Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১ ফাল্গুন ১৪৩২

‘ভারতকে হারানো সম্ভব, প্রমাণ করল দক্ষিণ আফ্রিকা’


দৈনিক পরিবার | ক্রীড়া ডেস্ক ফেব্রুয়ারি ২৩, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম ‘ভারতকে হারানো সম্ভব, প্রমাণ করল দক্ষিণ আফ্রিকা’

টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের জয়যাত্রার অবসান ঘটিয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। এই প্রতিযোগিতায় ভারতীয়রা টানা ১২ ম্যাচ জেতার পর হার দেখল। দক্ষিণ আফ্রিকা প্রমাণ করল, বর্তমান চ্যাম্পিয়নদেরকে ‘হারানো সম্ভব’। ৭৬ রানের বড় জয়ের পর অবশ্য দক্ষিণ আফ্রিকা আত্মহারা বা উচ্ছ্বাসে ভেসে যাচ্ছে না।
এই টুর্নামেন্টে পাঁচ ম্যাচ জিতেছে দক্ষিণ আফ্রিকা। গ্রুপের সবচেয়ে কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে প্রথম সুপার এইট ম্যাচ জেতার পর তারা ভাবতে পারে যে তাদের এক পা সেমিফাইনালে। কিন্তু এখনই অতদূরের চিন্তা তারা করছে না। এখন পর্যন্ত তারা বুঝতে পেরেছে, ফেভারিট দলেরও পা পিছলে যেতে পারে, সেটা যে কেউ। তাই প্রতিযোগিতা যত এগিয়ে যাবে, তত বেশি মনোযোগ ধরে রাখতে হবে প্রোটিয়াদের।
ম্যাচের পর সংবাদ সম্মেলনে দক্ষিণ আফ্রিকার সবচেয়ে অভিজ্ঞ ব্যাটার ও শীর্ষ রান সংগ্রাহক ডেভিড মিলার এলেন। ম্যাচসেরা ইনিংস খেলার পর তার প্রথম অভিব্যক্তি, ‘ভারতকে হারানো সম্ভব। তারা এখানে এসেছিল অবিশ্বাস্য দল নিয়ে। আমাদের জন্য, এমন টুর্নামেন্টে, নিশ্চিত করতে হবে যে আমরা আমাদের স্বাভাবিক কাজ করব এবং সেটা শেষ করতে হবে। আমরা পরিণত একটি দল। এই দলের অনেকে একসঙ্গে খেলেছে এবং সেটি চাপের মুখে আমাদের সুবিধা দিয়েছে। এখন নিজেদের লক্ষ্যে মনোনিবেশ করতে হবে এবং নিশ্চিত করা লাগবে যেন কাজ ঠিকঠাক শেষ করতে পারি এবং আরও বেশি চাইতে হবে।’
‘আরও বেশি’ বলতে দক্ষিণ আফ্রিকা কী চায়, সেটা ব্যাখ্যা দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অবশ্যই, সাদা বলের ক্রিকেটের বড় একটি ট্রফি। গত ফাইনালে অল্পের জন্য হারের পর এই আকাঙ্ক্ষা আরও তীব্র হয়েছে। সম্প্রতি তারা বিশ্ব টেস্ট চ্যাম্পিয়নশিপের মেস হাতে নিয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে গত বছরের লর্ডস ফাইনালে তারা যেভাবে চাপ মোকাবিলা করে ফাইনাল জিতেছিল, সেটাই এবার আরও ভালো কিছু করার বিশ্বাস এনে দিচ্ছে। এই আসরেই তো আফগানিস্তানের বিপক্ষে দুটি সুপার ওভারের ম্যাচে প্রমাণ দিয়েছে, তারা চাপ মোকাবিলা করতে শিখে গেছে। 
গ্রুপ পর্বে নিউজিল্যান্ড, তারপর সুপার এইটে ভারত। দুটি ম্যাচেই কঠিন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে সহজ জয় পেয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকা। দুটি জয় তাদের ওপর থেকে চাপ কমিয়েছে মনে হতে পারে। কিন্তু মিলার বললেন, ‘এটা সহজ ছিল না। ভারতের বিপক্ষে খেলা সবসময় সত্যিই কঠিন। আমরা তাদের বিপক্ষে অনেক খেলেছি এবং তাদের সঙ্গেও। এই ধরনের দুটি বড় দলের বিপক্ষে যখন খেলা, তখন নিশ্চিত করতে হবে যেন আপনি দীর্ঘ সময় ধরে স্বাভাবিক কাজগুলো করেন। যখন চাপ আসবে, তখন তা মোকাবিলা করতে হবে। এটায় দলীয় প্রচেষ্টা লাগে।’
ম্যাচ জয়ে বিশেষভাবে লুঙ্গি এনগিডি ও কেশভ মহারাজের নাম উল্লেখ করলেন মিলার। মহারাজের এক ওভারে লং অনে ট্রিস্টান স্টাবস তিনবার ক্যাচ নেন। মিলার বললেন, ‘ছেলেরা সত্যিই ভালো করেছে। লুঙ্গি এনগিডি বোলিংয়ে আসার পর বদলে গেছে, অনেক স্লো বল করেছে। তাদের লাইনআপ বিপজ্জনক, যারা অনেক ছক্কা ও বাউন্ডারি হাঁকায়। এটা মেনে নিতে হবে যে তারা সত্যিই ভালো এবং নিশ্চিত করতে হবে সেটা একপাশে সরিয়ে রেখে ভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা। আর কেশভ মহারাজ, সে অভিজ্ঞ খেলোয়াড়। চাপের পরিস্থিতিতে সে জীবনে অনেক বল করেছে। এই ছেলেরা অবিশ্বাস্য ভালো বল করেছে।’

Side banner