ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে তারেক রহমান বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে এসেছেন বলে মন্তব্য করেছেন দৈনিক মানবজমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী। তিনি বলেন, সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে সম্মিলিতভাবে করতে হবে।
শনিবার (১০ জানুয়ারি) রাজধানীর বনানীর হোটেল শেরাটনে জাতীয় সংবাদপত্র, রেডিও, টেলিভিশন, সংবাদ সংস্থা এবং অনলাইন মিডিয়ার সম্পাদক এবং সাংবাদিকদের সঙ্গে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে দৈনিক আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান বলেন, শেখ মুজিবুর রহমান মুক্তিযুদ্ধের সাথে জড়িত ছিলেন না।
তিনি জানতেন না মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে হয়েছে এবং তিনি ফিরে এসেও জানার চেষ্টা করেন নাই মুক্তিযুদ্ধ কীভাবে হয়েছে। তাকে আওয়ামী লীগের লোকজন যা বলেছে এবং ভারতীয় পক্ষ যা বলেছে, সেটাকেই তিনি ধরে নিয়েছিলেন। ভেবেছিলেন এটাই মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস। এজন্যই তিনি ব্যর্থ হয়েছিলেন।
তারেক রহমানের উদ্দেশে মাহমুদুর রহমান বলেন— তারেক রহমান, আপনি ১৭ বছর দেশে ছিলেন না। আপনি জানেন না এখানে কী হয়েছে। আপনার লোকজন আপনাকে যা বলেছে সেটাই আপনি শুনেছেন। এখন যারা মিডিয়ার নতুন বন্ধুরা আপনাকে যেটা বলছে, সেটাই আপনি শুনছেন। আপনি মনে করছেন, এটাই বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস। বাংলাদেশের ১৭ বছরের ইতিহাস এটা না। সেই ইতিহাস আমি বর্ণনা করব। ভবিষ্যতে যদি আপনি এরকম কোনো অনুষ্ঠানের আয়োজন করেন সেখানে।
দৈনিক মানব জমিনের প্রধান সম্পাদক মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন, আমরা লিখতে চাই, আমরা বলতে চাই।
মিডিয়া ২০২৪ এর ৫ আগস্টের পর অনেকটাই স্বাধীন। অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত। নিয়ন্ত্রিত এই কারণে বলছি মব ভায়োলেন্সের কারণে আমরা সাহসী হতে পারছি না। আমাদের হাত-পা বাঁধা হয়ে যাচ্ছে। মিডিয়া অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়, সংবাদপত্র অফিসে যখন আগুন দেওয়া হয়, তখন আমার ভাবতে কষ্ট লাগে যে আমরা জাহান্নামে আছি না বেহেশতে আছি।
তারেক রহমানের কাছে প্রত্যাশার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ইতিহাসের এক যুগসন্ধিক্ষণে তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে এসেছেন। সামনে কঠিন চ্যালেঞ্জ। এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হলে সম্মিলিতভাবে করতে হবে। দলের মধ্যে থেকে যদি করার চেষ্টা করা হয় তাহলে অতীতের মতোই কিন্তু ভুল হবে। সেই ভুল থেকে এমন একটা অবস্থায় চলে যাব, যেখান থেকে আমাদের ফিরে আসা কঠিন হবে।
দেশ অস্তিত্বের সংকটে পড়ে যাচ্ছে উল্লেখ করে মতিউর রহমান চৌধুরী বলেন বলেন, যে উগ্রবাদ আমাদের গ্রাস করার চেষ্টা করছে, এই উগ্রবাদ থেকে দেশকে মুক্ত করতে হলে তারেক রহমান ছাড়া এই মুহূর্তে আর কোনো বিকল্প নেই।
ইংরেজি দৈনিক ডেইলি স্টারের সম্পাদক মাহফুজ আনাম বলেন, আমরা গণতন্ত্র, স্বাধীন সাংবাদিকতা ও সুশাসন চাই। এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি এবং আপনাকেও (তারেক রহমান) নিশ্চয়ই অনেকে বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, একটি দু’টি বিষয়ে মনে হয় যথেষ্ট আলোচনা হচ্ছে না। সেটা হচ্ছে বাংলাদেশের অগ্রগতির জন্য আগামীর চ্যালেঞ্জগুলো কী। আমি মনে করি, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ক্লাইমেট চেঞ্জ। এ নিয়ে কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো অত আলোচনা করছে না। বাংলাদেশ কিন্তু একদম ফ্রন্টলাইন দেশের মধ্যে কয়েকটা। ক্লাইমেট চেঞ্জের কী যে ইমপ্যাক্ট হবে এটা অলরেডি কোস্টাল এরিয়াতে দেখতে পাচ্ছি।
দৈনিক কালের কণ্ঠের সম্পাদক ও জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি কবি হাসান হাফিজ বলেছেন, আমরা সাংবাদিকবান্ধব প্রশাসন চাই। দীর্ঘ দেড় দশক আমরা মিডিয়া ট্রায়াল দেখেছি, দুঃখজনকভাবে আমাদের হেয় করেছে, রাষ্ট্রযন্ত্র মিডিয়াকে কীভাবে প্রভাবিত করে যা দেশের জন্য সুখকর নয়। আমরা এ ধরনের পরিস্থিতি আর দেখতে চাই না। একটা নতুন বাংলাদেশ গড়ার সুযোগ পেয়েছি। আমরা দেখেছি গোয়েন্দা-শাসিত মিডিয়া। রিক্রুটমেন্টের ক্ষেত্রেও তাদের অনেক কথা সহ্য করতে হয়েছে। এমন পরিস্থিতি আমরা দেখতে চাই না।
তিনি বলেন, আমরা মতপ্রকাশের স্বাধীনতা চাই, যা দেখিয়ে গেছেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও খালেদা জিয়া।
নিউজ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, এমন সময়ে সবাই সমবেত হয়েছি যখন একটা পুরনো স্বৈরতান্ত্রিক একটা ব্যবস্থা গণঅভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটেছে। যেই জন্যে মানুষের এত আত্মদান, সেই আত্মদানের ভিত্তিতে মানুষের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়ে উঠবার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি আমরা। কিন্তু সেটা এখনো গড়ে ওঠে নাই।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে আমরা রাজনীতির সংস্কৃতির নানা ধরনের প্রবণতা দেখেছি। এটার মধ্যে ডান, বাম, মধ্যবর্তী সকল রাজনৈতিক ধারা সক্রিয় ছিল। আবার এগুলোর সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নন, সাধারণভাবে একটা শান্তিপূর্ণ সামাজিক রাজনৈতিক অবস্থা দেখতে চান— এমন লক্ষ লক্ষ মানুষ ছিল। তাদের আত্মদান আছে। এই সময়ে পরস্পরকে দোষারোপ না করে রাজনৈতিকভাবে, সামাজিকভাবে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার দিকে এগোনোর আলোচনা হলে সময়ের প্রতি সুবিচার হবে।
নূরুল কবীর আরও বলেন, পৃথিবীতে এমন কোনো জায়গায় কখনোই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয় নাই, যেখানে গণমাধ্যমের আইনগত, রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক স্বাধীনতা ছিল না। ফলে গণতন্ত্রের জন্য সংগ্রাম আর মিডিয়ার গণতান্ত্রিক স্বাধীনতা এই দুইটা হাত ধরাধরি করে চলেছে। আমরা যদি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তর চাই তাহলে অবশ্যই গণতান্ত্রিক রাজনীতির পাশাপাশি একটা গণতান্ত্রিক সাংবাদিকতার পরিবেশ থাকতে হবে।








































আপনার মতামত লিখুন :