জাতীয় সংসদে প্রবেশের সময় পীরজাদা সাইদ উদ্দিন আহমাদ হানজালাকে পেছন থেকে ‘জঙ্গি এমপি’ সম্বোধনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে সানাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। এই ‘জঙ্গি এমপি’ সম্বোধনে এবার সংসদ অধিবেশনে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মাদারীপুর-১ আসনের এ সংসদ সদস্য।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনের জনগুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন পর্বে দাঁড়িয়ে স্পিকারের কাছে ঘটনার তদন্ত দাবি করেছেন তিনি।
হানজালা বলেন, ‘সম্ভবত আমার পোশাক, আমার পাগড়ি- এসবের কারণেই আমাকে জঙ্গি শুনতে হয়েছে।’
সংসদ ভবন এলাকার ভেতর একজন সংসদ সদস্যকে এভাবে ‘জঙ্গি এমপি’ সম্বোধন বিষয়ে সিসি ক্যামেরা দেখে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পরে স্পিকার এ বিষয়ে এমপি হানজালাকে নোটিশ দেওয়ার পরামর্শ দেন।
একই সময় সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানাও অভিযোগ করেন, আমাকেসহ নারী এমপিদের বিরুদ্ধে কুৎসিত বক্তব্য দেওয়া হয়েছে, তার প্রতিকার চাই।
এর আগে, বুধবার (১ এপ্রিল) এমপি হানজালাকে ‘জঙ্গি’ বলে কটাক্ষকরীকে দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানান বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি সুলতান মহিউদ্দিন।
গণমাধ্যমে দেয়া এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, জাতীয় সংসদ এলাকায়ও যদি একজন জনপ্রতিনিধির জান, মাল ও সম্মানের নিরাপত্তা না থাকে তাহলে দেশের সাধারণ জনগণের অবস্থা কি হবে? সেনাবাহিনীর সামনে একজন জনপ্রতিনিধি আলেমকে এভাবে কটাক্ষ করা চরম ধৃষ্টতা এবং একজন এমপির সম্মানের উপর আঘাত ও জানের নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।
তার মতে, ‘এ ধরনের ধৃষ্টতা সরাসরি রাজনৈতিক ও আদর্শিক বিদ্বেষের বহিঃপ্রকাশ। কোন প্রমাণ ছাড়া সরকার নিয়োজিত নিরাপত্তা বাহিনীর সামনে একজন জনপ্রতিনিধি আলেমকে কিভাবে জঙ্গি বলে তা দেশবাসী জানতে চায়। এভাবে দাড়ি-টুপি দেখলেই ‘জঙ্গি’ তকমা লাগানো আলেম সমাজের অস্তিত্বের উপর আঘাত।’
বিবৃতিতে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের এ নেতা আরও বলেন, সর্বজন শ্রদ্ধেয় আলেম হাজী শরিয়তুল্লাহ রহ. এর উত্তরসূরি মাওলানা হানজালাকে জঙ্গি তকমা দিয়ে অপরাধী গোটা আলেম সমাজকে অপমানিত করেছে। সরকারের উচিত ঘটনাস্থলে নিরাপত্তায় নিয়োজিত বাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে কটাক্ষকারী ব্যক্তিকে দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করা। অন্যথায়, সারাদেশের ইসলাম প্রিয় জনতা এর প্রতিবাদে আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।








































আপনার মতামত লিখুন :