ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনটি ১৩টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা নিয়ে গঠিত। ২১৭.৩৮ বর্গকিলোমিটার আয়তনের এই উপজেলায় মোট ভোটার ২ লাখ ৮৯ হাজার ৬শত ৭৪ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১ লাখ ৪৭ হাজার ২শত ৬২ জন, মহিলা ভোটার ১ লাখ ৪২ হাজার ৪শত ১১ জন এবং হিজড়া ভোটার ২ জন। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসন থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১০ জন প্রার্থী। বিএনপি তার আসন শেয়ার করেছে যুগপৎ আন্দোলনের শরীক গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকির (জোনায়েদ সাকি) সাথে। এই আসনে জামায়েত ইসলামের প্রার্থী ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থীও রয়েছেন। এছাড়া বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করছেন ডক্টর সাইদুজ্জামান কামাল। ইসিতে জমা দেয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের ১০ জন প্রার্থীদের আয় ও সম্পদ এবং অন্যান্য বিষয় পর্যালোচনা করেছে দৈনিক পরিবার।
প্রার্থীদের মধ্যে আর্থিকভাবে স্বচ্ছল এবং সবচেয়ে ধনী স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ আবু কায়েস সিকদার। অন্যদিকে সম্পদের পরিমাণ সবচেয়ে কম ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমান। এছাড়া প্রার্থীদের মধ্যে সবচেয়ে শিক্ষিত ডক্টর সাইদুজ্জামান কামাল, মোহাম্মদ আবু কায়েস সিকদার ও এ্যাডভোকেট কেএম জাবির, অন্যদিকে সবচেয়ে কম (এসএসসি) ট্রাক প্রতীকের প্রার্থী সফিকুল ইসলাম।
মোহাম্মদ আবু কায়েস সিকদার: ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনে অর্থনৈতিকভাবে স্বচ্ছল এবং সবচেয়ে ধনী প্রার্থী মোহাম্মদ আবু কায়েস সিকদার। তার আয় পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, কৃষি খাত থেকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার, বাড়ি ভাড়া থেকে ১৪ লক্ষ ১০ হাজার, ব্যবসা থেকে ১০ লক্ষ ৩৮ হাজার ৮৯৬ টাকা, সম্মানী থেকে আয় করেন ৯৪ লক্ষ টাকা, এছাড়া শেয়ার থেকে ৩ লক্ষ ৯৫ হাজার ১৫৭ টাকা। তার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৯ কোটি ৪৪ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৫১ টাকা যার বর্তমান মূল্য ১৫ কোটি ৪৪ লক্ষ ৪৬ হাজার ৭৫১ টাকা। স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ৬ কোটি ১৪ লক্ষ ১০ হাজার ৩৯২ টাকা টাকার যার বর্তমান মূল্য ১০ কোটি টাকারও বেশি।
আয়কর রিটার্নের দেখানো বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ১ কোটি ১৩ লক্ষ ১১ হাজার ২৮৫ টাকা, যার বিপরীতে মোহাম্মদ আবু কায়েস সিকদার আয়কর পরিশোধ করেছেন ৩৫ লক্ষ ৮ হাজার ৮৪ টাকা।
জোনায়েদ সাকি: আয়ের দিক থেকে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী মো. জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি (জোনায়েদ সাকি)। তবে তার চেয়ে তার স্ত্রীর আয় বেশি। জোনায়েদ সাকি ব্যবসা থেকে আয় করেন ১ লক্ষ ২০ হাজার ১৪১ টাকা, ব্যাংক থেকে সুদ পান দুই হাজার ৭ শ ৯৫ টাকা। জোনায়েদ সাকি পেশা দেখিয়েছেন প্রকাশক, তিনি পেশা থেকে আয় করেন ৬ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা। তবে বাড়ি-দোকান ভাড়া-কৃষি জমি ও পেশা থেকে তার স্ত্রী আয় করেন ২৩ লক্ষ ৯ হাজার ২১১ টাকা। সাকির অস্থাবর সম্পত্তি নেই, স্থাবর সম্পত্তিতেও স্ত্রী এগিয়ে আছেন। সাকির স্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা, তার স্ত্রীর স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে ২৮ লক্ষ ৮৩ হাজার ৯৩৪ টাকা।
আয়কর রিটার্নের দেখানো জুনায়েদ সাকির মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ৭ লক্ষ ৭২ হাজার ৯৩৬ টাকা, যার বিপরীতে আয়কর পরিশোধ করেছেন ৩৭ হাজার ৫৮৪ টাকা।
মোহাম্মদ মহসিন মিয়া: বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মোহাম্মদ মহসিন প্রার্থীদের মধ্যে আয়ের দিক থেকে তৃতীয় অবস্থানে রয়েছেন। ব্যবসা থেকে তার বার্ষিক আয় ১৯ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা। তার ৫৯ লাখ ৮৩ হাজার ৯১০ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি থাকলেও তার কোন স্থাবর সম্পত্তি নেই।
আয়কর রিটার্নের দেখানো মোহাম্মদ মহসিন এর মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ১৯ লক্ষ ৭৭ হাজার টাকা, যার বিপরীতে আয়কর পরিশোধ করেছেন, ২ লক্ষ ৫১ হাজার ৭৫০ টাকা।
সফিকুল ইসলাম: ন্যাশনাল পিপলস পার্টির (এনপিপি) প্রার্থী মো. সফিকুল ইসলাম আয় করেন আইন পেশা থেকে । সেখান থেকে তার বার্ষিক আয় ৪ লক্ষ ৬২ হাজার ৪৫০ টাকা। যার বিপরীতে আয়কর পরিশোধ করেছেন ৫ হাজার টাকা। তার অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৬২ লাখ টাকা।
সাইদউদ্দিন খান জাবেদ: ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী সাইদউদ্দিন খান জাবেদের কোন আয় নেই। তার ৬২ লক্ষ ৭৬ হাজার ১১১ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু আয়কর রিটার্নের দেখানো মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ১০ লক্ষ ৫০ হাজার ১৩৩ টাকা, যার বিপরীতে আয়কর পরিশোধ করেছেন ৭৫ হাজার ২০ টাকা।
সফিকুল ইসলাম: গণঅধিকার পরিষদ (জিওপি) প্রার্থী সফিকুল ইসলামের ব্যবসা থেকে আয় ৫ লক্ষ টাকা, স্থাবর সম্পত্তিতে বাড়ি থাকার কথা উল্লেখ করলেও কোন মূল্য উল্লেখ নেই। তার ২০ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। কিন্তু আয়কর রিটার্নের দেখানো মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ৫ লক্ষ টাকা, যার বিপরীতে আয়কর পরিশোধ করেছেন ৩ হাজার টাকা।
এ্যাডভোকেট কে এম জাবির: জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির প্রার্থী এ্যাডভোকেট কে এম জাবিরের কৃষি খাত ও পেশা থেকে বার্ষিক ২ লক্ষ ৮৫ হাজার টাকা আয় করেন। তার ও তার স্ত্রী বর্তমান মূল্যে ১ কোটি টাকা করে ২ কোটির স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে। তার অস্থাবর সম্পতির বর্তমান মূল্য ১ কোটি ২৩ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা ও স্ত্রী ২৪ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা।
আয়কর রিটার্নের দেখানো স্বামী স্ত্রী মিলে মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ৩ লক্ষ ৭০ হাজার ২০০ টাকা, যার বিপরীতে কোন আয়কর পরিশোধ করেননি।
আবু নাসের: বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের প্রার্থী আবু নাসেরের চাকুরি থেকে আয় ৪ লক্ষ ৩০ হাজার টাকা। তার ২০ লক্ষ টাকার অস্থাবর সম্পত্তি থাকলেও কোন স্থাবর সম্পত্তি নেই।
আয়কর রিটার্নের দেখানো মোট বার্ষিক আয়ের পরিমাণ ১২ লক্ষ ৫৪ হাজার ৬৫০ টাকা, যার বিপরীতে কোন আয়কর পরিশোধ করেননি।
ডক্টর সাইদুজ্জামান কামাল: বিএনপির বিদ্রোহী প্রার্থী ডক্টর মো. সাইদুজ্জামান কামালের বাড়ি ভাড়া ও শেয়ার বন্ড থেকে বার্ষিক আয় ৩ লক্ষ ৪৫ হাজার ৯১ টাকা। যার বিপরীতে কোন আয়কর পরিশোধ করেননি। কামালের ৫৩ লক্ষ ২৬ হাজার ৫৩৮ টাকার অস্থাবর ও ৭৯ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার স্থাবর সম্পত্তি রয়েছে।
হাবিবুর রহমান: ইনসানিয়াত বিপ্লব বাংলাদেশের প্রার্থী মো. হাবিবুর রহমানের মোট সম্পদ আছে ৭ লক্ষ ৭০ হাজার টাকা। তার ট্যাক্স প্রদেয় আয় নেই বা স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নেই।








































আপনার মতামত লিখুন :