Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৬ মে, ২০২৬, ২ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা মারা গেছেন


দৈনিক পরিবার | স্টাফ রিপোর্টার মে ১৬, ২০২৬, ১২:৩৭ পিএম সাবেক প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা মারা গেছেন

সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মিজানুর রহমান সিনহা মারা গেছেন। শুক্রবার রাত ২টার দিকে সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি ইন্তেকাল করেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন তাঁর মেয়ে একমি গ্রুপের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক তাসনিম সিনহা।
মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান সিনহা বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। একমি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালকও ছিলেন তিনি।
২০২০ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালীন তিনি রাজনীতি ছেড়ে দেয়ার ঘোষণা দেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৫ সালে তিনি মুন্সীগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি মুন্সীগঞ্জ-২ (লৌহজং-টঙ্গীবাড়ি) আসন হতে দলীয় মনোনয়ন পান। পরে অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁর পরিবর্তে বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদকে এ আসনে মনোনয়ন দেয় বিএনপি।
মিজানুর রহমান ১৯৪৩ সালের ১৮ আগস্ট মুন্সীগঞ্জের লৌহজং উপজেলার কলমা ইউনিয়নের ডহরী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার স্থানীয় বাড়ি ‘সিনহা হাউস’ দীর্ঘদিন ধরে দর্শনীয় স্থান হিসেবে উন্মুক্ত। তাঁর বাবার নাম হামিদুর রহমান সিনহা, মায়ের নাম নূরজাহান সিনহা। হামিদুর রহমান সিনহা বাংলাদেশের ওষুধ ব্যবসায়ের অন্যতম পথিকৃৎ ও শিল্পগোষ্ঠী একমি গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা।
তিনি এলাকায় মিজান সিনহা নামে ব্যাপক পরিচিত। শৈশবে কলকাতায় বেড়ে উঠেন। পরে নারায়ণগঞ্জের সরকারি তোলারাম কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক সম্পন্ন করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় স্নাতক সম্পন্ন করেন। ১৯৬৪ সালে মিজান সিনহা হাবিব ব্যাংকে চাকরির মাধ্যমে কর্মজীবন শুরু করেন। তাঁর বাবার মৃত্যুর পর ১৯৭৫ সালে তিনি বাবার প্রতিষ্ঠিত একমি গ্রুপে যোগ দেন। ১৯৮৩ সাল থেকে তিনি গ্রুপটির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
মিজানুর রহমান ছাত্রজীবনে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হন। সরকারি তোলারাম কলেজে পড়াশোনার সময় তিনি ছাত্র ইউনিয়নের প্রার্থী হিসেবে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। ১৯৯০ সালে বিএনপিতে যোগ দেন। পরে দলটির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ হিসেবে ২০২০ সালের ২২ জানুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করেন। তিনি বিএনপির মনোনয়নে মুন্সীগঞ্জ-২ আসন থেকে ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ১৯৯৬ সালের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী নজরুল ইসলাম খান বাদলকে পরাজিত করেন। ২০০১ সালের অস্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের প্রাার্থী সাগুফতা ইয়াসমিন এমিলিকে হারিয়ে পুনরায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। 
রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কাজ ও দানশীলতার জন্যও এলাকায় ব্যাপক পরিচিত ছিলেন মিজানুর রহমান সিনহা। মুন্সীগঞ্জ-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুস সালাম আজাদ, মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান রতন, জেলা বিএনপির সাবেক সদস্য সচিব মো. মহিউদ্দিনসহ বিএনপি নেতাকর্মী ও বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ তাঁর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন।

Side banner