Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ১১ জানুয়ারি, ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২

সৌদিআরবে প্রতারক লিটনের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ


দৈনিক পরিবার | প্রবাস ডেস্ক জানুয়ারি ১০, ২০২৬, ১১:৫৩ এএম সৌদিআরবে প্রতারক লিটনের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সদর উপজেলার চান্দপুর গ্রামের শাহ মোহাম্মদ মমিন ও সাহেরা বেগমের ছেলে শাহ মোহাম্মদ লিটন মিয়ার বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। সৌদিআরবের মদিনা শহরে সোনারগাঁ রেস্টুরেন্ট নামে ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে পার্টনার হিসেবে এড করবে, এই বলে মো. সারফরাজ নামে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীর কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেয়।  
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ জেলার ফতুল্লা থানার হাজীগঞ্জ গ্রামের মো. হরমুজ আলীর সন্তান মো. সারফরাজ। তিনি দীর্ঘদিন যাবত যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করছেন। প্রতিবছর ওমরার উদ্দেশ্যে সৌদিআরবের মক্কা ও মদীনায় আসেন। মাঝে মধ্যে মদীনা শহরের সোনারগাঁ রেস্টুরেন্টে খেতে যান। সেখানে পরিচয় হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর উপজেলার চান্দপুর গ্রামের শাহ মোহাম্মদ মমিন ও সাহেরা বেগমের ছেলে শাহ মোহাম্মদ লিটন এর সাথে। তারপর পরিচয় থেকে বন্ধুত্ব হয়। একপর্যায়ে শাহ মোহাম্মদ লিটন সারফরাজকে সৌদিআরবে রেস্টুরেন্ট ব্যবসা শুরু করার অনুরোধ করেন। এতে রাজী হন সারফরাজ। 
সূত্র থেকে আরও জানা যায়, মো. সারফরাজ সোনারগাঁ রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় অংশীদার হিসেবে পর্যায়ক্রমে শাহ মোহাম্মদ লিটনকে মদীনা এয়ারপোর্টে ১৮০০০০ ডলার প্রদান করেন। পাশাপাশি শাহ মোহাম্মদ লিটন বাংলাদেশেও টাকা প্রদান করতে বলেন এবং জানান সৌদিআরব রিয়েল কনভার্ট করে পাঠিয়ে ব্যবসায় ইনভেস্ট করবেন। 
ইতোমধ্যে সৌদিআরবের মদিনায় সোনারগাঁ রেস্টুরেন্ট ওপেন করেন। এরই মধ্যে শাহ মোহাম্মদ লিটনের কথামতো বাংলাদেশেও সারফরাজ বিভিন্ন লোকের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে তার প্রতিনিধিদের ৩ কোটি টাকা প্রদান করেন। একপর্যায়ে তিনি জানতে পারেন তার টাকা দিয়ে বাংলাদেশে বাড়ী নির্মাণ করেন শাহ মোহাম্মদ লিটন। এখানেই শেষ নয়, ওই টাকার একাংশ দিয়ে ঢাকায় ফ্ল্যাট কিনেন লিটন। 
অভিযোগ রয়েছে, বিভিন্ন লোকের কাছ থেকে শাহ মোহাম্মদ লিটন ও তার ভাই আদম ব্যবসার নাম করে টাকা পয়সা হাতিয়ে নেন। 
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সারফরাজ লিটনের প্রতারণার খপ্পরে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়েন। তিনি নারায়ণগঞ্জে তার পৈতৃক জমি বিক্রি করেন। পাশাপাশি আত্মীয় স্বজন হতে ধার দেনা করে ৩ কোটি টাকা লিটনকে বাংলাদেশে প্রদান করেন বলে জানান। 
সারফরাজ বলেন, শুরুর দিকে শাহ মোহাম্মদ লিটনের আচার ব্যবহারে আমি মুগ্ধ হয়েছিলাম। কিন্তু সে যে এতো বড় প্রতারক তা আমি ভাবতেও পারিনি। আমার টাকা নিয়ে সে সৌদিআরবে সোনারগাঁ রেস্টুরেন্ট খুলেছে, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বাড়ি করেছে, রাজধানী ঢাকায় ফ্ল্যাট করেছে। অথচ আমাকে কিছুই জানায়নি। সৌদিআরবের মদীনায় ব্যবসা চালু হওয়ার ১ বছর পার হলেও সে আমাকে ব্যবসার পার্টনার হিসেবে কাগজপত্র তৈরি করে দেয়নি। আমি চাপ প্রয়োগ করলে সে আমাকে বলে পেপারস সাবমিট হয়েছে, হয়ে যাবে। এভাবে আরও ১ বছর, প্রায় ২ বছর পার হয়ে গেল। আমি বললাম পার্টনার হিসাবে জমা দেওয়া কাগজ দেখাও, সে দেখাতে পারেনি। আমি চাপ প্রয়োগ করলে তখন সে বলে টাকা ফেরত দিয়ে দেবো। সে আজ পর্যন্ত একটি টাকাও ফেরত দেয়নি। ইতোমধ্যে আমি বুঝতে পারলাম শাহ মোহাম্মদ লিটন আমার সাথে প্রতারণা করছে আমি প্রতারণার ফাঁদে পড়ে গেছি। 
কান্নাজড়িত কণ্ঠে সারফরাজ আরও বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্রে প্রবাসী, অনেক কষ্ট করে উপার্জিত টাকা দিয়ে এখানে জমি ক্রয় করেছি। উক্ত জমিটা বিক্রি করে প্রতারক শাহ মোহাম্মদ লিটনকে ১৮০০০০ ডলার প্রদান করি। আমার কষ্টের উপার্জিত অর্থ ও শেষ সম্বল জমি বিক্রি করে তাকে টাকা প্রদান করেছি। আমি আমার কষ্টার্জিত অর্থ ফেরত পাওয়ার জন্য প্রশাসন ও রাষ্ট্রের কাছে আইনি সহায়তা কামনা করছি। আমি এই টাকার দুশ্চিন্তায় অসুস্থ হয়ে পড়েছি। 
এদিকে প্রতারক শাহ মোহাম্মদ লিটনের মোবাইলে ৯৬৬৫৬০৪৮৪৮৮৮ একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

Side banner