দীর্ঘ ৫৮ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষে আজ বুধবার (১১ জুন) রাত ১২টা থেকে পুনরায় সাগরে মাছ ধরতে যাচ্ছেন উপকূলীয় পাথরঘাটার হাজারো জেলে। মূলত মাছের প্রজনন, বংশ বিস্তার এবং সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য রক্ষায় প্রতিবছর এই সময়ে মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা জারি করে সরকার।
তবে অভিযোগ রয়েছে, কাগজে-কলমে নিষেধাজ্ঞা কার্যকর থাকলেও বাস্তবে তা মানা হয়নি পাথরঘাটার অনেক সামুদ্রিক এলাকায়। বরং সেখানে নিষেধাজ্ঞার সময়েও রাতের আঁধারে সাগরে মাছ ধরার প্রতিযোগিতা চলেছে অবাধে।
বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম মৎস্য অবতরণ কেন্দ্র বরগুনার পাথরঘাটা বিএফডিসি ঘাটে গিয়ে দেখা গেছে, গভীর রাত থেকেই মাছ কেনাবেচার ব্যস্ততা। প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে নিষিদ্ধ সময়েও চলেছে মাছ ধরার প্রস্তুতি ও বেচাকেনা।
স্থানীয় সূত্র বলছে, ঈদ উল আজহার টানা ১০ দিনের ছুটিকে কাজে লাগিয়ে অনেক অসাধু ট্রলার মালিক ও ব্যবসায়ী আগেভাগেই সাগরে ট্রলার পাঠিয়েছেন। ৩ জুন থেকেই তারা গভীর সমুদ্রে গিয়ে মাছ ধরছেন এবং গত কয়েকদিন ধরে মাছসহ ট্রলার ফিরছে ঘাটে।
অভিযোগ রয়েছে, একটি প্রভাবশালী চক্র প্রশাসন ‘ম্যানেজ’ করে প্রতিটি ট্রলার থেকে ১৫-২০ হাজার টাকা করে চাঁদা নিয়ে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ ধরার সুযোগ করে দিয়েছে।
বরগুনা জেলা ট্রলার মালিক সমিতির সভাপতি গোলাম মোস্তফা এ বিষয়ে বলেন, জেলেদের আন্দোলনের কারণে ভারতীয় সময়সূচির সঙ্গে মিল রেখে সরকার এই নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এখনও অনেকেই তা মানছেন না। এতে মা ইলিশসহ মূল্যবান সামুদ্রিক প্রাণীর ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে প্রশাসনের কার্যকর উদ্যোগ না থাকলে সামুদ্রিক সম্পদ রক্ষা করা সম্ভব নয়। তারা আরো কঠোর নজরদারি ও দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
আপনার মতামত লিখুন :