Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬, ৭ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩

আইয়ুবপুর স্কুল এখন গরু ছাগলের বাজার


দৈনিক পরিবার | স্টাফ রিপোর্টার মে ২১, ২০২৬, ০১:৪৩ পিএম আইয়ুবপুর স্কুল এখন গরু ছাগলের বাজার

শিক্ষার্থী অভিভাবক ও শিক্ষার্থীনুরাগী সচেতন মহলের অনুরোধ উপেক্ষা করে বিদ্যালয়ের মাঠে গরু ছাগলের বাজার বসিয়েছে প্রশাসন। ঘটনাটি ঘটেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার আইয়ুবপুর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ে। আর সেই কারণে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বেশকিছু শিক্ষক, শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও এলাকার সচেতনমহলে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। বলতে গেলে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসনের এহেন কর্মকাণ্ডে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১২ মে) আসন্ন ঈদুল আযহা ২০২৬ উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দরপত্র বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে ০৫.৪২.১২০৪.০০০.০০০.১৬.০০১.২৫-২৫৯নং স্মারকে দরপত্র আহবান করেন বাঞ্ছারামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তারিকুল ইসলাম। তবে অতীতে সমস্ত রেকর্ড ভেঙ্গে গরু ছাগল বিক্রির উদ্দেশ্যে উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের ৩০টি জায়গা নির্ধারণ করা হয়। গত বছর যেখানে ১৮টি অস্থায়ী গরু ছাগলের বাজার বসানো হয়েছিল। আর সেই কারণে অস্থায়ী পশুর হাট ইজারা দরপত্র বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পরপরই পুরো উপজেলায় কানাঘুষা শুরু হয়। যদিও দরপত্রটি গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত ডিএফপি তালিকাভুক্ত জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে কোন সংবাদপত্রে বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশিত হয়নি।


স্কুলের মাঠে অস্থায়ী গরুর হাট বা পশুর বাজার বসানো সম্পূর্ণ বেআইনি। এটি শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা ব্যাহত করে এবং মলমূত্র ও গোবরের কারণে পরিবেশ দূষণ, দুর্গন্ধ এবং অস্বাস্থ্যকর অবস্থার সৃষ্টি করে। তাছাড়া পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটে। হাটের কোলাহল ও মাইকের শব্দে স্কুলের স্বাভাবিক ক্লাস পরিচালনা অসম্ভব হয়ে পড়ে। শত শত গবাদিপশুর পায়ের আঘাতে মাঠের ঘাস নষ্ট হয় এবং মাটি দেবে গিয়ে এবড়োখেবড়ো হয়ে যায়। হাটের বর্জ্য ও মশা-মাছির উপদ্রব শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ায়। 
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কোনো খেলার মাঠ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বা তার সংলগ্ন এলাকায় অস্থায়ী পশুর হাট বসানোর অনুমতি নেই। অথচ সেই কাজটিই করেছে বাঞ্ছারামপুর উপজেলা প্রশাসন। 
এদিকে বিগত সময়ের অভিজ্ঞতা ও ইজারাদারদের খামখেয়ালীপনা, দায়িত্বে অবহেলাসহ নানাবিধ কারণে আইয়ুবপুর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে গরু ছাগলের বাজার না বসানোর অনুরোধ করে আসছিল একটি মহল। অথচ সরকারের নামেমাত্র রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যে এবং একটি বিশেষ মহলকে সুবিধা দিতেই জনমতকে উপেক্ষা করে স্কুলের মাঠে গরু ছাগলের বাজার বসানোর অনুমতি দিয়েছে প্রশাসন। এ ঘটনায় স্কুলের প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আবদুল ওহাবকে দায়ি করছেন এলাকাবাসী। তিনি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হওয়ার জন্যই স্কুলের মাঠে গরু ছাগলের বাজার বসাতে প্রশাসনকে সহযোগিতা করেছেন। এতে ফুঁসে উঠেছে এলাকার সচেতনমহল। 
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আইয়ুবপুর ক্যাপ্টেন এ বি তাজুল ইসলাম উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর জনৈক শিক্ষার্থী বলেন, স্কুলের মাঠে গরু ছাগলের বাজার বসিয়ে পুরো পরিবেশটা নষ্ট করা হয়। আমাদের পড়াশুনা ও খেলাধূলায় মারাত্মক ক্ষতি হয়।
ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন স্কুলের জনৈক শিক্ষক। তিনি বলেন, আমরা বরাবরই এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে গরুর বাজার বসাতে বারণ করে আসছি। কিন্তু কোন কাজ হয় না। কোরবানির বাজারের পর ঈদের ছুটি শেষ হয়ে গেলেও মাঠ থেকে দুর্গন্ধ সরে না। পোকামাকড়, মশা-মাছি বেড়ে যায়। এগুলো পরিষ্কার করার চেষ্টা করা হলেও কোনো লাভ হয় না। ইজারাদাররা নিজ খরচে কখনও এসব পরিস্কার করে না। বলতে গেলে ইজারাদারদের খুঁজেই পাওয়া যায় না। 

Side banner