জাপানে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের উদ্যোগে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানকে এক বর্ণাঢ্য নাগরিক সংবর্ধনা প্রদান করা হয়েছে। প্রবাসের মাটিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশীর স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত ও তাৎপর্যমণ্ডিত করে তোলে।
সোমবার (৪ মে, ২০২৬) বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে টোকিওর কামিনাকাযাতোস্থ তাকিনোগাওয়া হলে ইসলামিক মিশন জাপানের আয়োজনে এ সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সংসদের মাননীয় বিরোধীদলীয় নেতা ও আমীরে জামায়াত ডা. শফিকুর রহমান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি এবং আমীরে জামায়াতের পররাষ্ট্র বিষয়ক উপদেষ্টা ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সভাপতি হাফেজ মাওলানা সাবের আহমদ।

ইসলামিক মিশন জাপানের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি জেনারেল ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল্লাহ আল মারুফের সঞ্চালনায় পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা করা হয়। এরপর প্রবাসী শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণে বাংলা, আরবি ও জাপানিজ ভাষায় মনোমুগ্ধকর সাংস্কৃতিক পরিবেশনা পরিবেশিত হয়, যা উপস্থিত দর্শকদের মুগ্ধ করে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি দুর্নীতিমুক্ত, সুশাসনভিত্তিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার লক্ষ্যে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে তাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, “’৪৭, ’৭১, ’২৪ প্রতিটি অধ্যায়ে বাংলাদেশের সন্তানেরা রক্ত দিয়েছেন। সেই আত্মত্যাগের প্রতি আমাদের দায় একটাই একটি দুর্নীতিমুক্ত রাষ্ট্র গড়ে তোলা।”
শহীদদের স্মরণ করে তিনি আরও বলেন, দেশের ইতিহাসে যাঁরা আত্মত্যাগ করেছেন, তাঁদের সবার অবদান সমানভাবে স্মরণ রাখতে হবে এবং জুলাই বিপ্লবের সময়ে হাসিনাসহ সকল অপরাধীর বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
প্রবাসীদের উদ্দেশ্যে তিনি দুটি গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরেন। প্রথমত, জ্ঞান ও দক্ষতার ক্ষেত্রে নিজেদের উন্নত করে দেশের অগ্রগতিতে অবদান রাখা এবং দ্বিতীয়ত, রেমিট্যান্সের মাধ্যমে দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করা। তিনি বলেন, “বিদেশে উচ্চশিক্ষা অর্জন করে দেশে ফিরে কিংবা প্রবাসে থেকেই বাংলাদেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে হবে।”
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রবাসীদের ৬৫% ভোটার জামায়াতকে ভোট প্রদানের জন্য কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বলেন, “আপনাদের আস্থা আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। আমরা সংসদে ও রাজপথে আপনাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাবো।” একইসঙ্গে তিনি দৃঢ়ভাবে উল্লেখ করেন, জোট থেকে যে ৭৭ জন ব্যক্তিকে আপনারা নির্বাচিত করে সংসদে পাঠিয়েছেন, আমরা সেই ৭৭ জন হলাম জনগণের দারোয়ান—আমরা দেশের আর দুর্নীতি হতে দেব না।
জাপানে বসবাসরত বাংলাদেশীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্যে তিনি বলেন, জাপানের আইন-কানুন মেনে চলা এবং জাপানি জনগণের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা প্রতিটি প্রবাসীর দায়িত্ব। তিনি সতর্ক করে বলেন, দূর প্রবাসে এসে নিজেদের শিকড় ভুলে গেলে চলবে না। আমাদের সন্তানদের মাঝেও বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও মূল্যবোধ জাগ্রত রাখতে হবে।
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সাইফুল আলম খান মিলন এমপি বলেন, প্রবাসী বাংলাদেশীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এই সংবর্ধনাকে অর্থবহ করে তুলেছে। তিনি আশ্বাস দেন, প্রবাসীদের অধিকার রক্ষা এবং তাদের প্রত্যাশা বাস্তবায়নে বিরোধীদল হিসেবে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ অতিথি ব্যারিস্টার মীর আহমাদ বিন কাসেম আরমান এমপি বলেন, “জুলাইয়ের গণআন্দোলন বাংলাদেশকে একটি নতুন ধারায় নিয়ে গেছে। এই অগ্রযাত্রা সফল করতে দেশে-বিদেশে সকল বাংলাদেশীর সম্মিলিত অংশগ্রহণ প্রয়োজন।” তিনি প্রবাসীদের সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন প্রবাসী বাংলাদেশী কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, ব্যবসায়ী প্রতিনিধি এটিএম মিছবাহুল কবির চৌধুরী, আব্দুল মালেকসহ অনেকে।
সভাপতির সমাপনী বক্তব্যে মাওলানা সাবের আহমদ বলেন, জাপানে অবস্থানরত বাংলাদেশীদের মধ্যে পারস্পরিক যোগাযোগ ও ঐক্য আরও জোরদার করতে হবে। একইসঙ্গে জাপানি সমাজে বাংলাদেশের সঠিক ও ইতিবাচক ভাবমূর্তি তুলে ধরার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। তিনি সকলকে দল-মত নির্বিশেষে বাংলাদেশী পরিচয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আহ্বান জানান।








































আপনার মতামত লিখুন :