হাসপাতালে ভর্তি না হলেও জাল সার্টিফিকেট দেওয়ায় সিরাজগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফয়সাল আহম্মেদকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে সিনিয়র জুডিশিয়াল (৩) বেলকুচি আমলি আদালতে হাজির হলে বিচারক ওবায়দুল হক রুমি তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
মামলার প্রধান সাক্ষী অ্যাডভোকেট ইন্দ্রজিত সাহা বলেন, ২০২৫ সালের ২১ মার্চ বেলকুচি উপজেলার কদমতলি গ্রামে একটি মারামারির ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় ওয়াজেদ আলীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে একই এলাকার মো. শাহজালাল বাদী হয়ে আদালতে মামলা করেন।
মামলার এজাহারের যুক্ত করা চিকিৎসার সার্টিফিকেট দিয়ে মো. শাহজালাল দাবি করেন মারামারিতে আহত হয়ে তিনি ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট সিরাজগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আসামি ওয়াজেদ আলী বিষয়টি আদালতে চ্যালেঞ্জ করে দাবি করেন সে মিথ্যা সার্টিফিকেট দাখিল করেছেন। পরে আদালত ওয়াজেদ আলীর আবেদন আমলে নিয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য অনুসন্ধানের উদ্যোগ নেন।
একজন ম্যাজিস্ট্রেট অভিযোগের তদন্তের পর চলতি বছরের ২৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্তে সার্টিফিকেট জালিয়াতির বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (৩) বেলকুচি আমলি আদালতের বিচারক ওবায়দুল হক রুমি এ ঘটনায় একই আদালতের বেঞ্চ সহকারী রোজিনা খাতুনকে এ বিষয়ে সদর থানায় মামলা করার নির্দেশ দেন। মামলায় আইনজীবী, নার্স ও ভুক্তভোগীসহ ১০ জনকে সাক্ষী হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
আইনজীবী ইন্দ্রজিত সাহা আরো বলেন, ওই মামলার পর আদালত আসামির বিরুদ্ধে সমন জারি করেন।
সোমবার (৩০ মার্চ) দুপুরে আসামি মেডিক্যাল অফিসার ডা. ফয়সাল আহম্মেদ আদালতে হাজির হলে বিচারক তাকে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বদলি হওয়ায় ডা. ফয়সাল আহম্মেদ (৪০) বর্তমানে তাড়াশ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। তিনি সিরাজগঞ্জ শহরের সয়াধানগড়া জগাই মোড় এলাকার মৃত আব্দুস সামাদের ছেলে।








































আপনার মতামত লিখুন :