‘প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব ভাষা, সংস্কৃতি ও মূল্যবোধের প্রতি আমাদের আস্থা ও সম্মান রয়েছে। ভাষার বহুত্ব, সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য, স্বাতন্ত্র্য সংরক্ষণ এবং এসবের উন্নয়নে যথাযথ ভূমিকা রাখা রাষ্ট্রের দায়িত্ব বলে আমরা মনে করি। বিএনপি ক্ষতায় গেলে ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর সব অধিকার প্রতিষ্ঠা করবে।’
শনিবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে ময়মনসিংহ টাউন হল তারেক স্মৃতি অডিটরিয়ামে জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের প্রথম জাতীয় প্রতিনিধি সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেওয়া বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপির রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফায় স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে, জাতি, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সব জাতিগোষ্ঠীর সামাজিক, রাজনেতিক, সাংস্কৃতিক-অর্থনৈতিক অধিকার এবং জীবনের নিরাপত্তা বিধানে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা গ্রহণ করা হবে। ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতি এটিই আমাদের অঙ্গীকার।
সমাবেশে সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘একটি ভয়াবহ দানবীয় ফ্যাসিস্ট সরকারের দীর্ঘ নির্যাতনের শাসনের পর একটি অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে সুযোগ পেয়েছি নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ করার। তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন বাংলাদেশ গড়ে উঠবে এবং সেই বাংলাদেশে সবার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘একটি চক্রান্ত চলছে বাংলাদেশে। ভবিষ্যতে যে নির্বাচন হওয়ার কথা, সেই নির্বাচনকে বানচাল করার জন্য একটা গোষ্ঠী চেষ্টা করছে। একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী উগ্রবাদের কথা বলে মানুষকে বিভক্ত করতে চাচ্ছে, বিভাজন সৃষ্টি করতে চাচ্ছে। আজ আমাদের সবার দায়িত্ব হবে, একসঙ্গে ঠিক ৭১ সালে যেমন আমরা লড়াই করেছিলাম আমাদের ভূখণ্ডের জন্যে, স্বাধীনতার জন্য, সার্বভৌমত্বের জন্য, অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য; সেভাবে আমরা আজ আমাদের অধিকার রক্ষার জন্য কাজ করব, লড়াই করে যাব।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের বিশ্বাস, আমাদের নেতা তারেক রহমান এখন পর্যন্ত যে কাজ করেছেন, তাতে সব জাতি ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেই লক্ষ্যে এগিয়ে যেতে পারব।’
জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের কেন্দ্রীয় সভাপতি মৃগেন হাগিদগের সভাপতিত্বে সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ও হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য ফ্রন্টের সভাপতি বিজন কান্তি সরকার, যুগ্ম মহাসচিব সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স, বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শরীফুল আলম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আবু ওয়াহাব আকন্দ ও অ্যাড. ওয়ারেস আলী মামুন, দক্ষিণ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক জাকির হোসেন বাবুল, উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এনায়েত উল্লাহ কালাম, মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক অধ্যাপক এ কে এম শফিকুল ইসলাম, দক্ষিণ জেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকনুজ্জামান সরকার, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের ভাইস চেয়ারম্যান সুভাস চন্দ্র বর্মণ প্রমুখ।
সমাবেশে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের সহ-সভাপতি বিধান কৃষ্ণ বর্মণ, অঞ্জন কুমার চিছাম, ময়মনসিংহ দক্ষিণ জেলা কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অখিল চন্দ্র কোচ, মৌলভীবাজার জেলা কমিটির সভাপতি পরিক্ষীত দেব বর্মা, সহ-সভাপতি হিরণ কুমার সিংহ, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরামের সাধারণ সম্পাদক আদিবাসী লেখক সঞ্জিব দ্রং, আদিবাসী মুক্তিযোদ্ধা প্রমোদ চন্দ্র বর্মণ, জয়েনশাহী আদিবাসী উন্নয়ন পরিষদের কেন্দ্রীয় সভাপতি ইউজিন নকরেক, ট্রাইব্যাল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি বিপুল হাজং, খাসিয়া জনগোষ্ঠী ও গবেষক মানবাধিকারকর্মী হিরামন হেলেনা তারাং, বানাই জনগোষ্ঠী ও মানবাধিকারকর্মী রিপন চন্দ্র বানাই, বাংলাদেশ হদি কল্যাণ পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রশান্ত কুমার সিংহ, জাতীয়তাবাদী ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠী দলের হবিগঞ্জ জেলা সভাপতি সুমেন বেসরা, গাসু ঢাকা মহানগরের সাধারণ সম্পাদক জানকি চিসিম প্রমুখ।
এর আগে দুপুরে নগরীর টাউন হল তারেক স্মৃতি অডিটোরিয়ামে জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান উদ্বোধন করা হয়। তার আগে তরুণীদের একটি দল তাদের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে মনোমুগ্ধকর দলগত নৃত্য পরিবেশন করে।
সমাবেশে প্রধান অতিথির পক্ষ থেকে নারীদের মধ্যে ২৬টি সেলাই মেশিন তুলে দেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে ৩৭টি সমতল জনগোষ্ঠীর শিল্পীরা স্ব-স্ব এলাকার নৃত্য পরিবেশন করেন। দেশের সমতল অঞ্চলের ১২টি জেলায় বসবাসরত ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
আপনার মতামত লিখুন :