Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২১ মার্চ, ২০২৬, ৭ চৈত্র ১৪৩২

কারাগারে ঈদ করছেন ৮১ হাজার বন্দি


দৈনিক পরিবার | নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ২১, ২০২৬, ১২:১০ পিএম কারাগারে ঈদ করছেন ৮১ হাজার বন্দি

সারা দেশের কারাগারগুলোতে প্রায় ৮১ হাজার বন্দি এবার ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন। এ বন্দিদের মধ্যে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য ও ব্যবসায়ী রয়েছেন।
২০২৪ সালে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর হত্যা মামলাসহ বিভিন্ন অভিযোগে করা মামলায় এখন পর্যন্ত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী, সংসদ সদস্য, শীর্ষস্থানীয় নেতা ও সরকারি কর্মকর্তাদের মধ্যে ২১৫ জন কারাগারে আছেন। তাদের মধ্যে ডিভিশন পেয়েছেন ১৮৩ জন। মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রী ৩৭ জন, সাবেক সংসদ সদস্য ৪৮ জন এবং অন্যান্য পেশার ৯৮ জন আছেন এ তালিকায়। ডিভিশন না পেয়ে ভিআইপি হিসেবে কারাগারে আছেন ৩২ জন। তাদের আরেকটি ঈদ কারাগারে কাটছে।
এবারের ঈদে কারাবন্দিদের জন্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিশেষ খাবার ও স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং ফ্রি ফোনে কথা বলার ব্যবস্থা করেছে কারা অধিদপ্তর। পাশাপাশি অর্ধেকের বেশি সাজা ভোগ করা পাঁচজন বন্দিকে এ ঈদে মুক্তি দেওয়া হবে।
কারা সূত্রে জানা গেছে, ঈদ উপলক্ষে বন্দিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টি এবং তাদের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রদর্শনের অংশ হিসেবে এ বিশেষ খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ঈদের দিন কারাগারে আটক বন্দিদের সকাল, দুপুর ও রাতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।
নির্ধারিত মেন্যু অনুযায়ী, ঈদের দিন সকালে পায়েস বা সেমাই এবং মুড়ি পরিবেশন করা হবে। দুপুরে সাদা ভাত, গরুর মাংস (ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জন্য খাসির মাংস), মুরগির রোস্ট, আলুর দম ও রুই মাছ দেওয়া হবে। এছাড়া পান ও সুপারিও সরবরাহ করা হবে।
এছাড়া ঈদুল ফিতর উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন কারাগারে বন্দি থাকা অর্ধেকের বেশি সাজা ভোগ করা পাঁচজন দণ্ডপ্রাপ্ত কয়েদিকে মুক্তি দিয়েছে সরকার। মুক্তিপ্রাপ্তরা হলেন- চাঁদপুর কারাগারের আকাশ রিশি প্রকাশ দাশ, গাজীপুর জেলা কারাগারের রবিউল হোসেন, রংপুর কেন্দ্রীয় কারাগারের জিকারুল হক জিকু ও নুরুজ্জামান এবং কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের আব্দুল করিম। তারা বিভিন্ন মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হয়ে কারাভোগ করছিলেন। ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশেষ বিবেচনায় সরকার তাদের মুক্তি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। ১১ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে তাদের কারামুক্তির আদেশ গেজেট আকারে প্রকাশের পর তাদের মুক্তি দেওয়া হয়েছে।
কারা অধিদপ্তরের সহকারী কারা মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ গণমাধ্যমকে বলেন, ঈদের আনন্দ কারাবন্দিদের মধ্যেও ছড়িয়ে দিতে প্রতিবারের মতো এবারও বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে দেশের সব কারাগারে বন্দিদের এ বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে। ঈদের দিন সকালে সব কারাগারে বন্দিদের জন্য নামাজ আদায়ের ব্যবস্থা থাকবে। ঈদের তিনদিন বন্দিরা স্বজনদের সঙ্গে সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন। নিতে পারবেন স্বজনদের আনা খাবারও। ঈদকে কেন্দ্র করে বন্দিদের মধ্যে উৎসবের আমেজ সৃষ্টিতে থাকছে সাংস্কৃতিক বিনোদনের ব্যবস্থাও।
কারা কর্মকর্তারা জানান, ঈদের দিন থেকে তিনদিনের মধ্যে বন্দিরা তাদের স্বজনদের সঙ্গে একবার ৫ মিনিট মুঠোফোনে কথা বলতে পারবেন। এ তিনদিনের মধ্যে স্বজনরা একবার বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। সাধারণত ১৫ দিন পর বন্দিরা কারাগারে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। বন্দিদের সঙ্গে দেখা করতে আসা স্বজনদের জন্যও আপ্যায়নের ব্যবস্থা করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। কারাগারের বাইরে তাদের চকলেট ও জুস দিয়ে আপ্যায়ন করা হবে।
ঈদের দিন কারাগারের ভেতরে বন্দিদের জন্য খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক আয়োজনের ব্যবস্থাও থাকছে। প্রতি বছর সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলোতে বন্দিদের মধ্য থেকে যারা শিল্পী রয়েছেন তারা গান করে থাকেন। এ ছাড়া বাছাইকৃত বন্দিদের নিয়ে টিম করে আয়োজন করা হয় প্রীতি ফুটবল ম্যাচের।

Side banner