Daily Poribar
Bongosoft Ltd.
ঢাকা সোমবার, ২৩ মার্চ, ২০২৬, ৯ চৈত্র ১৪৩২

তেলের সংকটে থমকে পর্যটন, খাগড়াছড়ি-সাজেক ভ্রমণে ভোগান্তি


দৈনিক পরিবার | স্টাফ রিপোর্টার মার্চ ২৩, ২০২৬, ০৬:১৮ পিএম তেলের সংকটে থমকে পর্যটন, খাগড়াছড়ি-সাজেক ভ্রমণে ভোগান্তি

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিকে কেন্দ্র করে পার্বত্য জেলা খাগড়াছড়ি ও সাজেক ভ্যালির পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে পর্যটকদের ঢল নেমেছে। পাহাড়, মেঘ আর প্রকৃতির টানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ছুটে আসা ভ্রমণপিপাসুদের উপস্থিতিতে মুখর হয়ে উঠেছে এলাকা। তবে এই আনন্দমুখর পরিবেশে ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে জ্বালানি তেলের অপ্রতুলতা।
বিশেষ করে ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলে আগত পর্যটকদের একটি বড় অংশ খাগড়াছড়িতে এসে অকটেন বা পেট্রোল না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। অনেকেই বাধ্য হয়ে সাজেক যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল কিংবা সংক্ষিপ্ত করতে বাধ্য হচ্ছেন।
আলুটিলা পর্যটনকেন্দ্রে ঘুরতে আসা কয়েকজন পর্যটক জানান, জেলার একাধিক ফিলিং স্টেশনে খোঁজ নিয়েও তারা প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারেননি।
খাগড়াছড়ি-সাজেক পরিবহন কাউন্টারের লাইনম্যান মো. আরিফ জানান, পেট্রোল পাম্পগুলো নির্দিষ্ট পরিমাণে ডিজেল সরবরাহ করছে, যা দিয়ে সাজেক যাওয়া-আসা সম্ভব নয়। তিনি বলেন, আগের মজুদ তেল দিয়ে এখনো কিছু গাড়ি চলাচল করছে। তবে আজ থেকে সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে ডিজেলচালিত যানবাহনেও সংকট দেখা দিতে পারে। আজ পর্যাপ্ত তেল না থাকায় অন্তত পাঁচটি গাড়ি যাত্রা বাতিল করেছে বলেও জানান তিনি।
জেলার প্রধান ফিলিং স্টেশনগুলোতে গিয়ে দেখা যায়, ‘অকটেন নেই’ ও ‘পেট্রোল নেই’ লেখা ফ্যাস্টুন টানানো রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, মজুদ তেল ফিল্টার লাইনের নিচে নেমে যাওয়ায় আপাতত সরবরাহ বন্ধ রাখা হয়েছে। পাশাপাশি ইউনিয়ন পর্যায়ের অধিকাংশ তেল বিক্রয়কেন্দ্রও বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয় মোটরসাইকেল চালক মফিজুর রহমান বলেন, অকটেন সংকটের কারণে এখন মোটরসাইকেল চালানোই বন্ধ রেখেছি। ঈদের আগে সীমিত পরিমাণে পাওয়া গেলেও এখন বেশিরভাগ দোকান বন্ধ। কিছু অসাধু লোক আগেই মজুদ করা অকটেন কৌশলে বেশি দামে বিক্রি করছেন।
কেসি ফিলিং স্টেশনের ব্যবস্থাপক প্রবীর কুমার দাশ জানান, শনিবার দুপুরের পর থেকেই তাদের স্টেশনে অকটেন শেষ হয়ে গেছে। ডিপো থেকে সরবরাহ বন্ধ থাকায় নতুন করে জ্বালানি আনা সম্ভব হয়নি। তবে আজ সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।
এদিকে, জ্বালানি সংকটে শুধু পর্যটকরাই নয়, ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারাও। নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে ব্যবহৃত যানবাহনের জন্য জ্বালানি না পেয়ে দুর্ভোগ বাড়ছে। খাগড়াছড়ি শহরের বিভিন্ন পেট্রোল পাম্পে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় পুলিশের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
খাগড়াছড়ি সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কায় কিসলু বলেন, পেট্রোল পাম্পগুলোতে অতিরিক্ত ভিড় হচ্ছে। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।
তবে জেলা প্রশাসক আনোয়ার সাদাত জানিয়েছেন, জেলায় তেলের কোনো স্থায়ী সংকট নেই। তিনি বলেন, ঈদ উপলক্ষ্যে হঠাৎ যানবাহনের সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় জ্বালানির চাহিদা বৃদ্ধি পেয়েছে। একারণে কিছু স্টেশনে সাময়িক চাপ তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, খাগড়াছড়িতে স্বাভাবিক সময়ে দৈনিক ২৫ থেকে ৩০ হাজার লিটার জ্বালানির চাহিদা থাকলেও ঈদের মতো ছুটিতে এই চাহিদা আরও বেড়ে যায়। দ্রুত সরবরাহ স্বাভাবিক না হলে পর্যটন খাত ও স্থানীয় জীবনযাত্রায় এর নেতিবাচক প্রভাব আরও বাড়তে পারে।

Side banner