ময়মনসিংহের গফরগাঁও খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয় ও ৪৮ নম্বর খারুয়া বড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে বছরের চার মাসই পানি জমে থাকে। এতে খেলাধুলা ও প্রতিদিনের ছাত্র সমাবেশসহ মাঠের সব কার্যক্রম দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকে।
২০১৭ সালে স্কুলভিত্তিক আন্ত জেলা ফুটবল খেলায় কলসিন্দুর উচ্চ বিদ্যালয় দলের সঙ্গে খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা ফাইনাল খেলায় অংশ নেয়। কিন্তু মাঠে পানি জমে থাকায় কয়েক বছর ধরে অনুশীলনের সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীরা ফুটবল খেলায় অংশ নিতে পারছে না।
স্থানীয় সূত্র জানায়, উপজেলার রাওনা ইউনিয়নের পাঁচুয়া ভাষা শহীদ আব্দুল জব্বার নগর সড়কের পাশে একই মাঠের দক্ষিণ দিকে খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয় ও পশ্চিম দিকে ৪৮ নম্বর খারুয়া বড়াইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় অবস্থিত। বিদ্যালয় দুটিতে সাড়ে চার শ’রও বেশি শিক্ষার্থী। মাঠের উত্তর-পশ্চিম দিকে শহীদ জব্বার পাকা সড়ক ও দক্ষিণ-পূর্ব দিকে জনবসতি থাকায় মাঠের পানি নিষ্কাশনের কোনো পথ নেই। ফলে বর্ষাকালে বৃষ্টির পানি জমে থাকে জুলাই থেকে অক্টোবর-নভেম্বর পর্যন্ত।
পানি বেশি হলে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দা তলিয়ে যায়। অথচ বিদ্যালয়ের পাশের ভাষাশহীদ আব্দুল জব্বার সড়কে একটি কালভার্টের ব্যবস্থা করলেই মাঠের পানি নিষ্কাশন করা সহজ হয়।
এ অবস্থায় বিদ্যালয় দুটির বার্ষিক ক্রীড়া, ফুটবল, প্রতিদিনের ছাত্র সমাবেশসহ মাঠের যাবতীয় কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ স্থানীয় প্রশাসন ও উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে বার বার আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পায়নি।
খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী স্বর্ণালী, নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাত, অস্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী অর্পিতা সরকার জানায়, মাঠে পানি থাকায় তারা খেলাধুলা করতে পারে না। প্রতিদিনের সমাবেশে অংশ নিতে পারে না।
খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক আব্দুল মজিদ বলেন, আগে খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ে ছয় শরও বেশি শিক্ষার্থী ছিল। কিন্তু মাঠের এই জলমগ্ন অবস্থায় খেলাধুলার সুযোগ না থাকায় প্রায় অর্ধেক শিক্ষার্থী অন্য বিদ্যালয় ও মাদরাসায় চলে গেছে।
খারুয়া বড়াইল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বীনা দেবনাথ বলেন, শুধু মাঠের উন্নয়ন নয়, আমার বিদ্যালয়ের তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর মধ্যে বহু শিক্ষার্থী বাইসাইকেল নিয়ে বিদ্যালয়ে আসে। কিন্তু বিদ্যালয়ে একটি সাইকেল স্ট্যান্ড না থাকায় এখানেসেখানে সাইকেল রাখায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়। মাঠের পানি নিষ্কাশন ও সাইকেল স্ট্যান্ড নির্মাণের জন্য উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছি।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোফাখখারুল ইসলাম বলেন, বিদ্যালয়টি পরিদর্শন করে একটি প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠের পানি নিষ্কাশনের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
আপনার মতামত লিখুন :