ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর ফরদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব পাপিয়া আক্তারের বিরুদ্ধে ইউনিয়ন পরিষদের হোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা এলাকাবাসী থেকে উত্তোলন করে এই টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন ও নানা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে ক্ষোভ বিরাজ করছে। এই ঘটনা সরেজমিন তদন্ত করে ইউপি সচিবের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে জেলা প্রশাসক ব্রাহ্মণবাড়িয়া বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন এলাকাবাসী।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফরদাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সচিব হিসেবে পাপিয়া আক্তার ২০১৮ সাল থেকে ছয় বছর যাবৎ কর্মকর্তা রয়েছেন। এর আগেও তিনি এখানে কয়েক বছর চাকরি করেছেন। অভিযুক্ত সচিব গত ২০২৫ সালের এপ্রিল- মে মাসে এই ইউনিয়নের ১, ২, ৩ ও ৪ নং ওয়ার্ডের হোল্ডিং ট্যাক্স প্রদানকারীদের কাছ থেকে গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে ফোল্ডিং ট্যাক্সের টাকা আদায় করেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, আদায়কৃত অর্থ সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে নিজে আত্মসাৎ করেছেন।
এছাড়া জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদসহ বিভিন্ন সেবা প্রদানেও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে পাপিয়ার বিরুদ্ধে। তার স্বামী আবুল কালাম আজাদ সদর ইউনিয়নের উদ্যোক্তা হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনিও ৫ আগস্টের পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন।
পাপিয়া আক্তারের স্বামী বাঞ্ছারামপুর সদর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। সদর ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে তিনি নৌকার মনোনয়ন চেয়েছেন কয়েকবার। সচিব পাপিয়া আক্তার গত পহেলা মার্চ নবীনগর উপজেলার শ্যামগ্রাম ইউনিয়নে বদলি হন, কিন্তু এতদিন পেরিয়ে গেলেও তিনি বদলি কৃত কর্মস্থলে যোগদান করেননি। তিনি বর্তমান কর্মস্থলে থাকার জন্য নানা ভাবে তদবির করছেন।
পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দুস্থদের মাঝে ১০ কেজি করে ভিজিএফের চাল বিতরণ করা হয়। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, যেখানে দেখা গেছে পাপিয়া গ্রাম পুলিশ দিয়ে একটা বস্তায় করে চাল নিয়ে যাচ্ছে। বিভিন্ন প্রকল্পে অফিস খরচের নামে তিনি বিভিন্ন প্রকল্প সভাপতির কাছে থেকে ১০ থেকে ১৫%, অনেক ক্ষেত্রে ৩০% টাকা আদায় করছেন। কয়েকজন ইউপি সদস্যের সাথে সিন্ডিকেট করে নাম মাত্র কাজ করে সরকারি টাকা ভাগবাটোয়ারা করে নিচ্ছেন।
ভুক্তভোগী কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, নির্ধারিত ফি’র চেয়ে বেশি টাকা না দিলে সেবা পেতে দেরি করা হয় কিংবা নানা অজুহাতে ঘুরান সচিব পাপিয়া আক্তার। এতে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।
এদিকে, স্থানীয়দের দাবি এসব অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল অর্থের মালিক হয়ে উঠেছেন ওই সচিব। ইতোমধ্যে গাজীপুরের টঙ্গী এলাকায় একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও উপজেলা সদরে রয়েছে আরেকটি বাড়ি, যা নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা চলছে।
তবে অভিযুক্ত সচিব তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমার বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগই মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। একটি মহল আমার সুনাম ক্ষুণ্ন করতে এসব অপপ্রচার চালাচ্ছে।
ফরদাবাদ গ্রামের মনিরুজ্জামান সরকার জানান, পাপিয়া দীর্ঘদিন যাবতীয় ইউনিয়ন পরিষদে কর্মরত থেকে নানা অনিয়মের মাধ্যমে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। তিনি গত বছরে হোল্ডিং ট্যাক্স আদায় করেছেন চারটা ওয়ার্ডের কিন্তু এ টাকা ব্যাংকে জমা না দিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মহোদয় বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে আমরা এর প্রতিকার চাই।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের এক কর্মকর্তা জানান, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এদিকে, দ্রুত সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।








































আপনার মতামত লিখুন :