Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১০ ফাল্গুন ১৪৩২

প্রতিবন্ধী মেয়ে ও দুই এতিম নাতনিকে নিয়ে অসহায় জীবন বৃদ্ধা জহুরার


দৈনিক পরিবার | স্টাফ রিপোর্টার ফেব্রুয়ারি ২২, ২০২৬, ০২:২৩ পিএম প্রতিবন্ধী মেয়ে ও দুই এতিম নাতনিকে নিয়ে অসহায় জীবন বৃদ্ধা জহুরার

‘কখনো মানুষের বাড়ি গিয়ে সাহায্য চাই, কখনো আত্মীয়-স্বজনের বাড়িতে গিয়ে কাজ করলে কোনোমতে খাবার জোটে। কোনো দিন দুই বেলা খেতে পারলেও আরেক বেলা না খেয়ে থাকতে হয়, আবার কোনো কোনো দিন না খেয়েই থাকতে হয়।’
কান্নাজড়িত কণ্ঠে বিধবা বৃদ্ধা জহুরা খাতুন বলছিলেন তার এক প্রতিবন্ধী মেয়ে ও দুই এতিম নাতনির তিন বেলা খেতে না পারার কষ্টের কথা। তাদের মাথা গোঁজার ঠাঁই টিনের ঘরটিও অনেকটা থাকার অনুপযোগী হয়ে আছে।
এ অসহায় নারীদের বসবাস ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার দক্ষিণ আইচা থানাধীন চরমানিকা ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডে।  অভিযোগ রয়েছে- জহুরার কাছে পৌঁছায়নি কোনো সরকারি সুযোগ-সুবিধা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, পরিবারটির একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তি ছিলেন বৃদ্ধা জহুরা খাতুনের বড় ছেলে মো. মিজান। স্থানীয় বাজারে ছোট্ট একটি ব্যবসা করেই চালাতেন মা-বোন ও স্ত্রী-সন্তানসহ ৭ সদস্যের পরিবার। কিন্তু প্রায় তিন বছর আগে তিনি লিভার ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। তার মৃত্যুতে সংসারের উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে দুঃখের সাগরে নিমজ্জিত হয় পরিবারটি। পরবর্তীতে সংসারে ক্ষুধার জ্বালা সইতে না পেরে মিজানের স্ত্রী সুরমা বেগম ছোট দুই সন্তানকে রেখে চলে যান।
বর্তমানে ওই পরিবারে ৪ সদস্য রয়েছেন। তারা হলেন- মিজানের বৃদ্ধা মা জহুরা খাতুন (৭২) প্রতিবন্ধী বোন তাছলিমা বেগম (২৫) বড় মেয়ে তহমিনা (১৬) ও ছোট মেয়ে মুনতাহা (১২)।
বৃদ্ধা জহুরা খাতুন বলেন, ‘আমার স্বামী মইররা যাওয়ার পরে একটা পোলা আছিল, ক্যান্সারে পোলাডাও মইররা গেল। টাকার অভাবে পোলাডার চিকিৎসা করাইতে পারি নাই। পোলাডা কামাই কইররা সংসার চালাতো, এহন আমার পোলাও নাই সংসার চালানোর মানুষও নাই। আমাগো দুঃখ দেখার কেউই নাই। খাইয়া আছি নাকি না খাইয়া আছি দেখার কেউ নাই। কেউ দয়া করে কিছু দিলে খাই, না হলে উপোস থাকি। বৃষ্টি আইলে টিনের ছিদ্র দিয়া ঘরের মধ্যে পানি পড়ে, জোরে বাতাস আইলে মনে হয় ঘরডাও ভাইঙা পড়বো। আমারে কেউ একটা ভাতার কার্ডও করে দেয়নি। কতজনের কাছে গেলাম। এহন সরকারের সাহায্য ছাড়া আর চলার কোনো পথ নাই আমাগো।
মিজানের বড় মেয়ে তহমিনা বলেন, আমি স্থানীয় একটি মাদরাসায় দশম শ্রেণিতে পড়ি আর ছোট বোন সপ্তম শ্রেণিতে পড়ে। বাবা বেঁচে থাকতে আমাদের কোনো কষ্ট ছিল না। তিনি আমাদেরকে অভাব বুঝতে দেননি। বাবা মারা যাওয়ার পর এখন ঠিকমতো খেতেও পারি না। অর্থের অভাবে ঠিকমতো পড়াশোনার খরচও চালাতে পারে না পরিবার।
স্থানীয় বাসিন্দা মাহাদী হাসান, মো. জুয়েল ও আলী আহমেদ বলেন, পরিবারটি খুবই অসহায়। পবিত্র রমজান মাসেও খাবার জোগাড়ের চিন্তা থাকতে হয় ওই ৪ নারীর, এটি দুঃখজনক। তাছাড়া তাদের বসতঘরটির অবস্থাও বেশ নাজুক, জোরে বাতাস আসলে যেকোনো মুহূর্তে ঘরটিও ভেঙে মাটির সাথে মিশে যাওয়ার ভয় রয়েছে। সবমিলিয়ে তাদের দুঃখের শেষ নেই। আমরা চাই সরকার ও সমাজের বিত্তবানরা যেন এ অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ায়।
এদিকে সরকারের পাশাপাশি সমাজের বিত্তবানদের সাহায্য-সহযোগিতা পেলে মিজানের পরিবারের দুঃখ লাঘব হবে এবং তারা স্বাভাবিক জীবনে ফিরবে বলে প্রত্যাশা মিজানের পরিবার ও স্থানীয়দের। পরিবারটিকে সহযোগিতার জন্য ০১৭৮৭-৭৫৩৪৭১ নম্বরে যোগাযোগ করতে পারেন।  

Side banner