জানাশোনা ও ঘনিষ্ঠতার পর দুই ঠিকাদার বন্ধু একসাথে ব্যবসায় পুঁজি বিনিয়োগ করেছিলেন। সুযোগ বুঝে সহজ সরল ঠিকাদার বন্ধুটিকে ঠকিয়ে তার ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠে।
চলতি মাসের সোমবার (২০ এপ্রিল) ব্রাহ্মণবাড়িয়া সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে পেনাল কোডের ৪০৬/৪২০/১০৯ ধারায় কাউতলী এলাকার মৃত মালু মিয়ার পুত্র মোস্তফা কামাল (৫৩) ও মোস্তফা কামালের পুত্র রাসেদ খান উৎসব (২৩) এর নামে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ক্ষতিগ্রস্ত ঠিকাদার ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ভাদুঘরের মৃত আনু মিয়ার পুত্র মো. আলমগীর। আদালত অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্ত করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর সার্কেলকে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
অভিযোগে বিবাদী উল্লেখ করেন, পূর্বে জানাশোনার সূত্রে একসাথে দুজনে ব্যবসা শুরু করে নাসিরনগরে একটি জায়গা, মাধবপুর মডেল মসজিদ ও আখাউড়ায় ২টি ব্রীজের জন্য বিনিয়োগ করেন। এর মধ্যে ২০২২ সালের পহেলা জুন থেকে ২০২৩ সনের নভেম্বরের ২ তারিখ পর্যন্ত বিভিন্ন তারিখে বাদী আলমগীর সর্বমোট ২ কোটি ৮১ লাখ টাকা বিবাদী মোস্তফা কামালের হাতে দেন।
পরবর্তীতে ২০২৫ সনের ২৫শে জুন বাদী-বিবাদীগণ চূড়ান্ত হিসাব করেন। হিসাব-নিকাশ শেষে ২৫ শতাংশ শেয়ারের হিসাবে বিবাদীর নিকট ২ কোটি ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা লভ্যাংশ পাওনা হন বাদী।
বিনিয়োগ ও লভ্যাংশ মিলিয়ে বাদী বিবাদীর নিকট পাওনা হন ৪ কোটি ৮৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা। এর মধ্যে কোনো টাকা-পয়সা না দিয়ে ওইদিনই বাদী ২ কোটি ৮০ লাখ টাকা পাওনা মর্মে বিবাদী তার নিজের প্রতিষ্ঠানের প্যাডে উল্লেখ করে স্বাক্ষর করে দেন। বাকি ২ কোটি ২৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা দেওয়া বা এর সমর্থনে কোনো কাগজপত্র না দিয়ে কালক্ষেপণ করতে থাকে।
ইতোমধ্যে কয়েকবার তারিখ দিয়েও বিবাদী টাকা পরিশোধ করেনি বা কোন কাগজপত্রও দেয়নি। উল্টো বাদীর নিকট থাকা তার স্বাক্ষরযুক্ত প্যাড হস্তগত করতে বিবাদীদ্বয়ের নানা পরিকল্পনা ও ষড়যন্ত্রে কোনঠাসা হয়ে মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হন বাদী আলমগীর।
বিবাদী মোস্তফা কামালের সাথে এ বিষয়ে কথা বলতে বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে না পাওয়ায় তার বক্তব্য গ্রহণ করা যায়নি।








































আপনার মতামত লিখুন :