Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪, ১২ আষাঢ় ১৪৩১
ইউপি চেয়ারম্যান বরখাস্ত

আলমডাঙ্গায় প্রেমিক যুগলকে মারধর


দৈনিক পরিবার | চুয়াডাঙ্গা প্রতিনিধি মে ১০, ২০২৪, ১০:৪৪ এএম আলমডাঙ্গায় প্রেমিক যুগলকে মারধর

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গা উপজেলার তিওরবিলা গ্রামের প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়ার অভিযোগ তুলে প্রেমিক যুগলের গলায় জুতার মালা পরিয়ে মারধর ও চাঁদা দাবির ঘটনায় মামলায় খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাফসির আহমেদ মল্লিক লালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৭ মে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউপি শাখা-১ এ সংক্রান্ত আদেশ জারি করে। রাষ্ট্রপতির আদেশক্রমে সিনিয়র সহকারী সচিব আনিসুজ্জামান ওই আদেশে স্বাক্ষর করেন।
বৃহস্পতিবার (৯ মে) রাতে চেয়ারম্যান লালের বরখাস্তের বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে।
স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ ইউপি শাখা ১ এ সংক্রান্ত আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে, যেহেতু খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাফসির আহমেদ মল্লিক লালের বিরুদ্ধে দায়েরকৃত আলমডাঙ্গা থানার মামলা নম্বর ১ (জি. আর ১৫৫/২০২৩), তারিখ: ১২/১০/২০২৩-এর অভিযোগে বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট, আমলী আদালত, চুয়াডাঙ্গা আমলে নেওয়ায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯- এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী জেলা প্রশাসক, চুয়াডাঙ্গা ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সুপারিশ করেন। যেহেতু চুয়াডাঙ্গা জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলাধীন খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাফসির আহমেদ মল্লিক লালের বিরুদ্ধে উল্লেখিত অভিযোগে তার দ্বারা ইউনিয়ন পরিষদের ক্ষমতা প্রয়োগ প্রশাসনিক দৃষ্টিকোণে সমীচীন নয় মর্মে সরকার মনে করে।
সেহেতু, জেলার আলমডাঙ্গা উপজেলাধীন খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাফসির আহমেদ মল্লিক লাল কর্তৃক সংঘটিত অপরাধমূলক কার্যক্রম ইউনিয়ন পরিষদসহ জনস্বার্থের পরিপন্থী বিবেচনায় স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯-এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী উল্লিখিত ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে স্বীয় পদ হতে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।
সে দিনের ঘটনার বর্ণনা দিয়ে স্থানীয়রা জানান, ২০২৩ সালের ২৯ জুলাই উপজেলার খাসকররা ইউনিয়নের তিয়রবিলা গ্রামের এক প্রবাসীর স্ত্রীর সঙ্গে ব্যবসায়ী লালনের পরকীয়ার সম্পর্কের অভিযোগ তুলে সালিশ বৈঠক ডাকেন ইউপি চেয়ারম্যান লাল। অভিযুক্ত লালন সালিশে আসতে না চাইলেও জোরপূর্বক বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে আসা হয়। প্রায় ২ শতাধিক সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে বৈঠক হয়। পরে সালিশের সিদ্ধান্ত মোতাবেক অভিযুক্ত দুজনের কাছ থেকে দেড় লাখ টাকা জরিমানা আদায় এবং তাদেরকে শারীরিক নির্যাতনের পর জুতার মালা পরিয়ে এলাকায় ঘোরান ইউপি চেয়ারম্যান তাফসির আহম্মেদ। এরপর গ্রামের মসজিদে নিয়ে তাদের তওবা পড়ান। এছাড়াও তাদের দুজনকে গ্রাম ছাড়তে নির্দেশ দেন খাসকররা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাফসির আহম্মেদ লাল। পরে ৩১ জুলাই রাতে ইউপি চেয়ারম্যানসহ পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত আরও তিন-চারজনকে আসামি করে আলমডাঙ্গা থানায় একটি মামলা করেন ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী লালন হোসেন। রাতেই ওই মামলার ৩ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। ওই মামলার প্রেক্ষিতে চেয়ারম্যান তাফসির আহমেদ মল্লিক লালকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
আলমডাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী অফিসার স্নিগ্ধা দাস ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

Side banner