Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা রবিবার, ২৪ মে, ২০২৬, ১০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

বাঞ্ছারামপুর পৌরসভায় গরিবের চাল লুটপাট


দৈনিক পরিবার | স্টাফ রিপোর্টার মে ২৪, ২০২৬, ০৭:০৯ পিএম বাঞ্ছারামপুর পৌরসভায় গরিবের চাল লুটপাট

পবিত্র ঈদ-উল-আযহা ২০২৬ উপলক্ষে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের ভিজিএফ খাদ্যশস্য সহায়তা বিতরণে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভায় ব্যাপক অনিয়ম ও ওজনে কম দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বলতে গেলে গরীবের চাল লুটপাট হয়েছে। পৌরসভার প্রায় ১ হাজার ৫০০ হতদরিদ্র মানুষের মাঝে এ খাদ্য সহায়তা বিতরণ করা হচ্ছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, রবিবার (২৪ মে ২০২৬) সকাল থেকেই উপজেলা অডিটোরিয়ামে চাল বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করছে পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। বিতরণকৃত চালের বস্তা মেপে দেখা যায়, ৩০ কেজি থাকার কথা থাকলেও অনেক বস্তায় রয়েছে মাত্র ২৫, ২৬ কিংবা ২৮ কেজি চাল। প্রায় প্রতিটি বস্তাতেই ২ থেকে ৫ কেজি পর্যন্ত ওজনে কম পাওয়া গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এদিকে সকাল থেকেই শত শত উপকারভোগী নারী দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ১০ কেজি চাল পাওয়ার আশায় অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কিন্তু সরকারি বরাদ্দ অনুযায়ী ১০ কেজি চাল দেওয়ার কথা থাকলেও বাস্তবে কাউকে ৮ কেজি, আবার কাউকে ৯ কেজি করে দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তারা।
ওজনে কম চাল পাওয়ায় উপকারভোগীদের মাঝে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দেয়। অনেকেই অভিযোগ করেন, গরিব মানুষের জন্য সরকারের দেওয়া সহায়তা থেকেও কাটছাঁট করা হচ্ছে।
সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, চাল বিতরণে কোনো নির্ধারিত ওজন পরিমাপের মেশিন ব্যবহার না করে বালতি দিয়ে অনুমাননির্ভরভাবে চাল মেপে বিতরণ করছে পৌর কর্তৃপক্ষ। এতে সঠিক ওজন নিয়ে আরও বেশি প্রশ্ন ও সন্দেহ তৈরি হয়েছে সাধারণ মানুষের মাঝে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন উপকারভোগী ক্ষোভ প্রকাশ করে  বলেন, আমাদেরকে ২ কেজি করে কম দেয়া হচ্ছে ওজনে। গরিবের চাল খেয়ে কি হেরা বড়লোক হইতে পারবো। আমরা গরিব মানুষ এজন্য আমগোরে ঠাকাচ্ছে। তারা আমাগো চাল লুট করেছে। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আরেকজন নারী বলেন, সবাইরে ওই ২কেজি ১কেজি করে কম দিচ্ছে, সকাল ৭ টা, ৮টা বাজে এনে কম দিতাছে। 
এ বিষয়ে দায়িত্বরত পৌরসভার কয়েকজন স্টাফের সঙ্গে কথা হলে তারা বলেন, “প্রতি বস্তায় ৫ কেজি করে চাল কম আসে। এজন্য সবারটা সমন্বয় করে কম দিতে হচ্ছে। আমরা কি ঘর থেকে এনে দিবো?”
দায়িত্বরত ট্যাগ অফিসার মানিক মিয়া বলেন,  প্রতিটি বস্তায়ই কম দেয়া আছে। আমার তো কিছু করার নাই। এসিল্যান্ড স্যার এটার দায়িত্বে ওনি প্রশাসক আমি তো ওনাকে নির্দেশনা দিতে পারি  না। আমি ইউএনও স্যারকে বলেছি এই বিষয়টি। 
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে বাঞ্ছারামপুর পৌরসভার প্রশাসক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মোহাম্মদ রবিউল হাসান ভূইয়াকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।
তবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম বলেন, “বিষয়টি আমি দেখতেছি। খাদ্য কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। বিষয়টি আমি সমাধান করে দিচ্ছি।”
এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ বলেন, “আমার জানা নেই, আমি ইউএনওকে বলতেছি।”
স্থানীয়দের প্রশ্ন, যদি সত্যিই কম ওজনের চাল আসে, তাহলে সেই চাল গ্রহণ করা হলো কেন এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে আগে থেকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি কেন? প্রশাসনের নাকের ডগায় প্রকাশ্যে এমন অনিয়ম চললেও কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে।
স্থানীয়রা বলছে, ঈদের আগে অসহায় ও অতিদরিদ্র মানুষের খাদ্য সহায়তা নিয়েও যদি এমন অনিয়ম ও কাটছাঁট করা হয়, তবে তা অত্যন্ত নিন্দনীয়। তারা অবিলম্বে সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

Side banner