Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা মঙ্গলবার, ২৫ জুন, ২০২৪, ১২ আষাঢ় ১৪৩১
থানায় অভিযোগ দায়ের

ঈশ্বরদীতে বেসরকারি হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু


দৈনিক পরিবার | মো. সজিব হোসেন জুন ৮, ২০২৪, ০৮:৫৬ পিএম ঈশ্বরদীতে বেসরকারি হাসপাতালে নবজাতকের মৃত্যু

পাবনাার ঈশ্বরদীর জমজম নামে বেসরকারি একটি হাসপাতালে ডাক্তারের অনুপস্থিতিতে নরমাল ডেলিভারীর সময় নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (৮ জুন) ভোর চারটায় পৌর এলাকার ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্র সংলগ্ন হাসপাতাল রোডের জমজম স্পেশালাইজড হাসপাতালে এ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। নার্স ও সুইপার মিলে ডেলিভারী করাতে গিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রচন্ড রক্তপাত ও টানা হেচড়াতে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে বলে পিতা জাহিদুর রহমান ও মাতা গর্ভবর্তী জিমুর ননদ আফসানা বেগম সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করেছেন।
এ ঘটনায় নিহত নবজাতকের পিতা জাহিদুর রহমান ঘটনার সুষ্ঠ বিচার দাবিতে ঈশ্বরদী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
থানায় দাখিলকৃত লিখিত অভিযোগে তিনি বলেন, আমার স্ত্রী (সাইদুল রহমানের) গর্ভবতী  জিমু খাতুনের (২০) প্রসববেদনা শুরু হলে গত ৭ জুন রাত ১১টার দিকে জমজম স্পেশালাইজড হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক নাফিসা কবির গর্ভবতীর শারীরিক অবস্থা পরীক্ষা করে সিদ্ধান্ত দেন তিন ঘন্টার মধ্যে স্বাভাবিক ডেলিভারী হবে। চিকিৎসকের এই নিদের্শনা অনুযায়ী এ হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে জিমু খাতুনের প্রসববেদনা তীব্র হলে সাইদুর রহমান চিকিৎসক নাসিফা কবিরকে বারবার ফোন দেন। চিকিৎসক নাসিফা কবির না আসায় হাসপাতালের আয়া পারুল (৩২), সাথি (৩৬) ও  মোঃ রাসেল (৩২) জিমু খাতুনকে অপারেশন থিয়েটারে নিয়ে গিয়ে যৌনাঙ্গের সাইট কেটে মৃত পুত্র সন্তানের প্রসব করায়। মৃত সন্তান প্রসবের পর কাটা স্থানে ১৬টি সেলাই দেয়া হলেও রক্ত বন্ধ হয়নি। প্রচন্ড রক্তক্ষরণে জিমু খাতুন গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
মো. সাইদুর রহমান আরও বলেন, জিমু খাতুনকে চিকিৎসক নাফিসা কবিরের নরমাল ডেলিভারি আশ্বাস অনুযায়ী তার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে জিমুর যখন প্রচন্ড প্রসব বেদনা শুরু হয় তখন ডাঃ নাফিসা কবিরকে বারবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি আসছি বলে সময়ক্ষেপণ করেন। শেষ পর্যন্ত তিনি না আসায় প্রতিষ্ঠানের আয়া ও ঝাড়ুদার পারুল, সাথি  ও মোঃ রাসেলসহ তিনজন মিলে জিমু খাতুনকে নরমাল ডেলিভারির চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়। পরে তারা যৌনাঙ্গের কিছু অংশ কেটে মৃত পুত্র সন্তানের গর্ভপাত ঘটানো হয়। গর্ভপাতের পর জিমু খাতুনের শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে প্রায় ছয় ঘন্টা পর পুলিশসহ বিভিন্ন মানুষের সহযোগিতায় রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
জমজম স্পেশালাইজড হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডাঃ নাফিসা কবির সকল অভিযোগ অস্বীকার করে সাংবাদিকদের বলেন, নরমাল ডেলিভারি সাধারণত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নার্সরা করিয়ে থাকেন। আমার সঙ্গে কথা বলে নার্সরা নরমাল ডেলিভারী করিয়েছেন।
আয়া ও ঝাড়দার দিয়ে নরমাল ডেলিভারি করানো প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ডেলিভারির সময় কোন ঝাড়ুদার বা আয়া ছিল না। যারা ছিল তারা সবাই প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত নার্স।
ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডাক্তার মালেকুলর আফতাব ভূঁইয়া সাংবাদিকদের বলেন, খবর পেয়ে আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষন করেছি। সাথে নবজাতকের ময়না তদন্তের জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করেছি। ডাক্তার শামীমা আক্তারকে প্রধান করে তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি করেছি। তদন্ত কমিটি পর্যবেক্ষন করে রিপোর্ট দাখিল করলেই আইনগত ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।
তিনি আরও বলেন, স্বাস্থ্যকেন্দ্রের নিকটে ক্লিনিক গড়ে তোলার বিষয়সহ নানা অনিয়মের বিষয়ে তিনি ইউএনও মহোদয়কে সাথে নিয়ে মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান।
ঈশ্বরদী থানার তদন্ত কর্মকর্তা এবিএম মনিরুল ইসলাম বলেন, এ ঘটনায় ভুক্তভোগী থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। একই বিষয়ে ঈশ^রদী থানার অফিসার ইনচার্জ রফিকুল ইসলাম জানান, অভিযোগ পেয়েছি তদন্তপূর্বক জোড়ালো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Side banner