ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ইউনিয়নের বাঁশগাড়ি গ্রামের কৃতি সন্তান মো. মমিনুল হক। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির একজন ত্যাগী ও পরীক্ষিত নেতা। বাঁশগাড়ি গ্রামের সম্ভ্রান্ত বড়বাড়ির সামসুল হকের বড় ছেলে মমিনুল হক তৃণমূল থেকে উঠে আসা রাজপথের একজন পরীক্ষিত সৈনিক। বিএনপির দুর্দিনের পরীক্ষিত সৈনিক মমিনুল হক দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে দলীয় আদর্শ থেকে একচুলও বিচ্যুত হননি। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত এই ত্যাগী নেতা নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েও আন্দোলন-সংগ্রামে মাঠ ছাড়েননি। দলের দুঃসময়ে, স্বৈরাচারী সরকারের রক্তচক্ষু উপেক্ষা করে নিয়মিত চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে সরব ছিলেন। আর সেই কারণে বহুবার পুলিশ ও আওয়ামী লীগপন্থী সন্ত্রাসীদের হাতে নির্যাতনের শিকার হন। একপর্যায়ে নিজের জীবন বাঁচাতে প্রবাসে পাড়ি জমান তিনি।
মমিনুল হক ১৯৮৪ সালের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার বাঁশগাড়ি গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার পিতা সামসুল হক একজন মানবিক ও সামাজিক মানুষ। এলাকার সার্বিক উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে নিবেদিতপ্রাণ সামসুল হক। তারই সুযোগ্য সন্তান মমিনুল হক।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে বাঁশগাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের গন্ডি পেরিয়ে হাইস্কুলে পড়াশুনাকালিন সময়েই ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। ছাত্রদলের একজন কর্মী হিসেবে পথচলা শুরু হয়। তারপর ধাপে ধাপে আইয়ুবপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি, পরে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা যুবদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মালয়েশিয়া থাকাকালিন সময়ে জাতীয়তাবাদী দল বিএনপিকে শক্তিশালী করার লক্ষ্যে কাজ করে গেছেন।
শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শকে বুকে ধারণ ও লালন করে পথচলা মমিনুল হক বিগত সময়ে শেখ হাসিনা সরকার বিরোধী আন্দোলনে তার ভূমিকা ছিলো অপরিসীম। বিশেষ করে মালয়েশিয়া প্রবাসীদের নিয়ে শেখ হাসিনা বিরোধী আন্দোলন সংগ্রামে তার ছিল সরব উপস্থিতি। দলের জন্য তিনি প্রচুর অর্থ ব্যয় করেছিলেন। বিএনপির নিবেদিত প্রাণ, অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদী নেতা মমিনুল হক গত ১৭ বছর নানাভাবে নির্যাতিত ছিলেন। বলতে গেলে আওয়ামী সন্ত্রাসীদের কারণে তিনি এলাকায় আসতে পারেননি। তারপরও দলের নীতি ও আদর্শ থেকে বিচ্যুৎ হননি। দলকে ভালবেসে জীবনের বেশীর ভাগ সময় ও অনেক সহায় সম্বল নষ্ট করেছেন। নিজের বাবা মা, ভাই বোনসহ পরিবার পরিজন রেখে অনেক কষ্টে প্রবাসে জীবনযাপন করেছেন।
বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির চরম দুঃসময়ে বলতে গেলে ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনের পর অনেকেই আওয়ামী লীগের সাথে গোপন আঁতাত করে চলেছেন। অথচ তিনি দলকে ভালবেসে জীবনের উপর ঝুঁকি নিয়ে দলকে অর্থনৈতিক সাপোর্ট দিয়েছেন।
আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে একাধিকবার মমিনুল হককে প্রলোভন দেখানো হয়েছিল। কিন্তু তিনি তার নীতিতে অটল ছিলেন। কারণ তার রক্ত-মাংস, অস্থি-মজ্জায় মিশে আছে বিএনপি। শুধু মমিনুল হক নয়, তার পুরো পরিবারই বিএনপির রাজনীতির সাথে জড়িত। আর সেই কারণেই এই পরিবারটি নানাভাবে নির্যাতনের শিকার হয়েছে। আইয়ুবপুর ইউনিয়ন বিএনপিকে শক্তিশালী করতে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার পাশাপাশি বিভিন্ন নেতাকর্মীদের অর্থনৈতিকভাবেও সহযোগিতা করেছেন মমিনুল হক। শুধু আইয়ুবপুর নয়, বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে তিনি সহযোগিতা করেছেন। দেশের বাইরে প্রবাসেও বিএনপির নেতাকর্মীদের পাশে ছিলেন তিনি। দলের প্রতিটি আন্দোলন সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছেন। এককথায় বলতে গেলে বিএনপির রাজনীতিতে একজন পরীক্ষিত নাম মমিনুল হক মমিন।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পূর্বে আইয়ুবপুর ইউনিয়নে বিএনপি কোন সভা সমাবেশ করতে পারেনি। এমনকি ৫ আগস্টের পরেও উল্লেখ করার মতো কোন মিটিং করতে সক্ষম হয়নি। মমিনুল হক মমিন দেশে এসে ৩টি মিটিং করে পুরো ইউনিয়নকে জাগিয়ে তোলেন। বাঞ্ছারামপুর উপজেলা বিএনপির সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে তার গভীর সুসম্পর্ক। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির পক্ষ থেকে গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকিকে সমর্থন দেয়া হয়। দলের দিকনির্দেশনা মোতাবেক জোনায়েদ সাকিকে বিজয়ী করতে মাঠ পর্যায়ে অনন্য ভূমিকা পালন করেন তিনি। সম্প্রতি একটি বিশেষমহল ফেইসবুকসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপপ্রচারে লিপ্ত হয়েছেন। যদিও এসব পাত্তা দেন না তিনি। কারণ এলাকার মানুষ মমিনুল হকের বর্ণাঢ্য রাজনীতি সম্পর্কে অবগত।
রাজনীতিকেই জীবনের ধ্যান জ্ঞান ও ব্রত হিসেবে নেয়া মমিনুল হক মমিন আপাদমস্তক একজন সামাজিক মানবিক মানুষ হিসেবে পরিচিত। আইয়ুবপুর ইউনিয়নের আনাচে কানাচে তার পদচারণা। সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ থেকে শুরু করে বিভিন্ন শ্রেণী পেশার মানুষের সাথে বেশ সখ্যতা রয়েছে। বিশেষ করে তার নিজ ইউনিয়নের প্রতিটি বাড়ি, প্রতিটি ঘর, প্রত্যেক মানুষের সাথে মমিনের হৃদয়ের সম্পর্ক। যেই সম্পর্কের শিকড় বেশ গভীরে। আইয়ুবপুর ইউনিয়নের প্রতিটি মানুষকে মনেপ্রাণে ভালবাসেন তিনি। তারাও তাকে মনেপ্রাণে ভালবাসে। আর সেই কারণেই এখানকার মানুষ তাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখে। যেই স্বপ্নের মধ্যে একটি সুন্দর উন্নত সমৃদ্ধ আইয়ুবপুর ইউনিয়নের বসবাস। হয়তো সেই কারণেই আগামীদিনে আইয়ুবপুর ইউনিয়নবাসী দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্ন বাস্তবায়নে চেয়ারম্যান পদে প্রার্থী হতে পারেন তিনি।
মমিনুল হক মমিন তার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবনে সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, হতাশা-ব্যর্থতা এবং চাওয়া পাওয়াকে খুব কাছ থেকে দেখেছেন। রাজনীতির কারণে অনেককে নিঃস্ব হতে দেখেছেন, একইভাবে রাজনীতির মাধ্যমে লুটপাট করে অনেককে অঢেল অর্থ সম্পদের মালিক হতেও দেখেছেন। সেই সাথে দুঃসময়ে দলের সাথে পল্টি নেয়া নেতা নামধারী বিশ্বাসঘাতকদেরও দেখেছেন। আবার আওয়ামী লীগে পদ না পেয়ে অনেককে বিএনপিতে যোগ দিয়ে নেতা হতেও দেখেছেন। এককথায় বলতে গেলে সেই ৯০ দশক অর্থাৎ এটিএম ওয়ালী আশরাফ থেকে সর্বশেষ ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত আইয়ুবপুর ইউনিয়ন বিএনপি, আওয়ামী লীগ, জাতীয়পার্টি সহ নানা দলের অবস্থান, নেতাকর্মীদের স্বভাব চরিত্র সবকিছুই দেখা ও জানার সুযোগ হয়েছে মমিনের। ফলে এই ইউনিয়নের মাঠ পর্যায়ে রাজনৈতিক জ্ঞানে তিনি বেশ দক্ষ, এতে কোন সন্দেহ নেই। দল, পক্ষ-বিপক্ষ কিংবা প্রতিপক্ষ সবকিছুই মোকাবেলা করে এগিয়ে যাচ্ছেন বিএনপির নিবেদিতপ্রাণ তারুণ্যের অহংকার মমিনুল হক মমিন।
আগামীদিনে একটি সুন্দর আইয়ুবপুর ইউনিয়ন বিনির্মাণের পাশাপাশি দলকে সুসংগঠিত করার দৃঢ় প্রত্যয় নিয়ে এগিয়ে চলছেন তিনি। তাছাড়া পুরো ইউনিয়নকে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির শক্তিশালী ঘাঁটিতে পরিণত করতে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। দলের স্বার্থে ও মানুষের জীবনমানের উন্নয়নে নিজেকে সম্পৃক্ত করা এই রাজনৈতিক নেতা আমৃত্যু মানুষ ও মানবতার কল্যাণে কাজ করে যেতে চান।
রাজনীতির পাশাপাশি শিল্প সাহিত্য ও সংস্কৃতিমনা মানুষ হিসেবে পরিচিত মমিনুল হক মমিন। তিনি ভাল গান গাইতে পারেন। মনির খানের গানগুলো তার বেশ প্রিয়। এখনও সময় পেলে তিনি গানের চর্চা করেন।
মমিনুল হক মমিন আইয়ুবপুর ইউনিয়নবাসীর দোয়া ও সমর্থন কামনা করেন।








































আপনার মতামত লিখুন :