Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১৫ ফাল্গুন ১৪৩২

কাশিয়ানীতে উধাও বনায়নের অর্ধশত গাছ


দৈনিক পরিবার | শেখ শোভন আহমেদ ফেব্রুয়ারি ২৭, ২০২৬, ১১:৪৫ পিএম কাশিয়ানীতে উধাও বনায়নের অর্ধশত গাছ

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানীতে সামাজিক বনায়নের প্রায় অর্ধশত গাছ উধাও। কোথায়, কীভাবে রাতারাতি গাছগুলো গায়েব হয়ে যাচ্ছে জানেন না জেলা বন কর্মকর্তাসহ কোন সরকারি মহল। যা নিয়ে উপজেলা জুড়ে বেশ চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে সাধারণ ও সচেতন নাগরিকদের মধ্যে। সরকারি সম্পত্তির এমন ক্ষতি মানতে পারছে না স্থানীয়রা।
উল্লেখ্য, ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কাশিয়ানী উপজেলার ভাটিয়াপাড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে গোপালপুর বাসস্ট্যান্ড পর্যন্ত মহাসড়কের পাশের মোট পঞ্চাশটার মতো গাছ অবৈধভাবে কেটে বিক্রয় ও পাচার করা করেছে একটি কুচক্রী মহল। কর্তনকৃত গাছের তালিকায় রয়েছে রেইনট্রি, গামারি, একাশিসহ বেশ কিছু উন্নত মানের গাছ।যার বর্তমান বাজার মূল্য প্রায় দশ লাখের বেশি। উপজেলার ঘোনাপাড়া এলাকায় সবচেয়ে বেশি গাছ কাটা হয়েছে।প্রতিটি গাছ মাটি থেকে দুই ফুট বা তার কিছুটা কম অংশ রেখে কাটা হয়েছে।তবে গাছের রেখে যাওয়া অংশ দেখে সহজেই বোঝা যায় যে তা কোন হাত করাত বা বিদুৎ চালিত করাত দিয়ে কাটা।


মূলত মহাসড়কের নির্দিষ্ট পরিমাপের মধ্যে থাকা এসব গাছের রক্ষাণাবেক্ষণের দায়িত্ব বন বিভাগের।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বিভিন্ন গাছ ব্যবসায়ী ও স মিল এর মালিকেরা দিনে ও রাতে মানুষের ইবাদত বন্দেগী পালনে উপস্থিত কম হওয়ায় বিদ্যুৎ চালিত করাত কল গাছ কাটে। তারপর ডালপালা ও মূল গাছ একে একে ভ্যানে ও টলিতে করে পাচার করে।
তবে স্থানীয় সূত্র আরও বলছে কাশিয়ানী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে কর্মরত ও কর্মচারীরাও মাঝে মাঝেই আইনের তোয়াক্কা না করেই বিদ্যুৎ লাইনের সীমানার বাইরের গাছ কেটে ফেলে এবং কর্তনকৃত গাছ রাস্তার পাশেই ফেলে রাখে। পল্লী বিদ্যুৎ এর ফেলে রাখা কাটা গাছ আবার স্থানীয় গাছ ব্যবসায়ীরা নিয়ে তা বিক্রয় করে।
উপজেলার তিলছাড়া বাজারের ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম বলেন, গত পরশুদিন বিদ্যুৎ অফিসের দুজন লোক এসে ইলেকট্রনিক্স করাত দিয়ে আমার দোকানের সামনে একটি গাছ কাটা। আজকেও সকালে এসে দেখি সেই আস্ত গাছ সেভাবেই পড়ে আছে।যে গাছ কাটছে বিদ্যুৎ অফিস সেই গাছ থেকে খাম্বা দশ মিটার দূরে। এখানকার গাছ ব্যবসায়ী আর বিদুৎ অফিসের লোকদের জন্য রাস্তার পাশেই এসব গাছ শেষ হয়ে যাচ্ছে।
উপজেলার সচেতন মহলে এখন সবার মাঝে একটাই প্রশ্ন আর সেটা হলো, তাহলে কি বন বিভাগ এসব অনিয়মের কিছুই দেখছে না নাই দেখেও না দেখার অদ্ভুত চশমা পড়েছে? আর বিদ্যুৎ বিভাগের কর্মীরা এসব গাছ কেন শুধু শুধু কাটছে আর কাটলেও বা গাছ কেন ফেলে আসছে? এবং গাছ অবৈধভাবে কেটে বিক্রয় করা মহল কতটা ক্ষমতাশালী যে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়না।
গোপালগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন কাশিয়ানী জোনাল অফিসের প্রধান ডিজিএম (কারিগরী) প্রকৌশলী কামাল হোসেন বলেন, আমরা বা আমাদের কোন কর্মী এত বড় বড় গাছ কাটিনি।আমরা শুধু গাছের ডালপালা কেটেছি। গাছগুলো আমাদের লাইনের বাইরে।
গোপালগঞ্জ জেলা বন কর্মকর্তা বিবেকানন্দ মল্লিক বলেন, কাশিয়ানী উপজেলার বিভিন্ন গাছ ব্যবসায়ী এসব কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত।আমরা তাদের বিরুদ্ধে খুব দ্রুতই পদক্ষেপ গ্রহণ করব। তবে, কাশিয়ানী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কোন অধিকার নেই তাদের লাইনের বাইরের বড় বড় গাছ কাটার। তাদেরকে এসব গাছ কাটতে হলে অনুমতির প্রয়োজন হয়।আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখব।
তবে সব কিছুর পরেও উপজেলার মানুষ এসব অবৈধভাবে গাছ কাটার সঠিক ও সুষ্ঠু বিচার চাই। তারা প্রকৃতির সবুজে সবুজময় বৃক্ষ সাজিয়ে রাখতে চাই মহাসড়কের দু’পাশে।

Side banner