Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬, ৯ মাঘ ১৪৩২

ভাদেশ্বরে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হলো বই দরকারের নতুন প্রজেক্ট


দৈনিক পরিবার | আদনান খান আদিব জানুয়ারি ২২, ২০২৬, ০৭:৫৯ পিএম ভাদেশ্বরে শিক্ষার্থীদের জন্য চালু হলো বই দরকারের নতুন প্রজেক্ট

তরুণ শিক্ষার্থীদের দ্বারা গঠিত ব্যতিক্রমধর্মী সংগঠন ‘বই দরকার ভাদেশ্বর’ শুরু করলো আরেকটি মানবিক ও শিক্ষাবান্ধব প্রকল্প WishBox। ২০২৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই সংগঠনটি শিক্ষার্থীদের প্রয়োজন ও সহায়তার লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে নীরবে কাজ করে আসছে।
সংগঠনটির চলমান কার্যক্রমগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো পুরাতন বই সংগ্রহ ও বিতরণ। শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে তাদের পূর্ববর্তী শ্রেণির বই ও গাইড সংগ্রহ করে আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের মাঝে তা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয়। কোনো শিক্ষার্থীর নির্দিষ্ট বইয়ের প্রয়োজন হলে আবেদন সাপেক্ষে তা সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়; প্রয়োজনে নতুন বই বা গাইড ক্রয়ের জন্য পৃষ্ঠপোষকও খুঁজে দেওয়া হয়।
শুরুতে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের জন্য এ উদ্যোগ নেওয়া হলেও বর্তমানে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে অনার্স ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্যও সহায়তা বিস্তৃত করার প্রচেষ্টা চলছে। এই কার্যক্রমের সবচেয়ে প্রশংসনীয় দিক হলো যেসব শিক্ষার্থী বই বা গাইড পান, তাদের পরিচয় গোপন রাখা হয়। এর মাধ্যমে একটি কার্যকর রিসাইকেল প্রক্রিয়া তৈরি হয়েছে, যেখানে একটি বই সময়ের সাথে একাধিক শিক্ষার্থীর কাজে আসে।
এছাড়াও সংগঠনটি পরিচালনা করছে শিক্ষামূলক পরামর্শ সেবা, যার মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা সংক্রান্ত দিকনির্দেশনা ও প্রয়োজনীয় সহযোগিতা প্রদান করা হয়। আরেকটি উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ হলো ‘পাঠক স্টেশন’ যেখানে যে কেউ বিনামূল্যে বই পড়ার জন্য নিতে পারেন এবং চাইলে অন্যদের পড়ার সুযোগ করে দিতে নিজের বই জমা দিতে পারেন। মোবাইল-আসক্ত সমাজে বইপাঠে আগ্রহ বাড়াতে এ উদ্যোগ বিশেষ ভূমিকা রাখছে। বর্তমানে ভাদেশ্বর মোকাম বাজারে তাদের একটি পাঠক পয়েন্ট (অস্থায়ী লাইব্রেরি) চালু রয়েছে।
এবার এই ধারাবাহিক মানবিক কার্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত হলো নতুন প্রকল্প WishBox। এই প্রকল্পের আওতায় ভাদেশ্বরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পর্যায়ক্রমে একটি করে WishBox স্থাপন করা হবে। শিক্ষার্থীরা সেখানে চিঠির মাধ্যমে তাদের প্রয়োজন বা ইচ্ছার কথা জানাতে পারবে। কারো প্রয়োজন হতে পারে একটি স্কুল ব্যাগ, কারো ছাতা, কারো গাইড বই, ক্যালকুলেটর কিংবা স্কুলের বেতন এই ছোট ছোট চাহিদাগুলোই অনেক সময় শিক্ষাজীবনে বড় প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়ায়।


প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের জানানো মতে, প্রতি মাসের শেষে WishBox থেকে চিঠিগুলো সংগ্রহ করা হবে। প্রয়োজন যাচাই ও সংশ্লিষ্ট শিক্ষকদের সহায়তায় নির্বাচিত তিনজন শিক্ষার্থীকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হবে। স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের আর্থিক অবস্থা যাচাইয়ে শিক্ষকদের মতামত নেওয়া হবে। এক মাস একটি প্রতিষ্ঠানে কার্যক্রম পরিচালনার পর পরবর্তী মাসে WishBox অন্য একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে স্থানান্তর করা হবে। এভাবে মাসে মাসে ভাদেশ্বরের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ঘুরে ঘুরে বছরব্যাপী এই প্রকল্প পরিচালিত হবে।
গত ২১ জানুয়ারি ২০২৬ ইংরেজি ভাদেশ্বর ছলিমা খানম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এই নতুন প্রকল্পের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।
উল্লেখ্য, এই মানবিক উদ্যোগ বাস্তবায়নে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন কানাডা প্রবাসী বাংলাদেশি আগামী পাঁচ মাসের ব্যয়ভার বহন করছেন। তাঁর এই মহৎ সহযোগিতার জন্য প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। 

Side banner