Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬, ২৮ ফাল্গুন ১৪৩২

তালতলীর উদ্যোক্তা শাহ ফিরোজের বড়ই চাষে চমক


দৈনিক পরিবার | কাওসার হামিদ জানুয়ারি ৭, ২০২৬, ০৪:৪১ পিএম তালতলীর উদ্যোক্তা শাহ ফিরোজের বড়ই চাষে চমক

বরগুনার তালতলীতে তরুণ উদ্যোক্তা শাহ ফিরোজের বড়ই চাষে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিয়েছেন। মাত্র তিন লাখ টাকার প্রাথমিক বিনিয়োগে গড়ে ওঠা তার আধুনিক বড়ই বাগান থেকে এ মৌসুমে প্রায় ১০ লাখ টাকা আয় হবে বলে আশা করছেন তিনি। ইতোমধ্যে বাগান থেকে দশ মনের বেশি বড়ই বিক্রি হওয়ায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা সৃষ্টি হয়েছে।
জানা যায়, উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া গ্রামের তরুণ উদ্যোক্তা শাহ ফিরোজ গত বছর ফরিদপুর থেকে উচ্চমানের চার প্রকার বড়ইয়ের চারা এনে বাগানটি গড়ে তোলেন। এর মধ্যে রয়েছে জনপ্রিয় বল সুন্দরী, আপেল বড়ইসহ আরও দুটি উন্নত জাত। চারা রোপণের পর তিনি আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, ড্রিপ সেচ, জৈব সার, কীটনাশক ব্যবস্থাপনা ও নিয়মিত পরিচর্যার মাধ্যমে বাগানটিকে পরিপূর্ণ রূপ দেন।


ফিরোজ মিয়া জানান, বিভিন্নভাবে ঋণ নিয়ে তিন লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলাম। শুরুতে ঝুঁকি ছিল, কিন্তু এখন গাছভর্তি বড়ই দেখে আর বিক্রি শুরু হওয়ায় আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। ইতোমধ্যে দশ মন বিক্রি হয়েছে, সামনে আরও বেশ কিছু বড়ই বাজারে যাবে।
এদিকে স্থানীয় বাজারে বড়ইয়ের চাহিদা বাড়তে থাকায় বরগুনা, পিরোজপুর, বরিশাল, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন জেলার পাইকাররা নিয়মিত তার বাগানে যোগাযোগ করছেন। জাতভেদে প্রতিকেজি ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা দরে বড়ই বিক্রি হচ্ছে।
ফিরোজ মিয়ার সফলতার গল্প এখন আশপাশে অনুপ্রেরণা তৈরি করেছে। অনেক যুবক তার বাগান পরিদর্শন করতে আসছেন এবং বড়ই চাষে আগ্রহ প্রকাশ করছেন।তবে সচেতন মহলের ধারনা সরকারি সহায়তা ও আধুনিক পদ্ধতির ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে তালতলী উপজেলায় বড়ই চাষ নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনার খাত হিসেবে বিকশিত হতে পারে।
একই ইউনিয়নের মাহমুদুল হাসান বলেন, ফিরোজ মিয়ার সফল বড়ই বাগান দেখে নিজেই কৃষি উদ্যোগে ঝুঁকি নেওয়ার সাহস পেয়েছেন। ফিরোজ ভাইয়ের বাগান দেখেই আমি অনেক অনুপ্রাণিত হয়েছি। তার পরিশ্রম, ধৈর্য ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার আমাকে উদ্বুদ্ধ করেছে। আমি তার সাফল্যকে মডেল ধরে নিজেই বড়ই চাষ শুরু করছি। আশা করি, আমি তার মতো সফল হতে পারব। এটা আমার জীবনে এক নতুন অভিজ্ঞতা এবং বড়ই চাষ আমাকে কৃষিতে নতুন সম্ভাবনার পথ দেখাচ্ছে। ফিরে তাকালে মনে হয়, যদি সঠিক পরিকল্পনা ও যত্ন দেওয়া হয়, তাহলে ছোট একটি উদ্যোগও বড় সাফল্যে পরিণত হতে পারে।
মাহমুদুল আরও জানান, তিনি স্থানীয় কৃষি অফিসের পরামর্শ অনুযায়ী বাগান সাজাচ্ছেন, উন্নত জাতের চারা ব্যবহার করছেন এবং বাজারজাতকরণ নিয়ে ইতিমধ্যে কিছু পরিকল্পনা করছেন। 
উপজেলা কৃষি অফিসার আবু জাফর মো. ইলিয়াস বলেন, নলবুনিয়া এলাকার মাটি বড়ই চাষের জন্য খুবই উপযোগী। ফিরোজ মিয়া আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করায় তার বাগানের ফলন বেশ ভালো হয়েছে। আমরা তাকে কারিগরি সহায়তা দিচ্ছি। তার সফলতা এলাকায় আরও তরুণকে কৃষিতে যুক্ত হতে উৎসাহিত করবে।

Side banner