প্রত্যেকে সামর্থ্য অনুযায়ী অর্থ দিয়েছে। 
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা বলেন, ‘বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে ব্রিজের বাইরে। ওই অংশ আমি করিনি। যারা টাকা দেয়নি, তারাই বাঁশ দিয়ে ব্রিজের সম্মুখভাগ তৈরি করেছেন। এমনকি আমাকে বিব্রত করতেই তারা বাঁশের ভিডিও  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন।’
রত্নপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সরদার জানান, ওই স্থানে সেতু নির্মাণের জন্য প্রথম পর্যায়ে দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। সেই কাজ শেষ হওয়ার পর সম্প্রতি ঢালাইয়ের জন্য আরো এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ইউপি সদস্য সোহেল মোল্লা কাজটি তদারকি করছেন। অনিয়ম পেলে প্রয়োজনী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 
উপজেলা প্রকৌশলী রবীন্দ্র চক্রবর্তী বলেন, ‘সেতুর ঢালাইয়ের বিষয়ে আমাদের কিছু জানানো হয়নি। এলজিইডিকে না জানিয়ে এ ধরনের কাজ করা নিয়মবহির্ভূত।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লিখন বণিক বলেন, ‘বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেখেছি। সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Side banner