লক্ষ্মীপুর পৌর শহরের একটি প্রিন্টিং প্রেস থেকে ১৬ ঘর বিশিষ্ট ছয়টি ভোটের সিলসহ গ্রেফতার সোহেল রানাকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। এর আগে তিনি আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
জবানবন্দিতে সোহেল রানা সিল তৈরির (অর্ডার) নির্দেশদাতার নাম প্রকাশ করেন। জামায়াত নেতা শরীফ হোসেন সৌরভের নির্দেশে সিলগুলো তৈরি করেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) হোসাইন মোহাম্মদ রায়হান কাজেমী আসামির স্বীকারোক্তি ও জামায়াত নেতার সম্পৃক্ততার কথা নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, আমরা ছয়টি সিলসহ ব্যবসায়ী সোহেল রানাকে গ্রেফতার করেছি। তিনি স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, শরীফ হোসেন সৌরভ নামে এক ব্যক্তি তাকে দিয়ে সিলগুলো বানিয়েছেন। আমরা তাকে খুঁজছি। এ ঘটনায় পুলিশের উপপরিদর্শক হুমায়ুন কবির বাদী হয়ে দুইজনের নামে সদর মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। গ্রেফতার সোহেল রানাকে বিকেলে আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।
সিল তৈরির নির্দেশদাতার রাজনৈতিক পরিচয় জানতে চাইলে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বলেন, আমরা এটা ভেরিফাই করছি। তাকে আটকের পর ব্যাকগ্রাউন্ড পাবো। আমরা তার কিছু ছবি পেয়েছি, শুভেচ্ছা বার্তা পেয়েছি। তাকে আটকের পর বলা যাবে সে কোন দলের সদস্য।
তিনি বলেন, সিল বানানোর মানেই হচ্ছে জাল ভোট দেওয়ার প্রবণতা। আমাদের তদন্ত চলছে। আসামিকেও আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।
উল্লেখ্য মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে লক্ষ্মীপুর শহরের পুরাতন আদালত সড়কের ‘মারইয়াম প্রিন্টার্স’ নামক একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের মালিক মো. সোহেল রানাকে (৩৪) আটক করে সদর থানা পুলিশ। তিনি সদর উপজেলার টুমচর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের খুরশিদ আলমের ছেলে।
সোহেল জানান, গত ৩০ জানুয়ারি তার হোয়াটসঅ্যাপে সিলগুলো তৈরির অর্ডার দেন শরীফ। যিনি পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের সাধারণ সম্পাদক। এ ঘটনায় পুলিশ ওই দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে। পরে তাকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানায় জেলা জামায়াত।
লক্ষ্মীপুর পৌর জামায়াতের আমির আবুল ফারাহ নিশান বলেন, শরীফ ওয়ার্ড জামায়াতের কর্মী। এ ঘটনার পর তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। ঘটনাটি তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে।








































আপনার মতামত লিখুন :