ধরনভেদে ত্বকের চাহিদাও ভিন্ন। কারো ত্বক তেলতেলে, কারো শুষ্ক, আবার কারো ক্ষেত্রে একসঙ্গে দুই রকম বৈশিষ্ট্যই দেখা যায়। তাই ত্বকের ধরন না বুঝে প্রসাধনী ব্যবহার শুরু করলে উপকারের বদলে সমস্যা বাড়ে।
শুষ্ক ত্বক
শুষ্ক ত্বকের প্রাকৃতিক তেলের পরিমাণ কম থাকে। ফলে টান টান লাগে, খসখসে হয় বা চুলকানি দেখা দিতে পারে। এ ধরনের ত্বকের জন্য মাইল্ড, ক্রিমি ফেসওয়াশ এবং ভালো ময়েশ্চারাইজার জরুরি। শিয়া বাটার, গ্লিসারিন, সিরামাইড বা হায়ালুরোনিক এসিডযুক্ত পণ্য ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। অ্যালকোহলযুক্ত বা অতিরিক্ত ফোম তৈরি করে এমন ক্লিনজার ড্রাই স্কিনের জন্য ক্ষতিকর।
তৈলাক্ত ত্বক
তৈলাক্ত ত্বকে তেল উৎপাদন বেশি হয়। মুখ দ্রুত তেলতেলে হয়ে ওঠে, ব্রণ বা ব্ল্যাকহেডের প্রবণতাও থাকে। অনেকেই মনে করেন তৈলাক্ত ত্বকে ময়েশ্চারাইজার প্রয়োজন নেই। এটি ভুল ধারণা, বরং জেল বা ওয়াটার-বেইসড, অয়েল-ফ্রি ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করলে ত্বকের ভারসাম্য ঠিক থাকে। জেল-বেইসড বা ফোমিং ফেসওয়াশ উপযোগী হলেও অতিরিক্ত মুখ ধোয়া ত্বককে আরো তেলতেলে করে তুলতে পারে। নিয়াসিনামাইড বা স্যালিসিলিক এসিডযুক্ত সিরাম পরিমিতভাবে ব্যবহার করতে পারেন।
মিশ্র ত্বক
যাদের মিশ্র ত্বক, তাদের সাধারণত কপাল, নাক ও থুতনি তেলতেলে থাকে, আর গাল স্বাভাবিক বা শুষ্ক হয়। এ ধরনের ত্বকের যত্নে ভারসাম্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। খুব তৈলাক্ত বা খুব শুষ্ক দুটি ধরনের পণ্যই এখানে সমস্যা তৈরি করতে পারে। হালকা, দ্রুত শোষিত হয় এমন ময়েশ্চারাইজার এবং ব্যালান্সড ক্লিনজার কম্বিনেশন ত্বকের জন্য বেশি কার্যকর। প্রয়োজনে টি-জোন ও গালের জন্য আলাদা যত্ন নিতে পারেন।
সংবেদনশীল ত্বক
সংবেদনশীল ত্বকে সহজেই লাল হয়ে যায়, জ্বালা করে বা র্যাশ দেখা দেয়। সুগন্ধি, রং বা শক্ত কেমিক্যালযুক্ত পণ্য এই ত্বকের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ। তাই কম উপাদানযুক্ত, ফ্র্যাগরেন্স-ফ্রি পণ্য বেছে নেওয়া জরুরি। নতুন কোনো পণ্য ব্যবহারের আগে প্যাচ টেস্ট করা সেনসিটিভ স্কিনের ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ত্বকের ধরন যা-ই হোক, কিছু বিষয় সবার ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। প্রতিদিন ক্লিনজার দিয়ে মুখ পরিষ্কার করা, নিয়মিত ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং সানস্ক্রিন লাগানো। এই তিনটি ধাপ ত্বকের যত্নের ভিত্তি। পাশাপাশি পর্যাপ্ত পানি পান, পর্যাপ্ত ঘুম ও মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণ ত্বকের স্বাস্থ্যে বড় ভূমিকা রাখে।








































আপনার মতামত লিখুন :