Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা শনিবার, ১৮ মে, ২০২৪, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩১

সাবেক এমপি এটিএম ওয়ালী আশরাফের জন্মদিন পালিত


দৈনিক পরিবার | স্টাফ রিপোর্টার সেপ্টেম্বর ১২, ২০২৩, ১১:২০ পিএম সাবেক এমপি এটিএম ওয়ালী আশরাফের জন্মদিন পালিত

ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৬ (বাঞ্ছারামপুর) আসনের সাবেক এমপি মরহুম এটিএম ওয়ালী আশরাফের ৮৬তম জন্মদিন পালিত হয়েছে। দিনের শুরুতে এটিএম ওয়ালী আশরাফ স্মৃতি সংসদ এর উদ্যোগে জন্মদিন পালন উপলক্ষে শ্রদ্ধাঞ্জলি জ্ঞাপন করা হয়। পরে স্মৃতিচারণ, দোয়া ও মোনাজাত করা হয়। মরহুম এটিএম ওয়ালী আশরাফের একনিষ্ঠ অনুসারী ও ঘনিষ্ঠজন, স্মৃতি সংসদের সভাপতি আব্দুস সাত্তার সরকারের সভাপতিত্বে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও বাঞ্ছারামপুরের কৃতি সন্তান অ্যাডভোকেট কে এম জাবির, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট রফিক সিকদার সহ অন্যান্যরা।
স্মৃতিচারণে বক্তারা বলেন, মরহুম জননেতা এটিএম ওয়ালী আশরাফ ভাই বহুমুখী গুণের অধিকারী ছিলেন। কর্ম ও ভালবাসা দিয়ে হয়ে উঠেছিলেন বাঞ্ছারামপুরের মানুষের হৃদয়ের মনি। তার জীবন দর্শন ও কর্ম আজ অনুসরণীয়। তিনি ছিলেন জাতীয় সংসদ সদস্য, তথ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভাপতি, সাংবাদিক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক এবং বাঞ্ছারামপুর উপজেলার উন্নয়নের রূপকার।
স্মৃতিচারণ করে এ্যাডভোকেট কে এম জাবির বলেন, তখনকার সময় আমি তার রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ বা বিরোধী দলের ভূমিকায় ছিলাম। তারপরও তিনি বাঞ্ছারামপুরের রাস্তাঘাট সহ অন্যান্য উন্নয়ন পরিকল্পনার ক্ষেত্রে আমাদের সাথে পরামর্শ করতেন। রাজনৈতিক বিরোধী পক্ষের প্রতি তার সহনশীলতা ও শ্রদ্ধার গুণ অবশ্যই অনুসরণীয়। আজকের মরিচা ফেরিঘাট থেকে সোনারামপুর দশদোনা বাঞ্ছারামপুর উজানচর হয়ে হোমনার সাথে সংযোগ সড়ক এবং কানাইনগর ফেরিঘাট থেকে আইয়ুবপুর বাঞ্ছারামপুর সলিমাবাদ রূপসদী ফরদাবাদ হয়ে মুরাদনগর সংযোগ সড়কের পরিকল্পনা তিনি করেছিলেন। তিনি সড়ক ও জনপদের তৎকালীন নবীনগরের অফিস সরিয়ে বাঞ্ছারামপুরে স্থাপন করেছিলেন। সে সময় এগুলি মাটির সড়ক ছিল বটে। কালের পরিক্রমায় আজ এগুলি পাকা সড়কে উন্নীত হয়েছে এবং বাঞ্ছারামপুরে জীবন মান উন্নত হয়েছে। আশরাফ ভাই এই চতুর্মুখী সংযোগকে একটি প্লাস সংযোগ হিসেবে বর্ণনা করতেন।
স্মৃতিচারণ করে এ্যাডভোকেট রফিক সিকদার বলেন, আশরাফ ভাইয়ের সাথে আমাদের বহু স্মৃতি যেগুলি আমাদেরকে আজও কাঁদায় এবং উৎসাহিত করে। তিনি বলেছিলেন বাঞ্ছারামপুরে একই বৃন্তে দুটি ফুল একটি হচ্ছে শাজাহান হাওলাদার সুজন এবং অন্যটি রফিক সিকদার। তাদেরকে আগামীদিনে বাঞ্ছারামপুরের সেবক হয়ে ওঠার জন্য সুযোগ করে দিতে হবে। তার সেই ভবিষ্যৎ বাণীতে মরহুম শাহজাহান হাওলাদার সুজন এমপি হয়েছিলেন। তিনি যখন সংসদ সদস্য তখন বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বিএনপি সরকারের "খাদ্যের বিনিময়ে শিক্ষা" কর্মসূচির আওতায় বাঞ্ছারামপুরে একটি স্কুল বরাদ্দ পায়। সুজন চেয়েছিল এটি রূপসদী ইউনিয়নে হোক আর আমি চেয়েছিলাম এটি সলিমাবাদ ইউনিয়নে হোক। তখন আমরা দুজনই ছাত্র নেতা। আশরাফ ভাই আমাদেরকে ডেকে বলেছিলেন তোমরা ছাত্রনেতা, সমাজ পরিচালনায় ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা এতো সহজ নয়, এগুলি ধীরে ধীরে তোমরা শিখতে চেষ্টা করো এবং পরিশেষে তিনি কর্মসূচিটি নিজের ইউনিয়ন ছয়ফুল্লাকান্দিতে না নিয়ে চর এলাকা সোনারামপুর ইউনিয়নে বাস্তবায়ন করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, সোনারামপুর তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে আছে এবং শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্য কর্মসূচি বাস্তবায়িত হলে চরাঞ্চলের মানুষ শিক্ষার আলোয় আলোকিত হবে। এই ছিল তার সামাজিক ন্যায়বিচার ও রাজনৈতিক দূরদর্শিতা।
স্মৃতি সংসদের সভাপতি আব্দুস সাত্তার সরকার বলেন, এটিএম ওয়ালী আশরাফের অন্যান্য গুণের মাঝে শিক্ষার প্রতি অনুরাগ ছিল অত্যন্ত প্রবল। সকল পরিকল্পনার মাঝে শিক্ষা বিষয়ক পরিকল্পনা  ছিল অগ্রাধিকার ভিত্তিক এবং তিনি চাইতেন সমাজের শিক্ষার হার বাড়ুক। তিনি সংসদ সদস্য হওয়ার আগেও এ বিষয়ে মনোযোগী ছিলেন। একদা তৎকালীন বাঞ্ছারামপুর ডিগ্রি কলেজ যা বর্তমানে বাঞ্ছারামপুর সরকারি কলেজে রূপান্তরিত হয়েছে, চরম অর্থ সংকটে পরে এবং কলেজটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। কলেজ কর্তৃপক্ষ তার শরণাপন্ন হলে তিনি কলেজে নগদ ২০ হাজার টাকা অনুদানের ব্যবস্থা করেন। তার তাৎক্ষণিক সহযোগিতায় কলেজ কর্তৃপক্ষের স্বস্তি ফিরে আসে এবং পরবর্তীতে অন্যান্যদের অনুদানে কলেজটি পরিচালনা করতে সহজ হয়। কলেজে রক্ষিত সম্মান বোর্ডে আজও তার নামটি সর্বাগ্রে বা ১ নম্বারে সম্মানের সাথে স্মরণ করা হয়েছে যা আপনারা বর্তমানে কলেজে গেলে দেখতে পাবেন। তিনি আরও বলেন, এটিএম ওয়ালী আশরাফ অত্যন্ত সহজ সরল ও সৎ জীবন যাপন করতেন। তিনি যখন মারা যান তখন ঋণগ্রস্ত ছিলেন। বাঞ্ছারামপুরবাসি তাকে হারিয়ে সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আশরাফ ভাইয়ের মত সাদা মনের মানুষ,  কাদামাটির মানুষের আজ বড়ই প্রয়োজন।
অন্যান্য বক্তাদের মধ্যে সুপ্রিম কোর্টের তরুণ আইনজীবী অ্যাডভোকেট মীর হালিম "গুণী মানুষের কদর" করতে এই স্মৃতি সংসদের উদ্যোগের প্রশংসা করে তার জীবন দর্শন মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ভবিষ্যতে আরও জোরালো ভুমিকা পালন করবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

Side banner