সাবেক সমাজসেবক ও ব্যবসায়ী মরহুম আলহাজ্ব রাজা হাজীর পরিবারের সাড়ে ১২ বিঘা মূল্যবান সম্পত্তি প্রতারণার মাধ্যমে আত্মসাতের অভিযোগ তুলেছেন তার স্ত্রী মাহফুজা রশিদ লাকি। মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) দুপুর ১২টায় প্রেসক্লাব পাবনায় আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ তুলে ধরেন।
সংবাদ সম্মেলনে মাহফুজা রশিদ লাকি জানান, ২০১১ সালে রাজা হাজীর মৃত্যু এবং একই বছরে একমাত্র ছেলের সড়ক দুর্ঘটনায় মৃত্যুর পর তিনি চার প্রতিবন্ধী কন্যা সন্তানকে নিয়ে দুঃসহ জীবনযাপন শুরু করেন। পরিবারের দেনা পরিশোধ ও ভরণ-পোষণের জন্য তিনি নিজেই হাল ধরেন এবং বিভিন্ন সময় সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় দেড় কোটি টাকার ঋণ পরিশোধ করেন।
পরবর্তীতে পাবনা শহরের একটি বহুতল মার্কেট নির্মাণ এবং ঢাকায় একটি ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান পরিচালনার উদ্দেশ্যে তিনি ব্যাংক ঋণের জন্য আবেদন করেন। তবে প্রস্তাবিত ৫ কোটি টাকার স্থলে মাত্র ৩ কোটি টাকা ঋণ পান, যা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল হওয়ায় ব্যবসায়িক ক্ষতির মুখে পড়েন এবং এক পর্যায়ে ব্যাংকের ডিফল্ডার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন।
এই সুযোগে হেমায়েতপুরের সাবেক চেয়ারম্যান দবির উদ্দিন খানের ছেলে মশিউর রহমান খান আজাদ তাকে ৬ কোটি টাকা ঋণের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু বাস্তবে মাত্র ৫৯ লাখ টাকার সহযোগিতা দিয়ে প্রায় ৮ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে ১২ বিঘা জমি নিজের নামে রেজিস্ট্রি করিয়ে নেন।
মাহফুজা রশিদ লাকির অভিযোগ, রেজিস্ট্রির দিন তাকে সন্ত্রাসীরা ঘিরে রাখে এবং ভয়ভীতি প্রদর্শন করে জোরপূর্বক দলিলে স্বাক্ষর করানো হয়। পরে তিনি কোনো ঋণ পাননি, বরং জানতে পারেন জমিগুলো বায়নাদারদের কাছে বিক্রি করে প্লট আকারে ভাগ করে দেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, প্রতারক আজাদের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও সফল হননি এবং প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি।
সংবাদ সম্মেলনে মাহফুজা রশিদ লাকি প্রতারকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও আত্মসাৎকৃত সম্পত্তি ফেরত পেতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উল্লেখ্য, সংবাদ সম্মেলনে মাহফুজা রশিদ লাকির পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
আপনার মতামত লিখুন :