ভ্রমণ মানেই শুধু ছবি তোলা আর জায়গা দেখা নয়, ভ্রমণ মানে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কার করা। কখনো পাহাড়ের নীরবতায়, কখনো সমুদ্রের ঢেউয়ে, আবার কখনো শতাব্দীপ্রাচীন কোনো শহরের অলিগলিতে হারিয়ে গিয়ে। এ বছর ঠিক এমনই এক বছর হতে চলেছে। বিশ্বের পর্যটন পরিকল্পনা নতুন অভিজ্ঞতা, নতুন গন্তব্য আর নতুন দৃষ্টিভঙ্গির দিকে এগোচ্ছে।
এই বদলে যাওয়া ভ্রমণধারার প্রেক্ষাপটে আন্তর্জাতিক ভ্রমণবিষয়ক ম্যাগাজিন টাইম আউট তাদের সম্পাদকদের চোখে দেখা ২০২৬ সালের সেরা ভ্রমণ গন্তব্যগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করেছে। দক্ষিণ আফ্রিকা, ইউরোপ, উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা, এশিয়া-প্যাসিফিক বিশ্বের নানা প্রান্তে বসবাস করা স্থানীয় লেখকেরা নিজেদের অভিজ্ঞতা, পর্যবেক্ষণ আর ভ্রমণ প্রবণতার ভিত্তিতে বেছে নিয়েছেন এই জায়গাগুলো।
বিশ্ব যখন আবার ভ্রমণের ছন্দে ফিরছে, তখন কোথায় গেলে পাওয়া যাবে কম ভিড়, দারুণ অভিজ্ঞতা আর সত্যিকারের স্বস্তি—এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতেই এই তালিকা। যাঁরা এ বছরে একটু ভিন্নভাবে পৃথিবীকে দেখতে চান, তাঁদের জন্য এটি শুধু গন্তব্যের তালিকা নয়, নতুন এক ভ্রমণ দর্শনের দিকনির্দেশনা।
১। কানাডিয়ান রকি পর্বত
কানাডিয়ান রকি বহুদিন ধরে প্রকৃতিপ্রেমীদের স্বপ্নের জায়গা। ২০২৫ সালে লেক লুইসের তীরে চালু হয়েছে নতুন থার্মাল স্পা ‘বেসিন গ্লেসিয়াল ওয়াটার্স’। বরফঠান্ডা হ্রদ, পাহাড়ঘেরা পরিবেশ, ফিনিশ সাউনা ও হট-স্টোন থেরাপি সব মিলিয়ে এটি এক অনন্য অভিজ্ঞতা। সঙ্গে আছে বিশ্বের সেরা ট্রেনযাত্রার একটি, রকি মাউন্টেনিয়ার।
২। মরক্কোর রাবাত
মরক্কোর রাজধানী রাবাত এ বছর নতুন করে আলোচনায় আসছে। বিখ্যাত স্থপতি জাহা হাদিদের নকশায় তৈরি ‘থিয়েটার রয়্যাল দে রাবাত’ উদ্বোধনের অপেক্ষায়। পাশাপাশি ইউনেসকোর ‘ওয়ার্ল্ড বুক ক্যাপিটাল’ হওয়ায় বছরজুড়ে থাকবে বই, সংস্কৃতি আর সাহিত্য উৎসব।
৩। আলগোদোয়েস, বাহিয়া, ব্রাজিল
ব্রাজিলের বাহিয়া অঞ্চলের ছোট্ট গ্রাম আলগোদোয়েস এখনো তুলনামূলকভাবে অক্ষত। সাদা বালুর সৈকত, সমুদ্রে মিশে যাওয়া নদী, আর পায়ের নিচে বালু রেখে নারকেল পানি বা কাইপিরিনহা—সব মিলিয়ে এক স্বর্গ। নৌকাভ্রমণে কাছের জলপ্রপাত আর সৈকতগুলো বড় আকর্ষণ।
৪। হামবুর্গ, জার্মানি
জার্মানির দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর হামবুর্গ সংস্কৃতি আর শিল্পকলায় বরাবরই এগিয়ে। এ বছর এখানে খুলছে ইউরোপের সবচেয়ে বড় ডিজিটাল আর্ট মিউজিয়াম। নতুন অপেরা হাউস, নদীর ধারের আধুনিক এলাকা। বার্লিনের সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার মতো এক শহর এটি।

৫। মাউন্ট কুক, নিউজিল্যান্ড
নিউজিল্যান্ডের সর্বোচ্চ শৃঙ্গের এলাকা মাউন্ট কুক হাঁটাপথ আর ট্রেকিংয়ের জন্য আদর্শ। ২০২৬ সালে এখানে খুলবে দেশের সবচেয়ে দীর্ঘ পদচারী ঝুলন্ত সেতু। পাহাড়ি দৃশ্য আর তারাভরা আকাশ দেখতে কাছের লেক টেকাপোও ঘুরে আসা যায়।
৬। মেন্ডোজা, আর্জেন্টিনা
বিশ্বখ্যাত মদ উৎপাদন অঞ্চলের একটি মেন্ডোজা। মালবেক ওয়াইন, আন্দিজ পাহাড়ের পাদদেশে দ্রাক্ষাক্ষেত্র, আর দুর্দান্ত খাবার সব মিলিয়ে বিলাসী কিন্তু স্বচ্ছন্দ ভ্রমণ অভিজ্ঞতা।
৭। সিরেন্সেস্টার, ইংল্যান্ড
কটসওল্ডস অঞ্চলের সুন্দর শহর সিরেন্সেস্টার অতিরিক্ত ভিড় থেকে বেরিয়ে ঐতিহ্য উপভোগের দারুণ জায়গা। রোমান ইতিহাস, পুরোনো স্থাপনা, বাজার আর গ্রাম্য জীবন সবই আছে এখানে।
৮। মধ্য ভিয়েতনাম
আন্তর্জাতিক ভ্রমণকারীদের নতুন গন্তব্য মধ্য ভিয়েতনাম। দা নাং শহরে নতুন বিলাসবহুল হোটেল, হুয়েতে ঐতিহাসিক পুনরুদ্ধার, আর সমুদ্র ও বালিয়াড়ি অ্যাডভেঞ্চার আর বিশ্রামের সুন্দর মিশেল।

৯। নেপাল
পাহাড়প্রেমীদের স্বর্গ নেপাল এ বছরে আরও ভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। কম ভিড়ের ট্রেইল, ওয়েলনেস রিট্রিট, ডিজিটাল ডিটক্স—সব মিলিয়ে আত্মিক প্রশান্তির এক অনন্য জায়গা।
১০। ফাভিনিয়ানা, সিসিলি
সিসিলির পশ্চিম উপকূলের কাছে ছোট দ্বীপ ফাভিনিয়ানা। স্বচ্ছ নীল সমুদ্র, সিনেমার মতো সৈকত আর গ্রাম্য পরিবেশ—সব মিলিয়ে ইউরোপের এক লুকানো রত্ন। পর্যটকের ভিড় বাড়ার আগে ঘুরে আসাই বুদ্ধিমানের।
এ বছর ঘোরাঘুরির জন্য দারুণ সম্ভাবনাময়। পাহাড়, সমুদ্র, ইতিহাস কিংবা আধুনিক সংস্কৃতি—যেটাই আপনার পছন্দ হোক, টাইম আউটের এই তালিকায় রয়েছে সবার জন্যই কিছু না কিছু। এখনই পরিকল্পনা শুরু করে দিতে পারেন এ বছর কোথায় ঘুরতে যাবেন।
সূত্র: লোনলি প্লানেট








































আপনার মতামত লিখুন :