Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪, ৭ বৈশাখ ১৪৩১
২০২৪ অর্থ বছরের জন্য

২.৬৩ লাখ কোটি টাকার মূল এডিপি অনুমোদন এনইসি’র


দৈনিক পরিবার | পরিবার ডেস্ক মে ১২, ২০২৩, ১১:৪৯ এএম ২.৬৩ লাখ কোটি টাকার মূল এডিপি অনুমোদন এনইসি’র

জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ (এনইসি) পরিবহন এবং যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ ৭৫ হাজার ৯৪৫ কোটি টাকা (বরাদ্দের ২৮.৮৮ শতাংশ) বরাদ্দ দিয়ে আগামী অর্থবছরের (অর্থবছর ’২৪) জন্য ২ দশমিক ৬৩ লাখ কোটি টাকার মূল এডিপি অনুমোদন করেছে। এনইসি চেয়ারপারসন ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই অনুমোদন দেওয়া হয়।
মূল এডিপি বরাদ্দ ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকার মধ্যে, ১ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা আসবে স্থানীয় উৎস থেকে এবং ৯৪ হাজার  কোটি টাকা আসবে বিদেশী উৎস থেকে। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ১১ হাজার ৬৭৪ দশমিক ০২ কোটি টাকা বরাদ্দ বিবেচনায় সামগ্রিক এডিপির আকার ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৪ দশমিক ০২ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। সামগ্রিক এডিপি আকারে উন্নয়ন সহায়তা খাতে বরাদ্দ হিসাবে ৮ হাজার ৮৬ দশমিক ৮২ কোটি টাকা বরাদ্দও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মোট এডিপি বরাদ্দ ২ লাখ ৭৪ হাজার ৬৭৪ দশমিক ০২ কোটি টাকার মধ্যে, ১ লাখ ৭৯ হাজার ৮৯৫ দশমিক ০৯ কোটি টাকা আসবে স্থানীয় উৎস থেকে এবং ৯৪ হাজার ৭৭৮ দশমিক ৯৩ কোটি টাকা আসবে বিদেশী উৎস থেকে।
ব্রিফিফংয়ে পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী ড. শামসুল আলম, পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ও সংশ্লিষ্ট সচিবগণ উপস্থিত ছিলেন।
নতুন এডিপিতে মোট প্রকল্পের সংখ্যা ১ হাজার ৩০৯টি, যার মধ্যে ১ হাজার ১১৮টি বিনিয়োগ প্রকল্প, ২২টি জরিপ প্রকল্প, ৮০টি প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রকল্প এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও কর্পোরেশনের ৮৯টি  প্রকল্প রয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ড. শামসুল আলম বলেন, বিবিএসের সাময়িক হিসাব অনুযায়ী, বিদায়ী অর্থবছরে (২০২৩) বাংলাদেশের জিডিপি প্রবৃদ্ধি হবে ৬ দশমিক ০৩ শতাংশ।
এছাড়া চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল মেয়াদে এডিপি বাস্তবায়নের হার ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে, যাতে ব্যয় হয়েছে  ১ লাখ ১৯ হাজার ৬৪ দশমিক ৩৯ কোটি টাকা।
অপর এক  প্রশ্নের জবাবে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, বিদায়ী অর্থবছরে মাথাপিছু আয় টাকায় হিসাব করলে গত বছরের তুলনায় বেড়েছে।  এনইসি সভায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা তুলে ধরে পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী দেশের আত্মসম্মান ও মর্যাদা সব ক্ষেত্রে সমুন্নত রাখতে সংশ্লিষ্ট সকলকে বলেছেন।
শেখ হাসিনা অপ্রয়োজনীয় ব্যয় এবং বিলাসবহুল মানসিকতা পরিহার করে সরকারি ব্যয়ে সংযত থাকার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলকে সতর্ক থাকতে বলেছেন। প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে মান্নান বলেন, ‘আমরা খরচ করব, কিন্তু যেখানে প্রয়োজন সেখানে খরচ করতে হবে।’
পরিকল্পনা মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সরকারি কর্মচারিদের অপ্রয়োজনীয় বিদেশ ভ্রমণকে নিরুৎসাহিত করেছেন, বিকল্প রপ্তানি বাজার অন্বেষণ করতে বলেছেন, কারণ, বিগত বছরগুলোতে উৎপাদন ও রপ্তানিযোগ্য পণ্যের সংখ্যা বেড়েছে।
তিনি বলেন, গত বছরের তুলনায় এডিপির আকার বেড়ে যাওয়ায় প্রধানমন্ত্রী সভায় সন্তোষ প্রকাশ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বৈদেশিক প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ (এফডিআই) আকৃষ্ট করার ক্ষেত্রে প্রতিবন্ধকতা দূর করার ওপর গুরুত্বারোপ করে বিদেশি ঋণ সমর্থিত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট সচিবদের নির্দেশ দিয়েছেন।
মান্নান বলেন, প্রধানমন্ত্রী যেসব মন্ত্রণালয় ও বিভাগে আরও প্রকল্প গ্রহণ করার পর্যাপ্ত সক্ষমতা রয়েছে তাদের আরও প্রকল্প গ্রহণের এবং সাধারণভাবে সব মন্ত্রণালয় ও বিভাগকে প্রকল্প বাস্তবায়নের হার ত্বরান্বিত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের কঠোরতা অনুসরণের মাধ্যমে ব্যয় করতে হবে-প্রতিটি পয়সা যেখানে প্রয়োজন সেখানে বিধি-বিধান এবং জনগণের কল্যাণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য ব্যয় করতে হবে।’
‘আগামী সাধারণ নির্বাচনের আগে সরকার জনগণকে সন্তুষ্ট করার জন্য প্রকল্প গ্রহণ করবে কিনা জানতে চাইলে মান্নান এবং ড. আলম উভয়েই বলেন, সরকার তার নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের জন্য কাজ চালিয়ে যাবে। মান্নান আরও করেন, ‘আমরা আমাদের নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী কাজ চালিয়ে যাব... আমরা জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার জন্য কাজ করি।’
তিনি বলেন, এডিপি বাস্তবায়নের হার ত্বরান্বিত করতে আগামী বছরেও তাদের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
পরিকল্পনামন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী সম্প্রতি ওয়াশিংটন সফরকালে বিশ্বব্যাংককে বলেছেন যে বিশ্বব্যাংক আরও ঋণ দিলে বাংলাদেশ তা যথাসময়ে পরিশোধ করবে।
পরিকল্পনা বিভাগের সচিব সত্যজিৎ কর্মকার বলেন, এখন থেকে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে বৈদেশিক সাহায্যের পরিবর্তে প্রত্যক্ষ প্রকল্প ঋণ বা প্রত্যক্ষ প্রকল্প অনুদান শব্দটি ব্যবহার করবেন।
তিনি জানান যে এনইসি এডিপিতে জলবায়ু পরিবর্তন ট্রাস্ট ফান্ডের অধীনে করা বিনিয়োগ প্রতিফলনের একটি সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সত্যজিৎ বলেন, প্রধানমন্ত্রী পিছিয়ে থাকা মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোকে এডিপি বাস্তবায়নে সক্ষমতা বাড়াতে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালাতে বলেছেন।
তিনি আরও বলেন, মহিলা ও শিশু বিষয়ক এবং পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনের মতো মন্ত্রণালয়গুলো আরও প্রকল্প নিয়ে আসতে পারে।
সর্বোচ্চ ১০টি সেক্টরভিত্তিক বরাদ্দ বিবেচনায় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বরাদ্দ পেয়েছে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাত; প্রায় ৪৪,৩৯৩ কোটি টাকা (১৬.৮৮%), এরপর পেয়েছে শিক্ষা খাত; ২৯,৮৮৯ কোটি টাকা (১১.৩৬%), আবাসন কমিউনিটি সুবিধা ২৭,০৪৬ কোটি টাকা (১০.২৮%), স্বাস্থ্য খাত ১৮,৮৮০ কোটি টাকা (৭.১৮%), স্থানীয় সরকার ও পল্লী উন্নয়ন ১৬,২০৪ কোটি টাকা (৬.১৬%), কৃষি খাত ১০,৭০৭ কোটি টাকা (৪.০৭%), পরিবেশ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পানি সম্পদ ৮,৯৯৫ কোটি টাকা (৩.৪২%), শিল্প ও অর্থনৈতিক সেবা ৫,৩৬২ কোটি টাকা (২.০৪%) এবং বিজ্ঞান ও তথ্য প্রযুক্তি খাত ৫,৩২১ কোটি টাকা (২.০২%)।
অর্থ বছর ২৪-এর নতুন এডিপি অনুযায়ী সর্বোচ্চ ১০টি বরাদ্দ গ্রহীতা মন্ত্রণালয় ও বিভাগ হল- স্থানীয় সরকার বিভাগ ৪০,৫০৩ কোটি টাকা (বরাদ্দের ১৫.৪০%), সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ৩৪,০৬২ কোটি টাকা (১২.৯৫%), বিদ্যুৎ বিভাগ ৩৫৭৭ কোটি টাকা (১২.৮৪%), রেলপথ মন্ত্রণালয় ১৪,৯৬০ কোটি টাকা (৫.৬৯%), মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগ ১৪,০৮৬ কোটি টাকা (৫.৩৬%), বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় ১২,৯৮০ কোটি টাকা (৪.৯৪%), স্বাস্থ্য পরিষেবা বিভাগ ১২,২০৯ টাকা (৪.৬৪%), প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় ১২,০১৮ কোটি টাকা (৪.৫৭%), নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ৯,৪৭৪ কোটি টাকা (৩.৬০%) এবং সেতু বিভাগ ৯,০৬৪ কোটি টাকা (৩.৪৫%)।
নতুন এডিপিতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ প্রাপ্ত ১০টি প্রকল্পের মধ্যে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র প্রকল্প ৯,৭০৭ কোটি টাকা বরাদ্দ পেয়েছে এবং মাতারবাড়ী ২দ্ধ৬০০ মেগাওয়াট আল্ট্র্রা সুপার ক্রিটিক্যাল কোল-ফায়ারড পাওয়ার প্রকল্প (প্রথম সংশোধিত) পেয়েছে ৯,০৮১ কোটি টাকা, চতুর্থ প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (প্রথম সংশোধিত) (পিইডিপি-৪) ৮,৫৮৬ কোটি টাকা, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ (প্রথম সংশোধিত) ৫,৮৭০ কোটি টাকা, পদ্মা সেতু রেল লিংক (প্রথম সংশোধিত প্রকল্প) ৫,৫০০ কোটি টাকা, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সম্প্রসারণ, ১ম ধাপ (প্রথম সংশোধিত) ৫,৪৯৯ কোটি টাকা, ভৌত সম্ভাব্যতা উন্নয়ন (পিএফডি) (১ম সংশোধিত) ৪,৬৯৬ কোটি টাকা, ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-১) ৩,৯১১ কোটি টাকা, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব রেলওয়ে সেতু নির্মাণ প্রকল্প ৮৭ কোটি ৩৩ লাখ টাকা। ঢাকা মাস র‌্যাপিড ট্রানজিট ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (লাইন-৬) (দ্বিতীয় সংশোধিত) ৩,৪২৫ কোটি টাকা।

 

Side banner