Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা বুধবার, ১১ মার্চ, ২০২৬, ২৬ ফাল্গুন ১৪৩২

‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে দলের অবস্থান জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


দৈনিক পরিবার | নিজস্ব প্রতিবেদক মার্চ ১১, ২০২৬, ০২:৫৮ এএম ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে দলের অবস্থান জানালেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান নানামুখী বিতর্কের অবসান ঘটিয়ে নিজের দলের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি শব্দ ও অক্ষর বিএনপি অন্তরে ধারণ করে এবং এর পূর্ণ বাস্তবায়নে দলটি অঙ্গীকারবদ্ধ। 
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির শহীদ শফিউর রহমান মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিলে তিনি এসব কথা বলেন। 
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই বিপ্লবের চেতনা ও এই জাতীয় সনদে বর্ণিত লক্ষ্যসমূহ বিএনপির দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সংগ্রামেরই প্রতিফলন। ফলে এই সনদ নিয়ে বিভ্রান্তির কোনো অবকাশ নেই।
এসময় তিনি আরও বলেন,  দেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে সরকার গঠন থেকে শুরু করে সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম সংবিধানের আলোকেই পরিচালিত হচ্ছে । আমরা সংবিধান মেনেই এ পর্যন্ত এসেছি, সংবিধান মেনে চলছি এবং সামনেও সংবিধান মেনে চলার আকাঙ্ক্ষা রাখি।
‘গণতন্ত্র, আইনের শাসন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় বর্তমান সরকারের প্রতি আইনজীবীদের প্রত্যাশা’ শীর্ষক এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। সভায় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও আইনি প্রক্রিয়া নিয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা প্রদান করেন। বিশেষ করে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন এবং শপথ গ্রহণ প্রক্রিয়া নিয়ে সৃষ্ট আলোচনার প্রেক্ষিতে তিনি সরকারের অবস্থান পরিষ্কার করেন। 
গণভোটের রায়ের বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যদি আমরা গণভোটের রায়কে যথাযথ সম্মান দিতে চাই, তবে অবশ্যই জাতীয় সংসদে যেতে হবে। সেখানে আলাপ-আলোচনা ও প্রয়োজনীয় আইন প্রণয়নের মাধ্যমে তা সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। 
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্যদের শপথ নেওয়ার বিষয়টি সংসদেই নির্ধারিত হতে হবে এবং কোন ফর্মে শপথ হবে তা সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে আনতে হবে। কে শপথ পাঠ করাবেন তাও বিধিসম্মতভাবে নির্ধারিত হতে হবে।
জবরদস্তিমূলক শপথ গ্রহণ নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে মন্ত্রী বলেন, যাদের জবরদস্তিমূলক শপথ পড়ানো হলো কিংবা যিনি পড়ালেন, তা সংবিধানসম্মত হয়েছে কি না, সেটি দেখার দায়িত্ব সুপ্রিম কোর্টের। কারণ বিচারপতিরা সংবিধান সুরক্ষার শপথ নিয়েছেন।
সালাহউদ্দিন আহমদ গণঅভ্যুত্থানের অভিপ্রায় নিয়ে চলমান বিতর্কের জবাব দিতে গিয়ে প্রশ্ন তোলেন—যদি অভিপ্রায়ই সবকিছুর ভিত্তি হয়, তবে সংবিধানের ১০৬ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হতে হলো কেন? 
তিনি বলেন, অভিপ্রায়ের ভিত্তিতেই যদি সব হতো, তবে প্রধান উপদেষ্টাসহ অন্যান্য উপদেষ্টারা কেন অনুচ্ছেদ ১০৬ অনুযায়ী শপথ নিলেন? শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর তিন মাসের মধ্যে নির্বাচন হওয়ার কথা থাকলেও কেন তা হলো না?
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ওই বিশেষ পরিস্থিতিতে ‘ডকট্রিন অব নেসেসিটি’ বা প্রয়োজনীয়তার নীতি মেনেই সুপ্রিম কোর্টের কাছে যেতে হয়েছে। সেই এক্সেপশনাল পজিশন বা ব্যতিক্রমী পরিস্থিতির আইনি বৈধতার জন্যই ১০৬ অনুচ্ছেদের আশ্রয় নেওয়া হয়েছিল। 

Side banner