Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ২৭ মাঘ ১৪৩২

রাশেদ খাঁনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ


দৈনিক পরিবার | স্টাফ রিপোর্টার ফেব্রুয়ারি ৯, ২০২৬, ০৮:১৮ পিএম রাশেদ খাঁনের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ

গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঝিনাইদহ-৪ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী রাশেদ খাঁনের বিরুদ্ধে চাকরিসহ বিভিন্ন প্রলোভনে অর্থ আত্মসাৎ ও প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (৯ ফেব্রুয়ারি ) দুপুর ১২টার দিকে কালীগঞ্জ শহরের একটি মিলনায়তনে সংবাদ সম্মেলেনে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা এসব অভিযোগ করেন। তারা বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন ব্যাংকার রাসেল আহমেদ, তার বাবা তাজউদ্দিন আহমেদ, গণঅধিকার পরিষদের জহুরা বেগম ও রাসেল আহমেদের স্ত্রী। রাসেল আহমেদ পেশাজীবী পরিষদের ঝিনাইদহ জেলা শাখার সভাপতি। তিনি অগ্রণী ব্যাংকে সিনিয়র অফিসার হিসেবে কর্মরত। বর্তমানে সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। এ সময় তিনি রাশেদ খানকে টাকা দেওয়ার বিভিন্ন প্রমাণাদি সাংবাদিকদের সরবরাহ করেন। নিরাপত্তাজনিত কারণে তিনি ঝিনাইদহ ছেড়ে কালীগঞ্জে এসে সংবাদ সম্মেলন করেন।
রাসেল আহমেদ বলেন, রাশেদ খাঁন বিভিন্ন সময় প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ নিয়েছে। অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তান। জাতীয় পর্যায়ের রাজনীতি অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। সেক্ষেত্রে ঝিনাইদহ-২ আসন থেকে এমপি হতে পা রলে সবার জন্য সুবিধা হবে। সেই প্রলোভন দেখিয়ে বিশেষ করে আমার কাছ থেকে অর্থ হাতিয়ে নিয়েছে। সে সব সময় বলতো, আমি গরিবের সন্তান। আপনারা আমাদের পাশে থাকলে অন্তত একটু ভালো অবস্থানে যেতে পারবো। তারই প্রেক্ষিতে দলের প্রোগ্রাম বাবদ ও নিজের প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কেনার জন্য টাকা নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সে বিভিন্ন সময় বললো জাতীয় পর্যায়ে রাজনীতি করলে একটা ভালো মোবাইল ফোন ছাড়া হয় না। তার হাতের আইফোন যার দাম ১ লাখ ৮০ হাজার টাকা। সেই টাকাও আমার কাছ থেকে নিয়েছে। তার একটি ল্যাপটপ, ঘরের আসবাবপত্রসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র আমার কাছ থেকে টাকা নিয়ে কিনেছে। সর্বশেষ সে যখন ঝিনাইদহতে একটি গাড়িতে আসে। সেই গাড়ির ১৬টি কিস্তির টাকা আমার কাছ থেকে নেওয়া। গাড়িটা ঢাকার একজনের নামে। তার এই অর্থ দিতে গিয়ে আমার পরিবার নিঃস্ব হয়ে গেছে। তার জন্য ব্যাংকে একটি আর্থিক কেলেঙ্কারিও ঘটেছে।
রাসেল বলেন, আমি রাশেদ খাঁনের খুব কাছে ছিলাম। এসব টাকা ফেরত চাইলে সে বিভিন্নভাবে হুমকি দিতো। সর্বশেষ গতকালও টাকা ফেরত দেওয়ার কথা বলে কিন্তু সেই টাকা ফেরত দেয়নি। অনেক মানুষের টাকা তার পকেটে। সেই টাকা দিয়ে বিলাসী জীবন-যাপন করছে। আপনারা জানেন না সে কতবড় বাটপার।
সংবাদ সম্মেলনে কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলেন, আমি একজন ব্যাংকার মানুষ। আজ আমাকে রাশেদ খাঁনের জন্য সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হতে হচ্ছে। বিভিন্ন সময় তাকে টাকার কথা বললে আজ না কাল বলে ঘুরায়। দেড় বছরে প্রায় ৩২ লাখ টাকার ঊর্ধ্বে নিয়েছে। গতকালও ৩টা ২২ মিনিটে ফোন দিয়ে বলেছে টাকাটা দিয়ে দেব। চীন সফরের আগেও আমার কাছ থেকে টাকা নিয়েছে। 
এক প্রশ্নের জবাবে রাসেল বলেন, কারও সুবিধার জন্য এই সংবাদ সম্মেলন করা হয়নি। আজ সকাল ১০টার মধ্যে টাকা দেওয়ার কথা ছিল। সেই টাকা না পেয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হয়েছে।  
সংবাদ সম্মেলনে ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কুমড়াবাড়িয়া ইউনিয়নের আমিরুল ইসলাম বলেন, যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ঝিনাইদহ শাখায় পিওন পদে চাকরি দেওয়ার কথা বলে রাশেদ খাঁন ৫ লাখ টাকা নিয়েছে। কিন্তু সেই চাকরি ও টাকা কিছুই পাইনি।
রাসেল আহমেদের স্ত্রী রাশিদা খাতুন বলেন, রাশেদ খাঁন আমাদের বাসায় বিভিন্ন সময় যেত। তাদের সাথে একটা পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। রাশেদ খানের মা বলতো রাশেদ আর রাসেল আমার দুই ছেলে। রাশেদ খাঁন আমাদের সাথে যে প্রতারণা করবে এটা বুঝতে পারিনি।
নারী অধিকার পরিষদের সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক জহুরা বেগম বলেন, নির্বাচন করার জন্য রাশেদ খাঁন আমার কাছ থেকে ৫ লাখ টাকা নিয়েছে।
এ ব্যাপারে গণঅধিকার পরিষদের সাবেক সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খাঁন বলেন, এসব অভিযোগের কোনো ভিত্তি নেই। আমি কাউকে কখনো চাকরি দেওয়ার নাম করে টাকা নেয়নি। রাসেল পেশাজীবী পরিষদের সভাপতি ছিল। সে ব্যাংকের টাকা আত্মসাৎ করেছে। এরপর তাকে দল থেকে বহিষ্কার করি।

Side banner