Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০
অ্যাডভোকেট মীর আব্দুল হালিম কর্তৃক

ডক্টর রওশন আলম কলেজে বই বিতরণ


দৈনিক পরিবার | বাঞ্ছারামপুর প্রতিনিধি মে ১১, ২০২৩, ১০:৫৪ পিএম ডক্টর রওশন আলম কলেজে বই বিতরণ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে ডক্টর রওশন আলম কলেজে ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের একাদশ শ্রেণীর আর্থিক অসচ্ছলতা ও সামাজিক প্রতিবন্ধকতার কারণে পিছিয়ে পড়া মেধাবী শিক্ষার্থীদের মধ্যে পাঠ্যপুস্তক ও শিক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। বাংলাদেশে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাঞ্ছারামপুরের কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট মীর আব্দুল হালিম। তিনি জানান, শিক্ষা বিষয়ক সচেতনতা বাড়ানো, সমাজের সচ্ছল ও শিক্ষানুরাগী শ্রেণিকে এ ধরনের কাজে উৎসাহিত করতে এই উদ্যোগে অংশগ্রহণ করেন। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বই পড়া উৎসাহিত করতে জীর্ণ ও পুরাতন লাইব্রেরীগুলিকে সংস্কার করা, প্রয়োজনীয় নতুন বই সংগ্রহে উৎসাহিত করা,  স্থানীয় প্রতিষ্ঠিত ও আর্থিক সচ্ছল শিক্ষানুরাগীদেরকে এ কাজে সংযুক্ত করা সময়ের দাবি। মোবাইল প্রযুক্তি ও নেশার কারণে পিছিয়ে পড়া ছাত্রসমাজকে আলোর পথে ফিরিয়ে আনতে বই নিয়ে কাজ করতে হবে। অনেক হৃদয়বান মানুষ নানাভাবে সমাজের জন্য অর্থ ব্যয় করে, অনুসন্ধান করে তাদের সহযোগিতাকে বইয়ের পেছনে সংযুক্ত করার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
আর্থিক অসচ্ছল ও সমাজের পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর মাঝে আলো ছড়ানোর জন্য সকলের সমন্বিত উদ্যোগ ও সহযোগিতা প্রয়োজন। অসম্ভব দুরন্ত মেধাবীরা সহযোগিতা পেলে একদিন দেশ ও বিশ্বজয় করবে আর ফিরে আসবে আলোর মশাল নিয়ে, মায়ের পাশে, গাঁয়ের কাছে। বই গ্রহণকারী শিক্ষার্থীরা বই পেয়ে আনন্দিত হয় এবং আগামী দিনে ভালো কিছু করার ও স্বপ্ন দেখার কথা দৃঢ়ভাবে ব্যক্ত করে।
সংক্ষিপ্ত মতবিনিময়ে তিনি বলেন, বই হল অতীত ও ভবিষ্যতের মেলবন্ধন, সভ্যতার রক্ষাকবচ। বইয়ের মাধ্যমে অতীতকে জানা যায় যা ভবিষ্যতের ভিত রচনা করে। এভাবেই সভ্যতার নিদর্শন টিকে থাকে যুগে যুগে। বই হচ্ছে মস্তিষ্কের সন্তান, বই পোড়ানোর চেয়েও গুরুতর অপরাধ হলো বই না পড়া। বই পড়তে প্রতিযোগিতা করুন। বই জীবনকে বদলে দেয়, বই মুক্তি দেয় আর্থিক অসচ্ছলতা থেকে, বই মুক্তি দেয় সামাজিক প্রতিবন্ধকতা থেকে। তাই আসুন বই পড়ি, বই বিতরণ করি আর গড়ি মুক্তি ও শক্তির সাম্রাজ্য, সকলের জন্য মুক্ত হোক পৃথিবী। বই হোক সার্বজনীন আনন্দের খোরাক। উচ্চ মাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে সরকার কর্তৃক বই ফ্রি বিতরণ করলে শিক্ষার হার দ্রুত শতভাগে পৌঁছাবে। অনেক পরিবার সন্তানদের নতুন বই কিনে দেওয়ার সামর্থ্য রাখে না, তাদের জন্য প্রতিটি এলাকার মহতি মানুষেরা যদি এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণ করে তাহলে সমাজ দ্রুত-বিকাশিত হবে।
আমাদের ধর্ম গ্রন্থ কুরআনে ৯২ জায়গায় জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার প্রসঙ্গ এসেছে যার শুরু "পড় তোমার প্রভুর নামে, যিনি সৃষ্টি করেছেন...যিনি মানুষকে কলমের সাহায্যে শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি মানুষকে এমন সব বিষয় শিক্ষা দিয়েছেন, যা সে জানত না।"  হাদিসের আলোকে "জ্ঞান অর্জন করা প্রত্যেক মুসলমান নর-নারীর ওপর ফরজ" বলে উৎসাহিত করা হয়েছে। তাছাড়া অন্যান্য ধর্মেও জ্ঞানচর্চাকে উৎসাহিত করা হয়েছে।
উক্ত কলেজের অধ্যক্ষ বই বিতরণের এই মহতি উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, সমাজের সক্ষম ও শিক্ষানুরাগী ব্যক্তিরা এভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিলে আর্থিক ও সামাজিকভাবে পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীরা অনেক উপকৃত হবে, শিক্ষার হার বাড়বে ও সমাজ আলোকিত হবে। সমাজের বহু সংখ্যক মানুষ এ ধরনের মহতি কাজে যুক্ত হোক তিনি এই আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন কলেজের অধ্যক্ষ মো. রফিকুল ইসলাম, অন্যান্য শিক্ষকবৃন্দ, ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মোহাম্মদ কাইয়ুম খান, মোহাম্মদ মাইনুদ্দিন, ফরদাবাদের প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক আব্দুস সাত্তার সরকার, চরলহনিয়ার প্রবীণ রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক আব্দুল করিম, বিশিষ্ট সমাজসেবক আব্দুর রহিম সরকার, বিশিষ্ট সমাজসেবক প্রবাসী আবুল খায়ের, সাবেক ইব্রাহিম মেম্বারসহ গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।

 

Side banner