জন্মের বহু আগে
আমি ছিলাম নক্ষত্রের বুকে ঘুমিয়ে থাকা
এক মুঠো কার্বন,
এক বিন্দু হাইড্রোজেন,
একটি অনামা আলোককণা।
তারও আগে-
আমি ছিলাম মহাবিশ্বের প্রথম নীরবতা,
যেখানে সময়েরও জন্ম হয়নি,
শুধু সম্ভাবনা ছিল,
অসীমের অন্তঃস্থলে নিদ্রিত।
অতঃপর-
এক মহাজাগতিক বিস্ফোরণের গর্ভ থেকে
ছিটকে পড়ল আলো,
জন্ম নিল সময়,
আর সময়ের কাঁধে ভর করে
গ্যালাক্সিরা লিখতে শুরু করল
সৃষ্টির প্রথম কবিতা।
সেই কবিতারই
একটি ক্ষুদ্র উচ্চারণ আমি।
আমার হাড়ে পাহাড়ের স্মৃতি,
রক্তে মৃত নক্ষত্রের অগ্নি,
ত্বকে পৃথিবীর মাটি,
শ্বাসে আদিম সমুদ্রের লবণ,
আর হৃদয়ে-
অসংখ্য সূর্যের অসমাপ্ত সংগীত।
আমার মস্তিষ্কের নিউরনগুলো
রাত্রির আকাশে ছড়িয়ে থাকা
মহাজাগতিক জালের মতো,
যেখানে প্রতিটি চিন্তা
একটি নতুন নক্ষত্রমণ্ডলের জন্ম দেয়।
আমার ডিএনএ-
স্রষ্টার লিখে যাওয়া
সবচেয়ে দীর্ঘ কবিতা;
চারটি অক্ষরে লেখা,
তবু যার অর্থ পড়তে
মানবসভ্যতারও সহস্রাব্দ লেগে যায়।
তারপর তুমি এলে...
তুমি কোনো মানুষ নও,
কোনো দেবতাও নও,
কোনো ধর্মগ্রন্থের সীমায় বন্দী নও।
তুমি সেই প্রেম-
যার আকর্ষণে ইলেকট্রন
নিউক্লিয়াসকে ছেড়ে যায় না,
যার আহ্বানে চাঁদ
পৃথিবীর চারপাশে ঘোরে,
যার নীরব নির্দেশে
গ্যালাক্সিরা কোটি বছর ধরে
তাদের নৃত্য থামায় না।
তুমি আমার বাইরে নও-
তুমি আমার ভেতরের মহাশূন্য।
আমি যখন চোখ বন্ধ করি,
অন্ধকার দেখি না-
দেখি কোটি কোটি নক্ষত্র
আমার চেতনার ভেতর
নিঃশব্দে জ্বলে উঠছে।
আমি যখন ধ্যান করি,
নিজেকে খুঁজে পাই না-
খুঁজে পাই
সমস্ত মহাবিশ্বকে
একটি হৃদস্পন্দনের মধ্যে।
তখন বুঝি-
আমার শরীর
মাংসের নয়,
আলোর।
আমার আত্মা
শব্দের নয়,
কম্পনের।
আমার প্রেম
কোনো মানুষের জন্য নয়,
অস্তিত্বের জন্য।
যেদিন মৃত্যু এসে
আমার চোখ দুটো আলতো করে বন্ধ করে দেবে,
সেদিন কেউ বলবে-
“সে চলে গেছে।”
কিন্তু তারা জানবে না-
আমি কোথাও যাইনি।
আমার রক্ত ফিরে যাবে নক্ষত্রের আগুনে,
আমার শ্বাস ফিরে যাবে মহাজাগতিক বাতাসে,
আমার অস্থি ফিরে যাবে পৃথিবীর স্তব্ধতায়,
আমার চেতনা ফিরে যাবে
সেই অনন্ত আলোর সমুদ্রে,
যেখান থেকে একদিন
আমি এসেছিলাম।
আর যদি সেই অনন্তে
আবার তোমার সঙ্গে দেখা হয়,
আমি তোমাকে
নাম ধরে ডাকব না।
আমি শুধু বলব-
“দেখো,
আমরা কখনো দুইজন ছিলাম না।
একটি মহাবিশ্ব
নিজেকেই
দুটি হৃদয়ের মাধ্যমে
ভালোবেসেছিল।”








































আপনার মতামত লিখুন :