Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১০ ফাল্গুন ১৪৩০

ফরিদপুরে দূর্ষিত ধোঁয়ায় পরিবেশ বিপর্যয়


দৈনিক পরিবার | রমজান মীর মার্চ ১৪, ২০২৩, ১২:০৪ এএম ফরিদপুরে দূর্ষিত ধোঁয়ায় পরিবেশ বিপর্যয়

পাটকাঠি থেকে পুড়িয়ে ছাই তৈরির কারখানা রয়েছে ফরিদপুরের বেশ কটি জায়গায়। শিল্পটি লাভ জনক হলেও বেশিরভাগ মিলেই নিয়ম কানুন মানা হয় না। ফলে সেখানে নির্গত ধোঁয়ায় কষ্ট পায় স্থানীয় বাসিন্দারা। সরেজমিনে পাটকাঠি পোড়ানোর কারখানা ঘুরে দেখা গেছে বাস্তব চিত্র।
স্থানীয় ভাবে ‘পাটখড়ির মিল’ নামে পরিচিত এই কারখানাগুলোর একটির অবস্থান ফরিদপুর জেলার সালথা উপজেলার আটঘর ইউনিয়নের জয়কালি গ্রামে। জয়কালী বাজারের অদূরেই ফসলি জমির পাশে কয়েক একর জায়গা জুড়ে কারখানাটি গড়ে উঠেছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা ও জয়কালি বাজারের ব্যবসায়ীদের সাথে কথা বলে জানা যায়, পুরো শুষ্ক মৌসুম জুড়েই সন্ধ্যার পর ওই পাটখড়ির মিলে পাটকাঠি পোড়ানো শুরু হয়। সেখান থেকে ব্যাপক ধোঁয়ায় পুরো এলাকা আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। গ্রাম ও আশেপাশে ছড়িয়ে পড়া এই ধোঁয়ায় ভোগান্তির শিকার হয় স্থানীয় বাসিন্দারা। তারা এই ধোঁয়ার অত্যাচার থেকে বাঁচতে পরিবেশ সুরক্ষার নিয়ম কানুন মেনে কারখানা চালানোর দাবী জানান। নিয়ম না মানলে সরকার যেন ব্যাবস্থা নেয়, সেই দাবীও তাদের।
জয়কালি বাজারের পল্লী চিকিৎসক পি আর রায় সেন্টু বলেন, এই এলাকায় যে পাটকাঠি পোড়ানোর কারখানা আছে সেখান থেকে প্রচুর ধোঁয়া বের হয়। এই ধোঁয়ায় স্থানীয়দের শ্বাসকষ্ট হয়। এত ধোঁয়া হয় ঘর থেকে বের হতে কষ্ট হয় মানুষের। তিনি বলেন, বিশেষ করে শিশু ও বয়স্ক ব্যক্তিদের ধোঁয়া থেকে রোগ দেখা দেয়। অ্যাজমা ও হৃদরোগী দের জন্য এই ধোঁয়া মারাত্মক ক্ষতিকর।
স্থানীয় কৃষক তফসীর মুসল্লি জানান, এই পাটখড়ি পোড়ানো ধোঁয়ার জন্য আমাদের গ্রামবাসীর অনেক শ্বাসকস্ট হয়। আমার মা একজন অপারেশন করা রোগী। তার এখন অনেক শ্বাসকস্ট বেড়ে গেছে এই ধোঁয়ার কারণে। আমার একটা মাত্র মেয়ে, তারও এই ধোয়ার কারনে শ্বাসকস্ট হয়।
তিনি বলেন, আমি একজন পেঁয়াজের বীজ চাষী। এই ধোঁয়ার কারণে মৌমাছি না আসাতে পেঁয়াজের ফুলে যে পরাগায়ন হয় তা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। সরকারে কাছে আমাদের দাবি, এই ধোঁয়ার হাত থেকে যেন আমরা বাঁচতে পারি।
এলাকার ব্যবসায়ী মাহাবুব আলম বুলবুল বলেন, এইখানে পাটখড়ি পুড়িয়ে ছাই উৎপাদনের যেই মিলটি আছে, তারা সরকারের নীতিমালা মানে না। অদৃশ্য একটা শক্তি আছে, তাদের কারণে তারা এই কর্মকান্ড পরিচালনা করছে। এই কারণে আমাদের শিশু ও বৃদ্ধরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে। তারা যদি সেরকারি নীতিমালা অনুযায়ি লম্বা সরু চোঙ্গটা ব্যবহার করত তাহলে হয়ত আমরা কিছুটা রক্ষা পেতাম। আরো যদি ১০ বছর এইভাবে কারখানাটি চলতে থাকে তাহলে আমরা ধ্বংস হয়ে যবো।   
তবে জয়কালী গ্রামে অবস্থিত বাংলাদেশ হুংলি লিমিটেড নামের ওই পাটকরি পোড়ানোর কারখানার ম্যানেজার আলমগীর হোসেন বলেন, নয় বছর ধরে কারখানাটি চলছে, ডিসেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত এই পাঁচ মাস পাটকাঠি পোড়ানো হয়। এইছাই বিদেশে রপ্তানি হয়। পাটখড়ি বিক্রি করে স্থানীয় পাট চাষিরা লাভবান হন। এলাকাবাসীর সহযোগিতা নিয়েই আমরা এই কারখানা পরিচালনা করে থাকি। একজন চিনা নাগরিক এই কারখানার মালিক। আগে ধোঁয়া আরো বেশি হত, এলাকাবাসীর দাবীর প্রেক্ষিতে এখন আমরা ছয়টি চুল্লি কমিয়ে চারটি করেছি। ধোঁয়া যাতে নিচে না নামে সেজন্য আগামী বছর চিমনির ভেতর ব্লোয়ার লাগানো হবে বলে তিনি জানান। কারখানাটির পরিবেশ অধিদপ্তরের রয়েছে ছাড়পত্র, দাবি করেছেন আলমগীর হোসেন। কিন্তু পরিবেশ বিভাগ বলছে সঠিক নয় তাদের এই দাবি।
ফরিদপুর জেলা পরিবেশ অধিদপ্তরের সহকারি পরিচালক মাহফুজুর রহমান জানালেন, ওই মিলের কোনো ছাড়পত্র নেই। তিনি বলেন, মিল শুরুর পর তারা অবস্থানগত সার্টিফিকেট নিয়েছিলো শুধুমাত্র। পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী অভিযোগ করে। সেই অভিযোগ আমরা ঢাকায় পাঠিয়ে দিয়েছি। অভিযোগের নিষ্পত্তি না হলে ছাড়পত্র দেয়া সম্ভব নয়। এরপর তারা ছাড়পত্রের জন্য আর কোন আবেদনও করেননি আমাদের কাছে।

Side banner