শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা বাতিল করতে লিগ্যাল নোটিশ
রেজিস্ট্রার্ড এ/ডি ডাকযোগে প্রেরিত
তারিখ: ২৪ মে, ২০২৬ খ্রিষ্টাব্দ
প্রাপক
জেলা প্রশাসক (ডিসি) ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট
জেলা প্রশাসকের কার্যালয়
ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
বিষয়: প্রচলিত আইন ও বিচার বিভাগীয় নজির লঙ্ঘন করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সকল উপজেলায় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে প্রদত্ত অস্থায়ী পশুর হাটের বেআইনি ইজারা আগামী ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে বাতিলকরণ প্রসঙ্গে লিগ্যাল নোটিশ।
নোটিশ প্রদানকারী:
অ্যাডভোকেট মিয়া মোঃ মফিজুল ইসলাম
ঠিকানা: ৩৭/এ কাকরাইল ভিআইপি রোড,
সাহারা সেন্টার, লেভেল ১১, পল্টন, ঢাকা-১০০০।
মোবাইল: +৮৮০ ১৬৭৬-০৭৭-৮৪৪
জনাব,
আমার মক্কেল তথা নোটিশ প্রদানকারীর পক্ষে আপনাকে এই মর্মে লিগ্যাল নোটিশ প্রদান করছি যে:
১. নোটিশ প্রদানকারী ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় জন্মগ্রহণকারী বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের একজন নিয়মিত আইনজীবি এবং সচেতন নাগরিক হিসেবে দেশের আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা ও জাতীয় স্বার্থ ও জনস্বার্থ রক্ষায় সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
২. উদ্বেগ: অত্যন্ত উদ্বেগের সাথে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, আসন্ন পবিত্র ঈদুল আজহা ২০২৬ উপলক্ষ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত বিভিন্ন উপজেলা যথাক্রমে ১. ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলা ২. কসবা উপজেলা ৩. নাসিরনগর উপজেলা ৪. সরাইল উপজেলা ৫. আশুগঞ্জ উপজেলা ৬. আখাউড়া উপজেলা ৭. নবীনগর উপজেলা ৮. বিজয়নগর উপজেলা এবং ৯. বাঞ্ছারামপুর উপজেলায়, প্রচলিত আইন ও বিচার বিভাগীয় নজির লঙ্ঘন করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা প্রদান করা হয়েছে যা বেআইনি।
২ক. স্থানীয় প্রশাসনকে ভুল বুঝানো হয়েছে: আইন অমান্যকারী স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ উপজেলা প্রশাসনকে ভুল তথ্য দিয়ে অথবা তথ্য গোপন করে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ অস্থায়ী পশুর হাট ইজারার তালিকাভুক্ত করতে প্রভাবিত করেছে বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। আইয়ুবপুর হাই স্কুলের প্রধান শিক্ষক এবং সলিমাবাদ হাইস্কুলের একজন শিক্ষক নিজেরাই যার যার স্কুলে ইজারাদার বনে গেছে এমনকি “শিক্ষক যখন ইজারাদার” বলে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। সচেতন নাগরিক সমাজ মনে করে প্রশাসন এসব ইজারা অনিচ্ছাকৃত ও ভুলবশত প্রদান করেছে বা অতীতের ভুল চর্চাকে পুনর্বিবেচনা ছাড়াই চলমান রেখেছে। কতিপয় ব্যক্তির পকেট ভারী করার স্বার্থে আমাদের জাতীয় ঐতিহ্য, আইনি ব্যবস্থা এবং শিশুদের ভবিষ্যৎ বিসর্জন দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। শিক্ষার গুণগত মান ও পরিবেশ রক্ষা করা বর্তমান সরকারের অন্যতম জাতীয় অগ্রাধিকার এবং স্থানীয় প্রশাসন তা দ্রুত সংশোধন করে ইজারা বাতিল ঘোষনা পূর্বক শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারে।

৩. বাঞ্ছারামপুরে ভয়ংকর পরিস্থিতি: বিশেষ করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষের একাংশের সংযোগে নিয়ম-নীতি বহির্ভূতভাবে বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার খেলার মাঠে অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা প্রদান করা হয়েছে। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক চিত্র হলো বাঞ্ছারামপুর উপজেলার মোট ৩০টি অস্থায়ী হাটের মধ্যে ১১টি হাটই বসানো হয়েছে সরাসরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ চিরে যা স্থানীয় ও জাতীয় পত্র-পত্রিকায় নেতিবাচকভাবে প্রচারিত হয়েছে। এছাড়াও এসব ইজারার নেতিবাচক প্রভাব সম্পর্কে সচেতন নাগরিকরা কলাম লিখেছেন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন। বাঞ্ছারামপুর উপজেলার ফেসবুক ওয়ালগুলো এখন এই তপ্ত বিতর্কে উত্তাল। গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখে ‘বাঞ্ছারামপুর বার্তায় প্রকাশিত একটি সংবাদ উপজেলার সচেতন মহলের বিবেককে চরমভাবে নাড়া দিয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর নামের তালিকা হলো ১. ধারিয়ারচর নুরুল ইসলাম কলেজ, ২. ফরদাবাদ ড. রওশন আলম কলেজ, ৩. বাহেরচর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম কলেজ, ৪. ভুরভুরিয়া আদর্শ স্কুল এন্ড কলেজ, ৫. শাহ রাহাত আলী উচ্চ বিদ্যালয় ৬. রূপসদী জামিদা মনসুর আলী উচ্চ বিদ্যালয়, ৭. আইয়ুবপুর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয় ৮. ছলিমাবাদ আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় ৯. দরিকান্দি বাড্ডা আছমাতুন্নেছা উচ্চ বিদ্যালয় ১০. হোগলাকান্দি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় এবং ১১. চরছয়ানী মাদ্রাসা মাঠ উল্লেখযোগ্য)।

৪. আইনের লঙ্ঘন: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণ ও খেলার মাঠে এহেন বাণিজ্যিক পশুর হাট বসানোর অনুমতি প্রদান দেশের প্রচলিত আইন, সরকারি পরিপত্র এবং মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশনার সরাসরি লঙ্ঘন, যা নিম্নরূপ আইনি ভিত্তির আলোকে দণ্ডনীয় অপরাধ হিসেবে গণ্য:
ক. স্থানীয় সরকার বিভাগের স্থায়ী নীতিমালা ও পরিপত্র লঙ্ঘন: গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থায়ী নীতিমালার ১৫ নম্বর অনুচ্ছেদে সুস্পষ্ট ও বাধ্যতামূলক নির্দেশনা রয়েছে যে “শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠ, খেলার মাঠ, রেল লাইন এবং জাতীয়/আঞ্চলিক মহাসড়কের উপর বা সন্নিকটে কোন অস্থায়ী পশুর হাট বসানো যাবে না।” জেলার প্রধান প্রশাসনিক কর্মকর্তা হিসেবে এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে আপনার অফিস আইনগতভাবে বাধ্য।

খ. হাট ও বাজার (স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা) আইন, ২০২৩ লঙ্ঘন: উক্ত আইনের বিধান অনুযায়ী, যেকোনো হাট বা বাজার বসার জন্য সুনির্দিষ্ট ‘তফসিলভুক্ত বা নির্ধারিত জায়গা থাকতে হয়। বিদ্যালয় বা কলেজ মাঠ কোনো বাণিজ্যিক তফসিলভুক্ত জায়গা নয়। ফলে এখানে ইজারা দেওয়া উক্ত আইনের সরাসরি লঙ্ঘন।
গ. মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের জুডিশিয়াল প্রিসিডেন্ট ও আদালত অবমাননা: বিভিন্ন সময়ে জনস্বার্থে দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশের উচ্চ আদালত (হাইকোর্ট বিভাগ) সুনির্দিষ্ট ও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন যে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে কোনো অবস্থাতেই অস্থায়ী পশুর হাট বসানো যাবে না। আদালতের এই স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ইজারা প্রদান করা সরাসরি ‘আদালত অবমাননা’এর শামিল।
৫. শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সৌন্দর্য ধ্বংস: শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠে পশুর হাট বসার ফলে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের স্বাভাবিক পাঠদান চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে, তীব্র শব্দদূষণ ঘটছে এবং হাট-পরবর্তী পশুর মলমূত্র ও আবর্জনা থেকে ডেঙ্গুসহ মারাত্মক জনস্বাস্থ্যঝুঁকি ও পরিবেশ দূষণ তৈরি হচ্ছে। বর্ষার মৌসুমে খুঁটি পোঁতা এবং পশুর পায়ের চাপে মাঠগুলো কাদায় পরিণত হয়ে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার অনুপযোগী হয়ে পড়ছে, যা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিক সৌন্দর্য ও নান্দনিকতাকে ধ্বংস করছে।

৬. মানবিক ও বিশেষ বিবেচনা (ব্যতিক্রম): তবে উল্লেখ থাকে যে, যেসব মাদ্রাসায় লিল্লাহ বোর্ডিং, এতিমখানা বা ফ্রি ছাত্রাবাস চালু রয়েছে এবং যেসব মাদ্রাসার অবহেলিত এতিম শিশুদের ভরণপোষণের স্বার্থে এই ইজারা থেকে প্রাপ্ত লভ্যাংশ সম্পূর্ণভাবে ব্যয় করা হবে, সেসব মাদ্রাসার হাটগুলোকে সামাজিক ও ধর্মীয় দায়বদ্ধতার অংশ হিসেবে এই নোটিশের আওতামুক্ত রেখে বিশেষ মানবিক বিবেচনায় অব্যাহত রাখা যেতে পারে। কিন্তু স্কুল ও সাধারণ কলেজ মাঠের ক্ষেত্রে কোনো ব্যতিক্রম গ্রহণযোগ্য নয়।
অতএব, এই লিগ্যাল নোটিশ প্রাপ্তির আগামী ২৪ (চব্বিশ) ঘণ্টার মধ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ সংরক্ষণের স্বার্থে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার অন্তর্গত সকল উপজেলায়, (যেখানে যেমন দেয়া হয়েছে বা যদি থাকে) এবং বিশেষ করে বাঞ্ছারামপুর উপজেলায় বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও সাধারণ মাদ্রাসার মাঠে নামে-বেনামে প্রদত্ত সকল বেআইনি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল করার প্রয়োজনীয় ও কার্যকরী প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করার জন্য আপনাকে অনুরোধ করা যাচ্ছে। পাশাপাশি সামাজিক শৃঙ্খলা রক্ষায় ইজারা গ্রহীতাদের সম্ভাব্য আইনি দাবির বিপরীতে তাদের প্রদত্ত বা জমাকৃত সরকারি ফি ফেরত প্রদান অথবা বিকল্প হিসেবে নিকটবর্তী কোনো উন্মুক্ত স্থান বা স্থায়ী হাটে এই অস্থায়ী পশুর হাটের দ্রুত বিকল্প অনুমোদনের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ সংরক্ষণই এখানে মূল উদ্দেশ্য।
অন্যথায়, এই নোটিশের শর্ত প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে বা কালক্ষেপণ করা হলে, নোটিশ প্রদানকারী জাতীয় স্বার্থে ও জনস্বার্থে এবং শিক্ষার পরিবেশ রক্ষার্থে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার বিভাগসহ সংশ্লিষ্ট উচ্চতর কর্তৃপক্ষকে অবহিত করতে এবং মহামান্য সুপ্রিম কোর্টের হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশনসহ অন্যান্য প্রযোজ্য আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণে বাধ্য হবেন, যার যাবতীয় দায়-দায়িত্ব আপনার অফিসের ওপর বর্তাবে।
আইন ও ন্যায়বিচারের শাসন বজায় রাখতে আপনার দ্রুত ও আইনানুগ সহযোগিতা কাম্য।
বিনীত,
(অ্যাডভোকেট মেহেদুল হাসান)
এলএল.বি. (সম্মান), এলএল.এম. (প্রথম শ্রেণী), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
অ্যাডভোকেট, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট।
চেম্বার: স্যুট ৬০৫, এনেক্স এক্সটেনশন বিল্ডিং
বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট বার অ্যাসোসিয়েশন,
ঢাকা ১০০০ সংযোগ: ০১৮৪৫৭৪৪৭০১
অনুলিপি (জ্ঞাতার্থে ও কার্যার্থে প্রেরিত):
১. সচিব, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।
২. সচিব, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সচিবালয়, ঢাকা।
৩. সচিব, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়।
৪. মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি), ঢাকা।
৫. বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সহ সংশ্লিষ্ট সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।
৬. সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রেসক্লাব।
৭. সভাপতি/সাধারণ সম্পাদক, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা সহ অন্যান্য উপজেলা প্রেসক্লাব।








































আপনার মতামত লিখুন :